অধ্যায় ২ঃ অংশীদারি ব্যবসায় হিসাব

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ২ঃ অংশীদারি ব্যবসায় হিসাব

এই অধ্যায়ে আমাদের আলোচ্য বিষয়:

– অংশীদারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান

– লাভ লোকসান আবন্টন হিসাব

– অংশীদারদের মূলধন বিবরণী

অংশীদারি ব্যবসায়ঃ

২ থেকে ২০ জন ব্যক্তি মিলে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে নিজেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে তাকে বলে অংশীদারি ব্যবসায়।

অংশীদারি ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে চুক্তি।

লাভ লোকসান আবন্টন হিসাব:

লাভ লোকসান আবন্টন হিসাবে অংশীদার এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের মধ্যে পারস্পরিক দেনাপাওনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় করা হয়, এর মাধ্যমে বন্টনযোগ্য লাভ বা লোকসান নির্ণয় করা হয় এবং শেষে চুক্তি অনুযায়ী ফলাফল বন্টন করে দেখানো হয়।

লাভ লোকসান আবন্টন হিসাবে মূলতপ্রতিষ্ঠানেরনিটলাভের সাথে অংশীদারদেরস্বার্থ-সংশ্লিষ্টদফাযেমন; মূলধন এর সুদ, উত্তোলনের সুদ, বেতন, কমিশন এবং পণ্য উত্তোলনসমন্বয় করা হয়।

অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কিছু চুক্তিতে উল্লেখ থাকে, আবার কিছু কিছু জিনিস চুক্তিতে উল্লেখ থাকে না।

চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলে নিন্মোক্ত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়:

* লাভ-ক্ষতি সমান হারে বন্টিত হবে।

* অংশীদারদের কোন বেতন বা কমিশন দেওয়া হবে না।

* মূলধন, উত্তোলনের ওপর সূদ ধার্য করা যাবে না।

* অংশীদার কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের ওপর ৬% বার্ষিক সুদ ধার্য করতে হবে।

অংশীদারদের মূলধন হিসাব:

অংশীদারদের মূলধন হিসেবে তাদের মালিকানা স্বত্বের পরিমাণ, পরিবর্তন লিপিবদ্ধ থাকে।

অংশীদারদের মূলধন হিসাব সংরক্ষণ করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে :

১) পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতি

‌২) স্থিতিশীল মুলধন পদ্ধতি

পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে মূলধন সংক্রান্ত সকল দফা একইমূলধন হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।এই পদ্ধতিতে বেতন, মূলধনের সুদ, অংশীদারদের ঋণের সুদ, উত্তোলন, উত্তোলনের সুদ, লাভের অংশ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে মূলধনের হ্রাস-বৃদ্ধি বা পরিবর্তন ঘটানো হয়।

* এই পদ্ধতিতে আলাদা উত্তোলন হিসাব তৈরি করা হয়।

*  মূলধন হিসাবতৈরিরসময় প্রারম্ভিক উদ্বৃত্তের সাথে যোগ হয় বা ক্রেডিট পক্ষে বসে: অতিরিক্ত মূলধন, লাভ লোকসান আবন্টন হিসাব থেকে প্রাপ্ত (মূলধনের সুদ, বেতন, কমিশন, ঋণের সুদ, মুনাফার অংশ ইত্যাদি)।

* এবং বিয়োগ হয় বা ডেবিট পাশে বসে: উত্তোলন, লাভ লোকসান আবন্টন হিসাব থেকে প্রাপ্ত (পণ্য উত্তোলন, উত্তোলনের সুদ, ক্ষতির অংশ ইত্যাদি)।

স্থিতিশীল মুলধন পদ্ধতি: স্থিতিশীল মূলধন পদ্ধতিতে দুটি আলাদা মূলধন হিসাব তৈরি করা হয়;

ক. অংশীদারদের মূলধন হিসাব

খ. অংশীদারদের চলতি হিসাব

অংশীদারদের মূলধন হিসাব শুধুমাত্র অংশীদারদের প্রদত্ত মূলধন নিয়েই তৈরি করা হয়। এই হিসাবে শুধু মূলধনের প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত এবং অতিরিক্ত মূলধন আসে।

* অংশীদারদের মূলধন হিসাব সর্বদা ক্রেডিট উদ্বৃত্ত প্রকাশ করে।

মূলধন সংক্রান্ত অন্যান্য সকল দফা অংশীদারদের চলতি হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। এই পদ্ধতিতে আলাদা করে উত্তোলন হিসাব প্রস্তুত করা হয় না। ‌

*অংশীদারদের চলতি হিসাবে প্রারম্ভিক উদ্বৃত্তের সাথে যোগ হয়: লাভ লোকসান আবন্টন হিসাব হতে প্রাপ্ত (মূলধনের সুদ বেতন কমিশন ঋণের সুদ ও মুনাফার অংশ)।

* এবং বিয়োগ হয় বা ডেবিট পাশে বসে : উত্তোলন, লাভ লোকসান আবন্টন হিসাব থেকে প্রাপ্ত (পণ্য উত্তোলন, উত্তোলনের সুদ, ক্ষতির অংশ ইত্যাদি)।

* অংশীদারদের চলতি হিসাব ক্রেডিট বা ডেবিট যেকোনো উদ্বৃত্ত প্রকাশ করতে পারে।

কোন উচ্চতাই কিন্তু মানুষ এক লাফে পার হতে পারে না। এর জন্য দরকার অধ্যবসায় এবং সঠিক দিক নির্দেশনা। আশা করছি, তোমরা নিজেদের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সকল স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। সকলের জন্য শুভকামনা।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party