অধ্যায় ২ঃ ব্যবসায় পরিবেশ

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ২ঃ ব্যবসায় পরিবেশ

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ ব্যবসায় পরিবেশ ,ব্যবসায় পরিবেশের উপাদান , ব্যবসায়ের উপর প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের উপাদানসমূহ , বাংলাদেশের ব্যবসায় পরিবেশ , পরিবেশের সমস্যা ও সমাধান
অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ
ব্যবসায় পরিবেশ , পরিবেশের উপাদান

ব্যবসায় পরিবেশ

একটি দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যদিয়ে গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে ।

ব্যবসায় পরিবেশের উপাদানসমূহ

ব্যবসায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে পরিবেশের উপাদানসমূহের সাথে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে ।কেননা , ব্যবসায় কেমন চলবে তা অনেকাংশেই এসকল পরিবেশের উপর নির্ভর করে ।

১. প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক পরিবেশঃ কোনো দেশের জলবায়ু , ভূ-প্রকৃতি , মৃত্তিকা , নদ-নদী , সাগর , আয়তন ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে ।

২.অর্থনৈতিক পরিবেশঃ জনগণের আয় ও সঞ্চয় , অর্থ ও বিনিয়োগ , মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে ।

৩.সামাজিক পরিবেশঃ কোনো সমাজের বা জাতির মানুষের সংখ্যা , তাদের ধর্ম বিশ্বাস , চিন্তাধারা , মূল্যবোধ , শিক্ষা – সংস্কৃতি ও দেশীয় ঐতিহ্য মিলিয়ে যে পারিপার্শ্বিকতা গড়ে ওঠে তাকেই সামাজিক পরিবেশ বলে । দু’টি উপাদান নিয়ে এরূপ পরিবেশ গঠিত-

◼ সাংস্কৃতিকপরিবেশঃএকটা সমাজের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে কিছু ধারণা , বিশ্বাস , মূল্যবোধ ও আচরণের ভাবধারা গড়ে ওঠে -এর সম্মিলনে ঐ সমাজে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় , তাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলে ।
◼ ধর্মীয় পরিবেশঃ
ধর্মীয় বিশ্বাস , ধর্মীয় অনুশাসন ও আচার-আচরণ থেকে কোনো সমাজের অভ্যন্তরে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে ধর্মীয় পরিবেশ বলে ।

৪.রাজনৈতিক পরিবেশঃ দেশের সার্বভৌমত্ব , সরকারের স্থিতিশীলতা , রাজনৈতি কন্দল , নেতৃত্ব ও তাদের চিন্তা-ভাবনা , আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মিলিয়ে যে পারিপার্শ্বিকতার সৃষ্টি তাকে রাজনৈতিক পরিবেশ বলে ।

৫.প্রযুক্তিগত পরিবেশঃ বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা , এতদ সংক্রান্ত গবেষণা , উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার , প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয় , তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে ।

৬.আইনগত পরিবেশঃ জনগণের কল্যানের লক্ষ্যে সরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রদানকৃত আইনের সমন্বয়ে আইনগত পরিবেশ গড়ে ওঠে ।

ব্যবসায়ের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের উপাদানসমূহের

◼ অভ্যন্তরীণ পরিবেশঃ

১.মালিক বা শেয়ারহোল্ডার
২.পরিচালনা পর্ষদ
৩.শ্রমিক-কর্মী
৪.প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি
৫.প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা

◼ বাহ্যিক পরিবেশঃ

১. প্রতিযোগিতা
২. ক্রেতা বা ভোক্তা
৩. সরবরাহকারী
৪. মধ্যস্থ ব্যবসায়ী
৫. কৌশলগত মিত্র
৬. সরকারি সংস্থা

বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিবেশ

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থার সুবিধার কারণে নদীর পাড়ে পাড়ে ব্যবসায় কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল প্রাচীন কাল থেকে ।বাংলাদেশের ব্যবাসায়িক পরিবেশ বিভিন্ন ইতিবাচক ও নেতিবাচক উপাদান বা শক্তির সম্মিলন প্রচীনকাল থেকেই এক বিশেষ আবহ নিয়ে বিরাজমান ।নিম্নে ব্যবসায়িক পরিবেশের উপাদানসমূহ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দেখানো হলোঃ

১.প্রাকৃতিক উপাদানঃ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশের অধিকাংশ উপাদানই ব্যবসায়ের অনূকুল । ভূ-ভাগ কৃষিজ ভোগ্য পণ্য ও কাঁচামাল উৎপাদনে সহায়ক , ছোট পাহড়-টিলা চা উৎপাদন করে যাচ্ছে , বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মনোরম পাহাড় খুবই আকর্ষণীয় ।

২. অর্থনৈতিক পরিবেশঃ সস্তা শ্রমিকের সহজ লভ্যর কারণে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা খুব সহজেই বিনিয়োগ করে । তবে জনগণের মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় সঞ্চয় ও মূলধন কম ।ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম শহরে সীমিত ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কিছুই করতে পারে না ।

৩.সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশঃ বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের কিছু উপাদান বাদ দিলে তা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অনুকুলেই বলা চলে ।জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে মানবসম্পদ বেশি , যা ইতিবাচক ।আমাদের দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণা উন্নয়ন বিরধী নয় ।

৪.রাজনৈতিক উপাদানঃ ব্যবসা বানিজ্যের উপর রাজনৈতিক পরিবেশের উপাদানসমূহের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে বিশেষভাবে লক্ষনীয় । ধর্মঘট , হরতাল ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগের পথে বড় ধরণের অন্তরায় ।গণতন্ত্রের অনুশীলনে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃঢ় প্রচেষ্টা , আইনের শাসনের প্রতি কতৃত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাবোধই এই অবস্থার উওরণ ঘটাতে পারে ।

৫.প্রযুক্তিগত উপাদানঃ বর্তমান তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ভিন্ন কোনো ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় ।বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে প্রযুক্তি ব্যবহার এখনো সীমিত । শুধুমাত্র কিছু কিছু বড় কর্পোরেট ব্যবসায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় ।দেশের ব্যবসায় পরিবেশ পরিস্থিত ধারায় এগুলো প্রযুক্তিগত পরিবেশের ও উন্নয়ন ঘটবে ।

৬.আইনগত উপাদানঃ বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে আইনগত উপাদান ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা আধুনিক ও যুগোপযোগী হলে ও অনেক আইনই যথেষ্ট পুরানো ।পণ্য বিক্রয় আইন ১৯৩০ , সাধারণ বাহক আইন ১৮৬৫ , সমবায় আইন ২০০১ ।আইনের চেয়ে ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আইনের প্র‍য়োগ ।

বাংলাদেশের ব্যবসায় পরিবেশ উন্নয়নে সমস্যা

. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
২. সরকারি ভূমিকার দুর্বলতা
৩. আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা
৪. শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব
৫. সুশাসনের অভাব ।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party