অধ্যায় ২ঃ হিসাবের বইসমূহ

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ২ঃ হিসাবের বইসমূহ

আমাদের আলোচ্য বিষয়-

  • দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি
  • জাবেদা
  • নগদান বই
  • হিসাব চক্র
  • বাট্টা
  • খতিয়ান
  • প্রামাণ্য দলিল।

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি:

হিসাববিজ্ঞানের বইসমূহে প্রতিটি লেনদেনের সাথে জড়িত হয় পক্ষের প্রভাব লিপিবদ্ধ করা হয়, যাকে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বলে। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিকে হিসাব বিজ্ঞানের ভিত্তিও বলা হয়।

জাবেদা

লেনদেনসমূহ প্রাথমিকভাবে সময়ানুক্রমিক বিন্যাসে যে বইতে লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে জাবেদা বলে। জাবেদা বা Journal শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ Jour থেকে। ফরাসি Jour শব্দের অর্থ দিন বা দিবস।

জাবেদা হলো –

১) প্রাথমিক হিসাবের বই
২) মৌলিক হিসাবের বই
৩) সরকারি হিসাব বই
৪) কালীন হিসাব বই
৫) দৈনন্দিন হিসাবের বই

দাখিলা:

হিসাবের প্রাথমিক বই তে লেনদেন লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে দাখিলা বলে।

দাখিলা কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

১) সরল দাখিলা (দুটি পক্ষ থাকে)
২) মিশ্র দাখিলা (দুইয়ের অধিক পক্ষ থাকে)

সরল দাখিলা এর উদাহরণ :

নগদ ৫০০০ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করা হলো

নগদান হিসাব (ডেবিট) ৫০০০
মূলধন হিসাব (ক্রেডিট) ৫০০০

মিশ্র দাখিলার উদাহরণ:

নগদ ৩০০০ টাকা ২০০০ টাকার আসবাবপত্র নিয়ে ব্যবসা শুরু করা হলো

নগদান হিসাব (ডেবিট) ৩০০০ টাকা
আসবাবপত্র হিসাব (ডেবিট) ২০০০ টাকা
মূলধন হিসাব (ক্রেডিট) ৫০০০টাকা

জাবেদার শ্রেণিবিভাগ:

জাবেদা প্রধানত দুই প্রকার: 1) সাধারণ জাবেদা 2) বিশেষ জাবেদা।

সাধারণ জাবেদা সমূহ:

১) প্রারম্ভিক দাখিলা: কোন লেনদেনকে প্রথমবার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা।

২) সমন্বয় দাখিলা: হিসাব শেষে অগ্রিম ও বকেয়া সমূহ আয়-ব্যয়ের সাথে সমন্বয়ের জন্য দাখিলা। সমন্বয় জাবেদা সর্বদাই কমপক্ষে আয় বিবরণীর একটি হিসাবে এবং উদ্বৃত্তপত্রের একটি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩) সংশোধনী দাখিলা: ভুল ত্রুটি সংশোধনের জন্য দাখিলা।

৪) সমাপনী দাখিলা: হিসাব করলে শেষে নামিক হিসাব (আয়-ব্যয়) ও উত্তোলন হিসাব বন্ধের জন্য দাখিলা।

বিশেষ জাবেদা সমূহ:

ক্রয় জাবেদা: শুধু ধারে পণ্য ক্রয় করার সময় এই জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

দাখিলা: ক্রয় হিসাব (ডেবিট)

                          প্রদেয় হিসাব (ক্রেডিট)

যা ক্রয় জাবেদায় লিপিবদ্ধ হয় না- ১) নগদে ক্রয় ২) ধারে সম্পত্তি ক্রয় ৩) ক্রয় সংক্রান্ত খরচ

বিক্রয় জাবেদা: শুধু ধারে পণ্য বিক্রয় লিপিবদ্ধ করা হয় বিক্রয় জাবেদায়।

দাখিলা: প্রাপ্য হিসাব (ডেবিট)

                     বিক্রয় হিসাব (ক্রেডিট)

বিক্রয় জাবেদায় লিপিবদ্ধ হয় না- ১) নগদ বিক্রয় ২) ধারে সম্পত্তি বিক্রয় ৩) বিক্রয় সংক্রান্ত খরচ

ক্রয় ফেরত জাবেদা: শুধু ধরে কৃত পণ্য ফেরত পাঠালে লিপিবদ্ধ করা হয় ক্রয় ফেরত জাবেদায়। এটা তৈরি করা হয় ডেবিট নোট থেকে।

দাখিলা: প্রদেয় হিসাব (ডেবিট)

                      ক্রয় ফেরত হিসাব (ক্রেডিট)

ক্রয় ফেরত জাবেদা লিপিবদ্ধ হয় না- নগদে কৃত পণ্য ফেরত।

বিক্রয় ফেরত জাবেদা: শুধু ধরে বিকৃত পণ্য ফেরত আসলে লিপিবদ্ধ করা হয় বিক্রয় ফেরত জাবেদায়। এটা তৈরি করা হয় ক্রেডিট নোট থেকে।

দাখিলা: বিক্রয় ফেরত হিসাব (ডেবিট)

                      প্রাপ্য হিসাব (ক্রেডিট)

বিক্রয় ফেরত জাবেদা লিপিবদ্ধ হয় না- নগদে বিকৃত পণ্য ফেরত।

নগদ প্রাপ্তি জাবেদা: সকল প্রকার নগদ প্রাপ্তি লিপিবদ্ধ করা হয় নগদ প্রাপ্তি জাবেদায়।

দাখিলা: নগদান হিসাব (ডেবিট)

                      সংশ্লিষ্ট হিসাব (ক্রেডিট)

নগদ প্রদান জাবেদা: সকল প্রকার নগদ প্রদান লিপিবদ্ধ করা হয় নগদ প্রদান জাবেদায়।

দাখিলা: সংশ্লিষ্ট হিসাব (ডেবিট)

                     নগদান হিসাব (ক্রেডিট)

নগদ প্রাপ্তি প্রদান জাবেদায় লিপিবদ্ধ হয় না- কোন বকেয়া বা অনগদ লেনদেন।

নগদান বই:

ব্রিটিশ হিসাব বিজ্ঞানে নগদ/চেক প্রাপ্তি ও প্রদান সংক্রান্ত লেনদেন যে বইতে লিপিবদ্ধ হয় তাকে নগদান বই বলে। এই প্রাপ্তি-প্রদান এর সাথে বাট্টা জড়িত থাকলে নগদান বইতে বাট্টা কলাম সংযুক্ত হয়। নগদান বইতে জাবেদার মত প্রাথমিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং এটা খতিয়ানের মতো কাজ করে বিধায় একে ‘জাবেদা ও খতিয়ান’ উভয়ই বলা হয়।

নগদান বইয়ের নগদ কলামের ডেবিট জের দ্বারা বুঝায় হাতে নগদ নগদ জমা। নগদ কলামের কখনো ক্রেডিট জের হতে পারে না।

ব্যাংক কলামের ডেবিট জের দ্বারা বুঝায় ব্যাংক জমা এবং ক্রেডিট জের দ্বারা বোঝায় ব্যাংক জমাতিরিক্ত।

খুচরা নগদান বই:

দৈনন্দিন সংঘটিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগদ প্রদান লিপিবদ্ধ করতে খুচরা নগদান বই ব্যবহৃত হয়। এই ক্ষুদ্র নগদ প্রদান লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় খুচরা ক্যাশিয়ারের উপর।

অগ্রদত্ত পদ্ধতিতে খুচরা নগদান বই: এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ের(মাস/সপ্তাহ) শুরুতে খুচরা তহবিল গঠন করতে ছোট ক্যাশিয়ারকে চেকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়। এই সময়ের শেষে ছোট ক্যাশিয়ারকে পূর্ববর্তী মাস/সপ্তাহের মোট ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

হিসাব চক্র:

হিসাবকাল ধারণা অনুসারে প্রতিষ্ঠানের অনির্দিষ্ট জীবনকে কতগুলো সুনির্দিষ্ট হিসাবকালে বিভক্ত করে হিসাব নিকাশ করতে হয়। নির্দিষ্ট হিসাব কালে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা থেকে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহৃত কর্মপ্রণালী কে হিসাব চক্র বলে। হিসাব চক্রের ধাপ গুলো ক্রমান্বয়ে প্রতিবছরই আবর্তিত হয়।

আধুনিক হিসাব বিজ্ঞান অনুসারে হিসাব চক্রের আবশ্যিক ধাপ ৯ টি।

১) লেনদেন বিশ্লেষণ
২) লেনদেন জাবেদাভুক্তকরন
৩) খতিয়ানের স্থানান্তরকরণ
৪) রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ
৫) সমন্বয় দাখিলা জাবেদাভুক্ত স্থানান্তরকরণ
৬) সমন্বিত রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ
৭) আর্থিক বিবরণী সমূহ প্রস্তুতকরণ
৮) সমাপনী দাখিলা জাবেদা ভুক্ত ও স্থানান্তরকরণ
৯) সমাপন পরবর্তী রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ।

  • সমাপন পরবর্তী রেওয়ামিল এর পর বিপরীত দাখিলা দেওয়া হয়। বিপরীত দাখিলা বছরের শুরুতে দেওয়া হয় এবং এটি হিসাব চক্রের একটি ঐচ্ছিক ধাপ।
  • কার্যপত্র একটি খসড়া কাজ, যা ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পক্ষের নিকট বন্টনযোগ্য নয় এটি আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের সহায়ক হাতিয়ার এবং হিসাব চক্রের ঐচ্ছিক ধাপ।
  • সংশোধনী দাখিলা হিসাব চক্রের একটি পরিত্যাজ্য ধাপ।

বাট্টা

পণ্যের লিখিত মূল্য থেকে ক্রয় এবং ধার আদায়/পরিশোধের সময় যে পরিমাণ টাকা বাদ দেওয়া হয় তাকে বাট্টা বলে।

বাট্টা দুই প্রকার। যথা:
১) কারবারি বাট্টা(পণ্য নগদে বা ধারে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এই বাট্টা দেওয়া হয়)
২) নগদ বাট্টা (বাকিতে ক্রয় বিক্রয় করা হলে অর্থ পরিশোধের সময় এই বাট্টা দেওয়া হয়)

  • কারবারি বাট্টা কে পরিমাণ বাট্টা/বিনিময় বাট্টা/ট্রেড বাট্টা ও বলা হয়। কারবারি বাট্টা লেনদেনের অংশ নয় সেজন্য এটি হিসাব-নিকাশে অন্তর্ভুক্ত হয় না।

নগদ বাট্টা: দেনাদারের কাছ থেকে দ্রুত টাকা/পাওনা আদায়ের আশায় তার প্রাপ্য হতে যে পরিমাণ ছাড় দেয় তাকে নগদ বাট্টা বলে।

  • ২/১০, নিট ৩০ এক ধরনের নগদ বাট্টা- যার দ্বারা বুঝায় ক্রেতা পণ্য ক্রয়ের 10 দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করলে 2% টাকা পাবে এবং সম্পূর্ণ টাকা অবশ্যই 30 দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

নগদ বাট্টা দুই প্রকার।

১) বিক্রয় বাট্টা/প্রদত্ত বাট্টা
২) ক্রয় বাট্টা/প্রাপ্ত বাট্টা।

  • আমেরিকান পদ্ধতিকে নগদ বাট্টাকে ক্রয় বাট্টা ও বিক্রয় বাট্টা বলে। বিশদ আয় বিবরণীতে বিক্রয় বাট্টা বিক্রয় থেকে বাদ যায় এবং ক্রয় বাট্টা ক্রয় থেকে বাদ যায়। বিক্রয় বাট্টা ফলে মোট লাভ ও নীট লাভ উভয় হ্রাস পায়। ক্রয় বাট্টা এর ফলে মোট লাভ ও নিট লাভ উভয় বৃদ্ধি পায়। বিক্রয় বাট্টা যায় নগদপ্রাপ্তি জাবেদায় এবং ক্রয় বাট্টা যায় নগদ প্রদান জাবেদায়।
  • অন্যদিকে ব্রিটিশ পদ্ধতিতে নগদ বাট্টা কে প্রদত্ত বাট্টা ও প্রাপ্ত বাট্টা বলা হয়। আয় বিবরণীতে প্রদত্ত বাট্টা পরিচালন ব্যয় অংশে দেখানো হয় এবং প্রাপ্ত বাট্টা ও অপরিচালন আয় অংশে দেখানো হয়। প্রদত্ত বাট্টা ফলে মোট লাভ প্রভাবিত হয় না তবে নিট লাভ হ্রাস পায়। এবং প্রাপ্ত বাট্টা ফলেও মতলব প্রভাবিত হয় না তবে নিট লাভ বৃদ্ধি পায়। নগদান বইয়ে ডেবিট কলামে বাট্টার ঘরে লিপিবদ্ধ হয় প্রদত্ত বাট্টা এবং ক্রেডিট কলমে বাট্টার ঘরে লিপিবদ্ধ হয় প্রাপ্ত বাট্টা।

খতিয়ান:

প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সমূহের সাথে জড়িত প্রতিটি পক্ষের শ্রেণীবদ্ধ ও সংক্ষিপ্ত বিবরণী কে বলা হয় হিসাব। উক্ত হিসাবগুলো যে বইতে সংরক্ষণ করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। ইংরেজি শব্দ Ledger থেকে খতিয়ান আগত। Ledger এর আভিধানিক অর্থ তাক।

খতিয়ান বলতে আমরা মূলত সাধারণ খতিয়ান কেই বোঝাই। প্রতিটি লেনদেনেই সাধারণ খতিয়ান কে প্রভাবিত করে। তবে শ্রম বিভাগের সুবিধার্থে সাধারণ খতিয়ানের পাশাপাশি সহকারী খতিয়ানও তৈরি করা হয়।

সহকারি খতিয়ান এর মধ্যে বহুল প্রচলিত দুটি খতিয়ান হচ্ছে-
১) দেনাদার (প্রাপ্য হিসাব)/বিক্রয় খতিয়ান।
২) পাওনাদার (প্রদেয় হিসাব)/ ক্রয় খতিয়ান।

উদাহরণ- দেনাদার হিসাব, পাওনাদার হিসাব, বেতন হিসাব, মূলধন হিসাব ইত্যাদি- এগুলো সাধারণ খতিয়ান। কিন্তু দেনাদার কেয়া হিসাব, পাওনাদার করিম হিসাব ইত্যাদি-এগুলো সহকারী খতিয়ান।

  • দেনাদার খতিয়ানে দেনাদারদের ব্যক্তিগত হিসাবগুলো আলাদা আলাদা ভাবে সংরক্ষন করা হয় অন্যদিকে পাওনাদার খতিয়ানে পাওনাদারদের হিসাব গুলো স্বতন্ত্র ভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
  • সহকারি খতিয়ানের জের রেওয়ামিলে বা আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করা হয় না।

প্রামাণ্য দলিল সমূহ:

চালান: ধারে পণ্য বিক্রয়ের সময় বিক্রেতা পণ্যের পূর্ণ বিবরণ(বিবরণ/দর/পরিমাণ/মোট টাকা) লিখে ক্রেতার নিকট যে পত্র পাঠায় তাই চালান। বিক্রয় জাবেদা ও ক্রয় জাবেদা তৈরি করার সময় চালান ব্যবহার করা হয়।

ক্যাশমেমো: নগদে পণ্য ক্রয় বিক্রয় এর প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিক্রেতা পণ্যের বিবরণ, পরিমাণ, দর, মোট মূল্য, উল্লেখ করে তাকে যে পত্র পাঠায় তাকে ক্যাশমেমো বলে। ক্যাশমেমো নগদান বই তৈরিতে সহায়তা করে।

ভাউচার: নগদ অর্থের আদান-প্রদান সংক্রান্ত হিসাবরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য দৈনন্দিন লেনদেনের যে বিবরণী তৈরি করা হয় তাকে ভাউচার বলে। নগদে পণ্য ক্রয় সহ বিভিন্ন কারণে নগদ/চেক প্রদান করলে লেখা হয় ডেবিট ভাউচারে। অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে নগদ/চেক প্রাপ্তি ঘটলে লেখা হয় ক্রেডিট ভাউচারে। ভাউচারও নগদান বই তৈরিতে সহায়তা করে।

ডেবিট নোট: কৃত পণ্য ফেরত বাবদ ক্রেতা ইস্যু করে ডেবিট নোট। ডেবিট নোট দেখে তৈরি করা হয় ক্রয় ফেরত জাবেদা।

ক্রেডিট নোট: বিক্রিত পণ্য ফেরত আসলে বিক্রেতা ইস্যু করে ডেবিট নোট। ক্রেডিট নোট দেখে তৈরি করা হয় বিক্রয় ফেরত জাবেদা।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party