অধ্যায় ৪ঃ অংশীদারি ব্যবসায়

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ৪ঃ অংশীদারি ব্যবসায়

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ অংশীদারি ব্যবাসায় কি , বৈশিষ্ট্য , ব্যবসায়ের সুবিধা – অসুবিধা , অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রকারভেদ , অংশীদারের প্রকারভেদ , নাবালক হিসেবে অংশীদার , অংশীদারি চুক্তিপত্র , নিবন্ধন না করার পরিণাম, অংশীদারি ব্যবসায় বিলোপসাধন

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ অংশীদারি ব্যবসায় , ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য , অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রকারভেদ , অংশীদারদের প্রকারভেদ , অংশীদার হিসেবে নাবালক , ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ।

অংশীদারি ব্যবসায়ের ধারণা

সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বন্টনের নিমিত্তে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গ যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে ।সাধারণ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ জন এবং ব্যাংক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন সদস্য থাকতে পারে ।

অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য

যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা একে অন্য ব্যবসায় হতে স্বতন্ত্র রূপদান করেছে ।

নিম্নে এসকল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলোঃ

১. একাধিক সদস্যঃ কমপক্ষে এ ধরনের ব্যবসায়ে দু’জন সদস্য থাকতে হয় ।সাধারণ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ জন এবং ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন সদস্য এতে থাকতে পারে ।

২.চুক্তিবদ্ধসম্পর্কঃ চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি ।চুক্তির আলোকে অংশীদারদের মধ্যে যে সম্পর্কের সৃষ্টি তাকেই চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বলে ।অংশীদারদের মধ্যে অন্য সম্পর্ক থাকতে পারে তবে ব্যবসায় পরিচালনায় সেই সম্পর্ক মুখ্য বিবেচিত হয় না।চুক্তি মৌখিক , লিখিত বা লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে ।

৩. মূলধন সরবরাহঃ অংশীদারগণ চুক্তিতে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী মূলধন সরবরাহ করে ।অবশ্য চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে মূলধন না দিয়ে ও অংশীদার হতে পারে ।

৪. পরিচালনাঃ এ ব্যবসায় সকল অংশীদার বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে ।সীমিত দায় সম্পন্ন কোনো অংশীদার অবশ্য এরূপ ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিতে পারেনা ।

৫. লাভ-ক্ষতিবন্টনঃ চুক্তি অনুযায়ী এক্ষেত্রে অংশীদারগণের মধ্যে লাভ – ক্ষতি বন্টিত হয় ।চুক্তিপত্রে এসম্পর্কিত কোনো উল্লেখ না থাকলে ব্যবসায়ের সফলতার জন্যও এরূপ আস্থা বহাল ।

৬.পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসঃ পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে এব্যবসায় যেমন স্থাপিত হয় তেমনিভাবে ব্যবসায়ের সফলতার জন্য ও এরূপ বহাল থাকা আবশ্যক ।

৭. আইনগত সত্ত্বার অনুপস্থিতিঃ এ ব্যবসায় নিবন্ধিত হোক বা না হোক এর কোনো আইনগত সত্তার সৃষ্টি হয়না । ফলে ব্যবসায় নিজ স্বনামে পরিচিত ও পরিচালিত হতে পারে না ।লেনদেন ও চুক্তি অংশীদারদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সম্পাদন করা হয়েছে বলে ধরা হয় ।

৮.স্থায়িত্বের অনিশ্চয়তাঃ পৃথক আইনগত সত্তা না থাকায় এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে অংশীদারদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।এছাড়াও অংশীদারদের কার ও মৃত্যু , ভুল বোঝাবুঝি ইত্যাদি নানান কারণে এরূপ ব্যবসায়ের সহজে বিলোপ ঘটে ।

অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধা

অংশীদারি ব্যবসায় প্রাচীনকাল হতে চলে আসা ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যবসায় সংগঠন ।এর এমন কিছু সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে যার কারণে নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বর্তমানকাল অবধি এটা টিকে আছে ।

১. সহজ গঠনঃ আইনগত ঝামেলা না থাকায় এ ব্যবসায় গঠন বেশ সহজ ।চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা সম্পন্ন একাধিক ব্যক্তি মৌখিক বা লিখিত চুক্তি করে যৌথমালিকানার ভিত্তিতে সহজেই এ ব্যবসায় গঠন করতে পারে ।

২.অধিক মূলধনঃ এ ব্যবসায়ে একাধিক সদস্য থাকার ফলে এবং প্রয়োজনে সকলের সম্মতিক্রমে মূলধন বৃদ্ধির সুযোগ থাকায় এক্ষেত্রে অধিক মূলধন যোগাড় সহজ ও প্রয়োজন ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যায় ।

৩. দলবদ্ধ প্রচাষ্টাঃ এখানে সদস্য সংখ্যা একাধিক হওয়ায় দলবদ্ধ প্রচেষ্টার সুবিধা অর্জন করা যায় ।সকল অংশীদারের স্বার্থ এক ও অভিন্ন হওয়ার কারণে সকলেই দলবদ্ধভাবে ব্যবসায়ের সফলতার জন্য কাজ করে ।

৪.সম্মিলিত সিদ্ধান্তঃ এরূপ ব্যবসায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল অংশীদারের মত প্রদানের সুযোগ থাকে । সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসৃত হয় ।গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকলের ইতিবাচক মতের প্রয়োজন পড়ে ।

৫. ঝুঁকি বন্টনঃ চুক্তিতে উল্লেখ লাভ-ক্ষতি বন্টন হার অনুযায়ী অন্যথায় সমান হারে বা মূলধন অনুপাতে ব্যবসায়ের যেকোনো প্রকার ক্ষতি বা ঝুঁকি অংশীদারদের মধ্যে বন্টিত হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ও বিনিয়োগ করা সহজ হয় । এতে ব্যবসায়ের মুনাফা বৃদ্ধি পায় ।

৬.আইনগত ঝামেলা মুক্ততাঃ এ ব্যবসায়কে কোম্পানির ন্যায় বিভিন্ন বিষয়ে আইনগত আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয় না ।ফলে আইনগত ঝামেলার বাইরে থেকে সহজেই এরূপ ব্যবসায় পরিচালনা করা যায় ।

৭.অসীম দায়ের পরোক্ষ সুবিধাঃ দায়ের মাত্রা বুঝে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সতর্ক হয়ে চলার যে সুবিধা তাকেই অসীম দায়ের পরোক্ষ সুবিধা বলে ।অংশীদাররা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবসায় পরিচালনার চেষ্টা করে , ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়সহ আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায় । তদুপরি তৃতীয় পক্ষ এরূপ দায়ের সুবাদে ধার প্রদানে আগ্রহী থাকে ।

৮.জনসংযোগ সুবিধাঃ অংশীদারদের প্রত্যেকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিতি , সুনাম ও বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক বজায় থাকার কারণে ব্যবসায় অধিক জনসংযোগের সুবিধা পায় ।ফলে দ্রুত সুনাম অর্জন সম্ভব হয় ও কার্য ক্ষেত্রে এর সুফল ভোগ করা যায় ।

অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রকারভেদ

১.সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ঃ যে অংশীদারি ব্যবসায়ে সকল অংশীদারের দায় সীমাহীন থাকে এবং ব্যবসায় পরিচালনায় প্রত্যেকেই অংশগ্রহণের অধিকারী হয় তাকে সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় বলে ।এরূপ অংশীদারদের দায় তাদের বিনিয়োজিত মূলধন অপেক্ষা অধিক হয় এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ হয় ।

এ ধরণের ব্যবসায় নিম্নোক্ত দু’ধরণের হয়ে থাকে-

◼ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ঃ কোনো অংশীদারি চুক্তিপত্রে অংশীদারগণের ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কাল বা মেয়াদের সীমানা নির্ধারণ না করলে তাকে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় বলে । আইনানুযায়ী নিম্নোক্তভাবে এ ব্যবসায় গঠিত হতে পারে –

অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবসায় গঠিত হলে বা চুক্তিপত্রে ব্যবসায়ের মেয়াদ সম্পর্কে উল্লেখ না থাকলে ;

চুক্তি অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কাজ সম্পাদনের জন্য ব্যবসায় গঠিত হলে এবং উদ্দেশ্য অর্জন বা কাজ সম্পাদনের পর ও ব্যবসায় চলতে থাকলে এবং

চুক্তি অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবসায় গঠিত হলে এবং সময়োত্তীর্ণ হওয়ার পরও ব্যবসায় চালু রাখা হলে ।

◼নির্দিষ্ট অংশীদারি ব্যবসায়ঃ কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদে বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হলে তাকে নির্দিষ্ট অংশীদারি ব্যবসায় বলে ।

এ ব্যবসায় নিম্নোক্ত দু’ধরণের হয় –

নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রতিষ্ঠিত অংশীদারি ব্যবসায়ঃ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এরূপ অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয় এবং মেয়াদান্তে স্বাভাবিকভাবেই এর বিলোপ ঘটে।

নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গঠিত অংশীদারি ব্যবসায়ঃ কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন বা কাজ সম্পাদিত হলেই অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটবে এ মর্মে কোনো কিছু চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে তাকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গঠিত অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

২. সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়ঃ যদি কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো অংশীদারের দায় সীমিত বা সীমাবদ্ধ থাকে তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলে।অংশীদারি ব্যবসায়ের সাধারণ প্রকৃতি হলো এর অংশীদারদের দায় অসীম হয়।

অংশীদারের প্রকারভেদ

বিভিন্ন ধরনের অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার প্রত্যাশায় অনেকেই এরূপ ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অংশীদারদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। নিম্নে বিভিন্ন ধরণের অংশীদার সম্পর্কে আলোচনা করা হল-

১. সাধারণ বা সক্রিয় অংশীদারঃ যে অংশীদার ব্যবসায়ের মূলধন বিনিয়োগ করে এবং সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় তাকে সাধারণ অংশীদার বলে। এসব অংশীদারের দায় সবসময় অসীম হয় এবং ব্যবসায়ের গঠন ও পরিচালনায় এরূপ অংশীদার সমান ভূমিকা পালন করে।

২. নিষ্ক্রিয় বা ঘুমন্ত অংশীদারঃ যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন দেন কিন্তু লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনা অংশ নেয়না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে। এদের দায়ও অসীম। এরূপ অংশীদার ব্যবসায় থেকে অবসর গ্রহণ করলেও সক্রিয় অংশীদারের ন্যায় গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

৩. কর্মী অংশীদারঃ যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না শুধুমাত্র নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে।চুক্তি অনুযায়ী এরা অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকেন।ব্যবসায় পরিচালনার জন্য নির্দিষ্টহারে বেতন দেয়া হয়।

৪. নামমাত্র অংশীদারঃ যে অংশীদার চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা নির্দিষ্ট বেতন বা অর্থের বিনিময়ে তার নামের সুনাম অংশীদারি ব্যবসায়কে ব্যবহারের অনুমতি দেয় তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।এরা পরিচলনায় অংশ নেয় না এবং মূলধনও বিনিয়োগ করে না।কোনো দায়ও বহন করেনা,তাবে তৃতীয় পক্ষ তাকে অংশীদার মনে করে ব্যবসায় ঋণ দেয়,এবং তা প্রমাণ করতে পারে তবে সে ঐ ঋণের জন্য দায়ী থাকবে।

৫. আপাতদৃষ্টিতে অংশীদারঃ যদি কোনো অংশীদার ব্যবসায় হতে অবসর গ্রহণের পরও ব্যবসায় হতে মূলধন উত্তোলন না করে বা তার ঋণ হিসেবে ব্যবসায় রাখে সেক্ষেত্রে ঐ অংশীদারকে আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার বলে। কার্যত এরূপ অংশীদার ব্যবসায়ের পাওনাদার। তবে তৃতীয় পক্ষ তাকে অংশীদার মনে করে ব্যবসায়কে ঋণ দিলে বা লেনদেন করলে এবং তা সে প্রমাণ করতে পারলে উক্ত অংশীদার অসীম দায় বহন করবে।

৬. সীমাবদ্ধ অংশীদারঃ কোনো অংশীদারের দায় সীমিত হলে,তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদার বলে।সকলের সম্মতিতে মূলত কোনো নাবালককে এই সুবিধা প্রদান করা হয়। তাদের দায় নিয়োজিত মূলধন পর্যন্ত সীমিত থাকে।

৭. আচরণে অনুমিত অংশীদারঃ যদি কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও কথা-বার্তা ও আচরণের দ্বারা নিজেকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয় তবে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে।এরূপ ব্যক্তি ব্যবসায়ের কোনো অংশীদার নয়।তবে তাকে অংশীদার ভেবে তৃতীয় পক্ষ থেকে কেউ ব্যবসায়ে ঋণ দিলে সে অসীম দায় বহন করবে।

৮.প্রতিবন্ধ অংশীদারঃ যদি ব্যবসায় বা ব্যবসায়ের অংশীদারগণ কোনো ব্যক্তিকে ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয় এবং উক্ত ব্যক্তি তা জেনেও মৌনতা অবলম্বন করে তাকে প্রতিবন্ধ অংশীদার বলে। এরূপ আচরণের জন্য তৃতীয় পক্ষ ব্যবসায়ে ঋণ দিলে তাকে অসীম দায় বহন করতে হবে।

অংশীদারি চুক্তিপত্র

অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু যে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে। এরূপ চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যে কোনো ধরনের হতে পারে।

নিবন্ধন না করার ফলাফল বা পরিণাম

নিবন্ধন না করার ফলাফল নিম্নোক্ত ভাবে উপস্থাপন করা যায়-

(ক) প্রতিষ্ঠান বা অংশীদারগণ যে সকল অসুবিধার সম্মুখীন হয়

◼চুক্তিজাত অধিকার আদায়ে বাধাঃ
১.অপর অংশীদারদের বিরুদ্ধে মামলাঃ অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন না হলে এ ব্যবসায় অন্য কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে চুক্তি হতে উদ্ভুত অধিকার আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে না।
২. তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলাঃ অংশীদারি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন না করা হলে, উক্ত অংশীদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিজাত অধিকার আদায়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেনা।

◼পাল্টা পাওনা দাবিতে বাধাঃ কোনো তৃতীয় পক্ষ প্রতিষ্ঠান বা অংশীদারের বিরুদ্ধে পাওনা আদায়ের জব্য মামলা করলে উক্ত অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বাদীপক্ষের নিকট হতে নিজস্ব পাওনা অর্থের জন্য পাল্টা পাওনা দাবি করতে পারেনা।

◼পাওনা আদায়ে বাধাঃ ১০০ টাকার অধিক কোনো পাওনা আদায়ের জন্য অংশীদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেনা।

(খ) নিবন্ধিত না হলেও অংশীদারদের যে সকল অধিকার বহাল থাকেঃ

◼বিলোপ সংক্রান্ত অধিকারঃ

১. অংশীদারগণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিলোপসাধন ও বিলুপ্ত ব্যবসায়ের হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা দায়ের করতে পারে।
২. বিলুপ্ত ব্যবসায় হতে নিজ অংশ বা পাওনা দাবি করে মামলা দায়ের করার অধিকার সকল অংশীদারের থাকে।
৩. প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন না হলেও প্রতিষ্ঠান বিলোপের পরে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য অংশীদারগণ আদালতে মামলা করতে পারে।

◼দেউলিয়া অংশীদারের সম্পত্তি হতে পাওনা প্রাপ্তিঃ এরূপ প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশীদার দেউলিয়া হলে অংশীদারগণ তার সম্পত্তি উদ্ধার ও তা হতে পাওনা উসুল করতে পারবে।

◼১০০ টাকার কম পাওনার জন্য মামলাঃ ১০০টাকা পর্যন্ত দাবির জন্য তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে।

◼বিশ্বাসভঙ্গমূলক আচরণের জন্য মামলাঃ কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারের বিশ্বাসভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে।।

অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন

অংশীদারদের মধ্যকার অংশীদারি সম্পর্কের বিলুপ্তিকে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের বিলোপসাধন বলে। বিলোপসাধন নিম্ন পদ্ধতিতে হতে পারে-

১.সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে বিলোপসাধনঃ সকল অংশীদারের সম্মতিতে বা চুক্তির শর্তানুসারে ব্যবসায় বিলোপসাধন হলে তাকে সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে বিলোপসাধন বলে।

২. বাধ্যতামূলক বিলোপসাধনঃ যদি এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি হয় যে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপ ছাড়া কোনো গত্যান্তর থাকেনা তাকে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলে।

◾একজন ব্যতীত সকল অংশীদার একযোগে দেউলিয়া বিবেচিত হলে এবং
◾এরূপ কোনো ঘটনা ঘটলে যাতে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্যবসায় চালানো বা ব্যবসায় অবৈধ হয়ে পরলে।

৩. কয়েকটি বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধনঃ
◾নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো অংশীদারি ব্যবসায় স্থাপিত হলে এবং ঐ সময় উত্তীর্ণ হলে;
◾একক বা একাধিক কার্য সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠান গঠিত হলে এবং কার্য বা কার্যসমূহ সম্পাদিত হলে;
◾কোনো অংশীদারের মৃত্যু হলে;
◾কোনো অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হলে।

৪. বিজ্ঞপ্তির দ্বারা বিলোপসাধনঃ যদি কোনো অংশীদার ব্যবসায়ের সাধারণ অংশীদার অপর অংশীদারদের লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিলেই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ তারিখ থেকে ব্যবসায়ের বিলোপ কার্যকর করতে পারে তাকে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা বিলোপসাধন বলে।

৫. আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধনঃ
◾কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে
◾কোনো অংশীদার কর্তব্য পালনে চিরতরে অসমর্থ হলে;
◾কোনো অংশীদার কোনো অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে যা ব্যবসায়ে প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
◾কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারদের অনুমতি ছাড়া ব্যবসায়ে তার স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষের নিকট হস্তান্তর করলে বা আদালত কোনো অংশীদারের সম্পূর্ণ স্বার্থ বিক্রি জারির মাধ্যমে কোনো তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রয় করলে
◾কোনো অংশীদারি ব্যবসায় উপর্যুপরি লোকসান করলে এবং লোকসান ব্যতীত ব্যবসায় পরিচালনা অসম্ভব বলে গণ্য হলে
◾অন্য কোনো কারণে আদালত ব্যবসায় ভঙ্গের আদেশ দেয়া ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত মনে করলে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party