অধ্যায় ২ঃলেনদেন

SSC / হিসাববিজ্ঞান

অধ্যায় ২ঃলেনদেন

লেনদেনের ধারণা:

ব্যবসায় জগতে বিভিন্ন ঘটনার উদ্ভব হয়, কিন্তু সমস্ত ঘটনাকে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা হয় না। অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্য ঘটনা, যা ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করে। সেই সমস্ত ঘটনাকে লেনদেন হিসেবে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়।
অর্থের আদান-প্রদান বা অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপযোগ্য কোনো ঘটনা বা সেবা আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে ঐ সমস্ত ঘটনা বা আদান-প্রদানকে লেনদেন বলা হয়।
লেনদেন শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো “গ্রহন ও প্রদান অর্থ্যাৎ দেওয়া ও নেওয়া”।

লেনদেন দুই প্রকার:
১. বাহ্যিক লেনদেন
২. অভ্যন্তরীণ লেনদেন

  • বাহ্যিক লেনদেনঃ বাহ্যিক লেনদেনে কোনো অর্থনৈতিক ঘটনা দুটি পক্ষকে বা দুটি প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে।
  • অভ্যন্তরীণ লেনদেনঃ অভ্যন্তরীণ লেনদেনে শুধু ববেসায়ের অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে পরিবর্তন করে।

লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য :

প্রত্যেকটি লেনদেনই ঘটনা কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনা লেনদেন নয়। লেনদেন হতে হলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো বাধ্যতামূলক তা হলোঃ

১. অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্যঃ লেনদেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘটনাকে অবশ্যই অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্য হতে হবে। যেমনঃ ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ১০০ ডলার, ৫০০ ডলার।

২. আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনঃ কোনো ঘটনা দ্বারা যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয় তখনই সেটি লেনদেন হবে।

৩. দ্বৈত সত্তাঃ প্রতিটি লেনদেনেই দুটি পক্ষ থাকতে হবে। অর্থ্যাৎ একপক্ষ সুবিধা গ্রহন করবে এবং অপরপক্ষ সুবিধা প্রদান করবে।

৪. স্বয়ংসম্পূর্ন ও স্বতন্ত্রঃ প্রতিটি লেনদেন স্বয়ংসম্পূর্ন অর্থ্যাৎ একটি অন্যটি হতে আলাদা। যেমনঃ ১০০০০ ঠাকার পণ্য ক্রয় করে ০৭ দিন পর টাকা দেওয়া হলো। এথানে ধারে ক্রয় একটি লেনদেন। ০৭ দিন পর প্রদান আরেকটি লেনদেন।

৫. হিসাব সমীকরণে প্রভাব বিস্তারঃ প্রতিটি লেনদেনেই হিসাব সমীকরনকে প্রভাবিত করে। অর্থ্যাৎ কোনো ঘটনা ওলেনদের কিনা লেনদেন কিনা তা হিসাব সমীকরণের মাধ্যমে যাচাই করা যায়।

যেসব ঘটনাগুলো লেনদেন নয় তা হলো :

১. ফরমায়েশ
২. প্রতিশ্রুতি
৩. চুক্তি
৪. কর্মচারীর মৃত্যু
৫. কর্মচারী/ম্যানেজার নিয়োগ
৬. মালিকের ব্যক্তিগত খরচ

হিসাব সমীকরণঃ

কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট সময়ের বা হিসাব কালের মোট সম্পদের পরিমান, মালিকানাস্বত্ব ও দায়ের সমান হবে। যে সমীকরণর মাধ্যমে এই সমতা প্রকাশ করা হয় তাকেই হিসাব সমীকরণ বলে। হিসাব সমীকরনটি হলোঃ

Assets (সম্পদ)= Liabilities (দায়) + Equity ( মালিকানাস্বত্ব)
সংক্ষেপেঃ A = L + E

  • সম্পদ ( Assets ) ঃ প্রতিষ্ঠানের অধিকারযুক্ত যেকোনো বিষয় যা থেকে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায় তাকেই সম্পদ/সম্পত্তি বলে। যেমনঃ দালানকোঠা, আসবাবপত্র, নগদ, ব্যাংক।
  • দায় ( Liabilities ) ঃ দায় হচ্ছে আর্থিক দায়বদ্ধতা। অর্থ্যাৎ ব্যবসায়ের উপর তৃতীয় পক্ষের দাবিই হচ্ছে দায়। যেমনঃ পাওনাদার, ঋণ।
  • মালিকানাস্বত্ব ( Equity ) ঃ ব্যবসায়ের উপর মালিকের দাবিকে মালিকানাস্বত্ব বলে। মালিকানাস্বত্বকে প্রভাবিত করার চারটি উপাদান রয়েছে। মালিকের বিনিয়োগ, আয়, ব্যয়, উত্তোলন।

হিসাব সমীকরণটিকে বর্ধিত করলে পাওয়া যায়-

A= L + ( C+R – Ex – D)
যেখানে,
A= Assets (সম্পদ)
L= Liabilities (দায়)
C= Capital (মূলধন)
R= Revenue (আয়)
Ex= Expense (ব্যয়)
D= Drawings(উত্তোলন)

কোনো ঘটনা লেনদেন হতে হলে তা হিসাব সমীকরণের যেকোনো একটির পরিবর্তন সাধন করবে।

১. মোট সম্পদ বাড়লে মোট দায় অথবা মোট মালিকানস্বত্ব বাড়বে।

ক) নগদ ৫,০০০ টাকা নিয়ে ব্যবসায় শুরু করা হলো

সম্পদ (নগদ) এবং মালিকানা স্বত্ত্ব (মূলধন) বৃদ্ধি পেয়েছে।

খ) ধারে ৫,০০০ টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলো

সম্পদ (যন্ত্রপাতি) এবং দায় (পাওনাদার) বৃদ্ধি পেয়েছে।

২। মোট সম্পদ কমলে মোট দায় অথবা মালিকানাস্বত্ব কমবে।

ক) পাওনাদারকে পরিশোধ ৩,০০০ টাকা 

সম্পদ (নগদ অর্থ)হ্রাস এবং দায় (পাওনাদার) হ্রাস পেয়েছে।

খ) নগদ বেতন দেওয়া হল ২০০০ টাকা 

সম্পদ (নগদ) হ্রাস এবং মালিকানা স্বত্ত¡ (খরচ) হ্রাস পেয়েছে।

৩। একটি সম্পদ বাড়লে অপর একটি সম্পদ কমবে।

আসবাবপত্র ক্রয় নগদে

সম্পদ (আসবাবপত্র) বৃদ্ধি এবং সম্পদ (নগদ) হ্রাস পেয়েছে।

৪। মালিকানা স্বত্ত বাড়লে মোট দায় কমবে।

মালিক কর্তৃক ব্যাক্তিগতভাবে ব্যবসায়ের ঋণ পরিশোধ

দায় (ঋণ) হ্রাস এবং মালিকানা স্বত্ত¡ (মূলধন) বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫। বাকিতে পণ্য ক্রয় ৭,০০০ টাকা

দায় (পাওনাদার) বৃদ্ধি এবং মালিকানা স্বত্ত¡ (খরচ) হ্রাস পেয়েছে।

ব্যবসায়িক লেনদেনের উৎস এবং এতদসংক্রান্ত দলিল পত্রাদিঃ

প্রতিটি লেনদেনের সমর্থনে এক বা একাধিক প্রমানপত্র থাকে। লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করতে এ সকল প্রমান পত্র ব্যবহার হয়। প্রমানপত্র গুলো হল চালান, ভাউচার, ক্যাশমেমো, ডেবিট নোট, ক্রেডিট নোট।

১. চালান ঃ চালান হলো পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়ের একটি প্রামান্য দলিল। বিক্রেতা যখন পণ্য বিক্রয় করেন তখন পণ্যের পূর্ণ বিবরণ সংবলিত একটি লিখিত দলিল ক্রেতাকে হস্তান্তর করেন। এই লিখিত দলিল চালান।

২. ভাউচার ঃ লেনদেনে যে প্রমানপত্র ব্যবহৃত হয় তাকে ভাউচার বলে।
ভাউচার দুই প্রকার ঃ যথা-
১. ডেবিট ভাউচার
২. ক্রেডিট ভাউচার

ডেবিট ভাউচার ঃ পণ্য ক্রয় এবং বিভিন্ন ব্যয়ের স্বপক্ষে ডেবিট ভাউচার ব্যবহৃত হয়।

ক্রেডিট ভাউচার ঃ পণ্য বিক্রয় এবং বিভিন্ন আয়ের জন্য যে ভাউচার ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় ক্রেডিট ভাউচার।

৩. ক্যাশ মেমো ঃ নগদ মূল্যে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্যাশমেমো ব্যবহৃত হয়। পণ্য বিক্রেতা পণ্য ক্রেতাকে ক্যাশমেমো দিয়ে থাকে।

৪. ডেবিট নোট ঃ ক্রয় কৃত পণ্য ফেরত পাঠিয়ে কিংবা কোনোপ্রকার ভুল সংশোধন করার জন্য বিক্রেতার (পাওনাদারের) হিসাবকে ডেবিট করে বিক্রেতাকে অবহিত করার জন্য “ক্রেতা” যে নোট ইস্যু করে তাকে ডেবিট নোট বলে।

৫. ক্রেডিট নোট ঃ বিক্রীত পণ্য ফেরত আসলে কিংবা কোনো প্রকার ভুল সংশোধন করার জন্য ক্রেতার (দেনাদারের) হিসাবকে ক্রেডিট করে তা ক্রেতাকে অবহিত করার জন্য “বিক্রেতা” যে পত্র ইস্যু করে তাকে ক্রেডিট নোট বলে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party