অধ্যায় ৩ঃ ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ৩ঃ ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী

ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী:

ব্যাংকে আমানতকারীর সংরক্ষিত আমানতের জন্য ব্যাংক ও আমানতকারী আলাদা আলাদাভাবে হিসাব সংরক্ষণ করে। আমানতকারী হিসাব রাখে নগদান বইতে। ব্যাংক হিসাব রাখে ব্যাংক বিবরণী/পাস বইতে। সময়ের পার্থক্য অথবা যেকোনো পক্ষের ভুলের কারণে নগদান বইয়ের ব্যাংক কলামের জের ও ব্যাংক বিবরণীর জেরের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হতে পারে। যেকোনো ধরনের গরমিল দেখা দিলে গরমিলের কারণ খুঁজে বের করে আমানতকারী নগদান বই ও পাস বইয়ের সমন্বয় বা মিলকরণ এর উদ্দেশ্যে যে বিবরণী প্রস্তুত করে তাকে ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী বলে।

সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি-

– ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী ও ব্যাংক বিবরণী এক নয়।

-আমানতকারীর জমাকৃত টাকার হিসাব রাখার জন্য ব্যাংক প্রস্তুত করে ব্যাংক বিবরণী বা পাস বই।

-এবং আমানতকারী ব্যাংকে জমাকৃত টাকার হিসাব নিজে নগদান বইতে সংরক্ষণ করে।

-এবং যেকোন গরমিল উপস্থাপন করা হয় ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী তে।

-ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী আর্থিক বিবরণী অংশ নয়, এটা প্রস্তুত করাও বাধ্যতামূলক নয়।

ব্যাংকের যে কোন পরিমাণ টাকার জমা বৃদ্ধির কারণে আমানতকারী নগদান বইকে ডেবিট করে এবং ব্যাংক তার ব্যাংক বিবরণীকে ক্রেডিট করে। ব্যাংক জমা হ্রাস ঘটলে আমানতকারী নগদান বইকে ক্রেডিট এবং ব্যাংক ব্যাংক বিবরণী কে ডেবিট করে।

-নগদান বইয়ের ডেবিট জের বোঝায় ব্যাংক জমা এবং ক্রেডিট জের বোঝায় ব্যাংক জমাতিরিক্ত।

-ব্যাংক বিবরণীর ডেবিট জের বোঝায় ব্যাংক জমাতিরিক্ত এবং ক্রেডিট জের বোঝায় ব্যাংক জমা।

-ব্যাংক জমা আমানতকারীর সম্পদ ও ব্যাংকের দায়।

-ব্যাংক জমাতিরিক্ত আমানতকারীর দায় ও ব্যাংকের সম্পদ।

ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী প্রস্তুত পদ্ধতি ২টি।

১) উভয় জের পদ্ধতি

২) একক জের পদ্ধতি

উভয় জের পদ্ধতি:

এই পদ্ধতিতে আমরা ব্যাংক বিবরণীর জের এবং নগদান বইয়ের জের উভয়ের ভুলগুলো সংশোধন করি।

উভয় জের পদ্ধতিতে ব্যাংক বিবরণী বা পাস বইয়ের জেরের সাথে

-পরিবহনাধীন/ট্রানজিটে জমা (আদায়ের জন্য ব্যাংকে জমাকৃত চেক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে) যোগ করি।

-অপরিশোধিত/বকেয়া চেক (পাওনাদারকে ইস্যুকৃত চেক যা এখনো ব্যাংকে উপস্থাপিত হয়নি) বাদ দেই।

-ব্যাংকের বইতে কম দেখানো হয়েছে এমন ভুল যোগ করি এবং বেশি দেখানো হয়েছে এমন ভুল বাদ দেই।

এবং নগদান বইয়ের জেরের সাথে

-ক্রেডিট মেমোরান্ডামসমূহ (অর্জিত সুদ, প্রাপ্য নোটের মূল্য আদায় ইত্যাদি যা আমানতকারীর হিসাবের জমা বৃদ্ধি করে) যোগ করতে হবে।

-ডেবিট মেমোরেন্ডামসমূহ (প্রত্যাখ্যাত চেক, সার্ভিস চার্জ, প্রদেয় বিল ব্যাংক কর্তৃক পরিশোধ ইত্যাদি যা আমানতকারীর হিসাবের হ্রাস ঘটায়) বাদ দিতে হবে।

-নগদান বইতে কম দেখানো হয়েছে এমন ভুল যোগ করতে হবে এবং বেশি দেখানো হয়েছে এমন ভুল বিয়োগ করতে হবে।

[প্রত্যাখ্যাত চেক: আদায়ের জন্য ব্যাংকে জমাকৃত চেক যা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

NSF চেক: অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত চেক(Not Sufficient Fund Check)]

একক জের পদ্ধতি:

এই পদ্ধতিতে ব্যাংক বই বা নগদান বই যেকোনো একটি পক্ষের জের নিয়ে শুরু করা হয় এবং ‘দুই পক্ষের মধ্যে অমিল সৃষ্টিকারী বিষয়’ যোগ বিয়োগ করে অন্য পক্ষের জের নির্ণয় করা হয়। এক্ষেত্রে যে পক্ষ নিয়ে শুরু করা হয় (ধরি নগদান বইয়ের জের), উভয় জের পদ্ধতিতে সেই পক্ষের সাথে যেভাবে যোগ বিয়োগ করা হয়েছে সেসব যোগ বিয়োগ একইভাবে করতে হয়। তারপর অন্য পক্ষের যোগ বিয়োগ কে বিপরীত করতে হয় (ব্যাংক বিবরণী জের এর পক্ষের যোগ করা টাকাগুলো কে বিয়োগ করতে হয় এবং বিয়োগ করা টাকা গুলো কে যোগ করতে হয়)।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party