অধ্যায় ২ঃব্যবস্থাপনা নীতি

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২য় পত্র)

অধ্যায় ২ঃব্যবস্থাপনা নীতি

গুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবস্থাপনা নীতির ধারণা,ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ,আদর্শ ব্যবস্থাপকের দক্ষতা,আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুণাবলি, আদর্শ ব্যবস্থাপকের ভূমিকা,সংগঠন, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক, বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনার সমস্যা।

অধিকগুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবস্থাপনা নীতির ধারণা,ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ,আদর্শ ব্যবস্থাপকের দক্ষতা,আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুণাবলি, আদর্শ ব্যবস্থাপকের ভূমিকা।

ব্যবস্থাপনা নীতির ধারণা

ব্যবস্থাপনা নীতি হলো কার্যসম্পাদনে দীর্ঘ অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সত্যবলে প্রতিষ্ঠিত কতিপয় সাধারণ নির্দেশিকা।
দীর্ঘদিনে ব্যবস্থাপনা কার্যপরিচালনা করতে যেয়ে ব্যবস্থাপক যেসকল নীতি-নিয়ম পালন করে এসেছেন তার মধ্য হতে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য বা সত্যবলে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম-নির্দেশিকাই ব্যবস্থাপনার নীতি হিসেবে গণ্য।এরূপ নীতিসমূহ দীর্ঘ অনুশীলনের মধ্যদিয়ে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকে যা সর্বজনীনভাবে প্রয়োগযোগ্য।

ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ

◾কর্মবিভাজন বা কার্যবিভাগের নীতিঃ প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্নভাগে ভাগ করে প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করার নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় কার্যবিভাজনের নীতি বলে।
যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই অসংখ্য কাজ থাকে, আর এসকল কাজ যদি ভাগ করে না দেয়া হয় তবে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।তাই একজন ব্যবস্থাপককে সবসময়ই সতর্কতার সাথে কর্মীদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিতে হবে। এতে তাদের তত্ত্বাবধানে সহায়তা হয়।

◾কর্তৃত্ব ও দায়িত্বে সমতা রক্ষণের নীতিঃ কর্তৃত্ব হলো আদেশ দানের অধিকার।অন্যদিকে দায়িত্ব হলো জবাবদিহি করার বাধ্যবাধকতা । এই অধিকার ও বাধ্যবাধকতার সমতা রক্ষার নীতিকেই কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সমতা রক্ষণ বলে।কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে সঠিকভাবে কাজ পেতে চাইলে তাকে যেমনি কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয় তেমনি উভয়ের মধ্যে যাতে সমতা বজায় থাকে সেটিও নিশ্চিত করা আবশ্যক । সবার কাজ ঠিক ভাবে করছে কিনা তা দেখতে হবে, তেমনি কেউ কাজ করলে তারও তত্ত্বাবধান করতে হবে।

◾কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের নীতিঃ প্রতিষ্ঠানের কোন ধরণের সিদ্ধান্ত ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে গ্রহণ করা হবে এ বিষয়ক নীতিকেই কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ বলে ।যদি এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার উপরিপর্যায়ে সংরক্ষণ করা হয় তাকে কেন্দ্রীকরণ বলে । অন্যদিকে এরূপ ক্ষমতা নিচেরপর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের হাতে ছেড়ে দেয়া হলে তাকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে ।

◾আদেশের ঐক্য নীতিঃ একজন কর্মীর আদেশকর্তা হবেন একজনমাত্র ব্যক্তি-এরূপ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করণের নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় আদেশের ঐক্য নীতি বলে । অর্থাৎ , কোনো অধস্তন একজন ঊধ্বর্তন এর নিকট থেকেই সরাসরি আদেশ লাভ করবে এবং তার কাজের জন্য ঐ ঊধ্বর্তন এর নিকট জবাবদিহি করবে ।

◾নির্দেশনার ঐক্য নীতিঃ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পূর্ব নির্দেশনার সাথে মিল রেখে পরর্বতী নির্দেশনা প্রদানের কাজকেই ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনার ঐক্য নীতি বলে।
একটা সমগ্রিক উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে তার আলোকে প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে।

◾সাধারণ স্বার্থে নিজস্ব স্বার্থ ত্যাগের নীতিঃ ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে প্রাতিষ্ঠানিক বা সাধারণ স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রদানের নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় সাধারণ স্বার্থে নিজস্ব স্বার্থে ত্যাগের নীতি বলে।
ব্যক্তি যদি নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করে তবে প্রতিষ্ঠানের জন্য তা সফলতা অর্জন হবে। কিন্তু যখন প্রত্যেকেই যার যার জায়গায় ব্যক্তি স্বার্থকচরিতার্থ করাকে অগ্রাধিকার দেয় তখন একপর্যায়ে দেশ ও জনগণ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

◾জোড়া – মই -শিকলের নীতিঃপ্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শুরু করে একেবারে নিচের স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক নিয়মে প্রতিটি ব্যক্তি ,বিভাগ ও উপবিভাগকে একে অন্যের সাথে যুক্ত করে দেয়ার বা একই শিকলের অধীনে সবাইকে আবদ্ধ করার নীতিকে ব্যবস্থাপনায় জোড়া – মই -শিকল নীতি বলে ।এতে শিকলের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত পারস্পরিক আবদ্ধতা কর্তৃত্বের প্রবাহ ও যোগাযোগের পথনির্দেশ করে ।

◾নিয়মানুবর্তিতার নীতিঃপ্রতিষ্ঠানের জন্য উত্তম নিয়ম -নীতি নির্ধারণ এবং তা মেনে চালার নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় নিয়মানুবর্তিতার নীতি বলে । প্রতিষ্ঠানে যথোপযুক্ত নিয়ম -নীতি না থাকলে এবং তা সংশ্লিষ্ট সবাই মান্য না করলে প্রতিষ্ঠান কখনই ভালো চলতে পারে না । সবাই সবার দায়িত্ব , কাজ সঠিকভাবে নিয়ম মতো পালন করলে , সকল কাজ যেমন সফলতার সাথে শেষ হবে তেমনি প্রতিষ্ঠান মুনাফার্জনের সুবিধা পাবে।

◾শৃঙ্খলার নীতিঃ যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে স্থাপনের নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলারনীতি বলে। অনেক সময় দেখা যায় , ব্যক্তির যোগ্যতা বা মেধার চাইতে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রেফারেন্স , ব্যক্তিগত সুপারিশকে গুরুত্ব দেয়া হয় ফলে যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থান দেয়া হয় না ফলে শৃঙ্খলার নীতি ব্যহত হয় ।কিন্তু যদি মানবসম্পদের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য বিষয়কে যোগ্য স্থানে রাখা হয় তবে প্রতিষ্ঠানের জন্য তা লাভবান ।

◾পারিশ্রমিকের নীতিঃ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীর কাজের প্রকৃতি , মেধা ,যোগ্যতা ইত্যাদি বিবেচনায় উপযুক্ত বেতন ও সুযোগ -সুবিধা প্রদানের নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় পারিশ্রমিকের নীতি বলে । প্রতিটি কর্মীর কাজ যেমন একই নয় তেমনি তাদের পারিশ্রমিক ও একই হবে না । প্রত্যেকের দক্ষতা ও কাজের ধরণ বিবেচনা করে পারিশ্রমিক দিলে দক্ষ জনবল ধরে রাখা সম্ভব ।

◾সাম্যের নীতিঃ অধস্তনদের সবার প্রতি সমান আচরণ বা স্নেহ প্রদর্শনের নীতিকেই সাম্যের নীতি বলে ৷ একজন ঊধ্বর্তন যদি অধস্তনকে সমান চোখে দেখেন , সমান আচরণ ও স্নেহ প্রদর্শন করেন তবে অধস্তনদের মাঝে ঊর্ধ্বতন সম্পর্কে সুধারণা গড়ে ওঠে ।অন্যদিকে যদি ঊর্ধ্বতন অধস্তনদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেন তাহলে কর্মীদের মধ্যে খারাপ ধারণা ও সম্পর্ক তৈরি হবে যা প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক নয় ।

◾চাকরির স্থায়িত্বের নীতিঃ কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধান করে তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টির নীতিকে চাকরির স্থায়িত্বের নীতি বলে ।চাকরি স্থায়িত্ব হলে ব্যক্তির আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায় , কাজ করার ইচ্ছে বেড়ে যায় , ফলে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠানের সকল কাজ করে নেয় , কিন্তু অন্যদিকে চাকরি স্থায়ী না হলে ব্যক্তির মনে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় , উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বাসাবাঁধে ফলে সে কাজ করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে ।

◾উদ্যোগের নীতিঃ প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণ স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে যাতে উদ্যোগী হতে পারে বা নিজের কাজের উন্নয়ন বিষয়ে ভাবতে পারে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার সুযোগ সৃষ্টিকেই ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগের নীতি বলে ।ঊধ্বর্তন প্রতিষ্ঠানের সকল সমস্যা সমাধান করতে কিছুটা জটিলতার মধ্যে পড়ে যায় , তাই যদি প্রতিটি ব্যক্তি , তার নিজ নিজ সমস্যার সমাধান করে ঊধ্বর্তনের সাথে পরামর্শ করেন তবে ঊধ্বর্তনের জটিলতা কমে যায় এবং ব্যক্তি উদ্যোগী হতে পারে ।

◾একতাই বলঃ প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সকল ব্যক্তি , বিভাগ ও উপবিভাগকে সর্বাবস্থায় ঐক্যবদ্ধ থেকে পারস্পরিক সহযোগিতায় কর্মকান্ড পরিচালনার নীতিকেই ব্যবস্থাপনায় একতাই বল নীতি বলে ।

বর্তমানে আরো কিছু নীতি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনায় সাধারণ দিক-নির্দেশনা দিতে পারে বলে মনে করা হয় –

১.নমনীয়তার নীতিঃ চিন্তা, কাজ ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনে পরিবর্তন এনে প্রচেষ্টাকে লক্ষ্যাভিমুখী করার নীতিকেই নমনীয়তার নীতি বলে ।ব্যবসায়ে নিত্য নতুন বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে , এইসব সমস্যা মোকাবিলার জন্য তৎক্ষনাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ রাখতে হয় । এতে সাফল্যার্জনের সুযোগ থাকে ।

২.ভারসাম্যের নীতিঃ ভারসাম্যের নীতি বলতে প্রতিটি ব্যক্তি , বিভাগ ও উপবিভাগীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় বিধান এবং সমতালে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য সৃষ্টিকে বুঝায় ।কোনো বিভাগের কাজের দায়িত্ব এবং গুরুত্ব বুঝে লোকবল ও সামর্থ্য নিয়োজিত করা উচিত ;যাতে কোনো বিভাগ অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে না পড়ে ।সকল বিভাগ , উপবিভাগ ও ব্যক্তির কাজ ভারসাম্যপূর্ণ হলে তা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজে ভারসাম্যাবস্থার সৃষ্টি করে ।

৩.ব্যতিক্রমের নীতিঃব্যবস্থাপক কোন ক্ষেত্রে তার দৃষ্টি অধিক নিবন্ধ করবে এরূপ নীতিতে তার প্রতি আলোকপাত করা হয়ে থাকে ।একজন ব্যবস্থাপকের পক্ষে তার সবগুলো কাজ সমান গুরুত্ব দিয়ে করা সম্ভব হয় না । এজন্য কোন কাজটি উদ্দেশ্য অর্জনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ , কোন ক্ষেত্রে অধিক বিচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনা বিদ্যমান ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে সেভাবে দৃষ্টিপ্রদান এবং ব্যবস্থাপনা কার্যপরিচালনা করা আবশ্যক ।

আদর্শ ব্যবস্থাপকের দক্ষতা

সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে ও কম খরচে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারাই হলো দক্ষতা ।ব্যবস্থাপকের দক্ষতা বলতে একজন ব্যবস্থাপকের ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সঠিকভাবে ও সঠিকসময়ে যোগ্যতার সঙ্গে এবং স্বল্পব্যয়ে সম্পাদন করার সামর্থ্যকে বুঝায় ।

১.কারিগরি দক্ষতাঃপ্রতিটি কাজ সম্পাদনে যে পদ্ধতি ,কৌশল বা যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারা কারিগরি দক্ষতা হিসেবে গণ্য ।যেমন, একজন উকিল একটা কেস যেভাবে সুন্দর করে সাজানো ও বক্তব্য তুলে ধরেন আরেকজন সেভাবে পারে না । এক্ষেত্রে পার্থক্য কারিগরি দক্ষতার ।কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জ্ঞান যেমনি কারিগরি দক্ষতা তেমনি কোম্পানির হিসাব সংরক্ষণ , উদ্বৃত্তপত্র তৈরি ,হিসাবনিরীক্ষার জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতার আওতাধীন ।

২.মানবীয় বা আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতাঃ মানুষের সাথে মিশতে পারার এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করে কাজ আদায় করতে পারার দক্ষতাকেই মানবীয় বা আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বলে । ব্যবস্থাপনার কাজ মূলত মানুষ চালানো ।প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে বিভিন্ন মানুষের সাথে ব্যবস্থাপককে মিশতে হয় ,মতবিনিময় করতে হয় ।তাদের প্রত্যাশা ও সমস্যা বুঝতে হয় , তাদের মনের ও পর প্রভাব সৃষ্টি করে নিজের কাজটি করিয়ে নিতে হয় ।তাই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানবীয় দক্ষতা খুবই আবশ্যক বিবেচিত হয়ে থাকে ।

৩.ধারণাগত বা কল্পনা সংক্রান্ত দক্ষতাঃ ভবিষ্যৎ অবস্থা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা করতে পারার সামর্থ্যকেই ব্যবস্থাপকের কল্পনা সংক্রান্ত দক্ষতা বলে ।আগাম কোনো বিষয়ে ধারণা করতে পারাই শুরু নয়, উদ্ভুদ্ধ অবস্থায় কী ধরনের কার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ সুফল লাভ করা যাবে এ বিষয়ে ধারণা করতে পারা ও এরূপ দক্ষতার অন্তর্ভুক্ত ।প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল , দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় বিধায় প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহীদের এ ধরনের দক্ষতা অধিক প্রয়োজন ।

৪.সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতাঃ কোনো সমস্যা ও এর প্রকৃতি দ্রুত আঁচ করতে পারার সামর্থ্যকেই সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতা বলে ।প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতেই হয় , শুরুতেই যদি এসব সমস্যা মোকাবিলা করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে তা থেকে পরিত্রাণ কষ্টকর।তাই শুরুতেই সমস্যা বুঝে ,সমাধানের সর্বত্তোম ব্যবস্থা গ্রহণ যথোপযুক্ত ।

আদর্শ ব্যবস্থাপকের গুণাবলি

ব্যবসায়ের সফলতার জন্য একজন ব্যবস্থাপকের যেসকল গুণাবলি থাকা প্রয়োজন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

১.সাধারণ শিক্ষা ও জ্ঞানঃ যেকোনো কাজ করতে হলে তার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরী । তাই একজন ব্যবস্থাপকের দায়িত্বপালনে উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

২.অভিজ্ঞতাঃঅভিজ্ঞতা বলতে কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে অর্জিত ও লব্ধজ্ঞানকে বুঝায় ।বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা ও কার্যকলাপের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একজন ব্যবস্থাপককে পূর্ণতা দান করে ।শিক্ষিত কম হওয়ার পরও যারা ব্যবসায়ে ভালো করছন , এটা সম্ভব হয়েছে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই ।

৩.শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যঃ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা , শক্তি ও দৃঢ়তাকে এধরনের যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপককে খুবই শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় ।এছাড়া নানান প্রতিকূল অবস্থা ও ঝামেলার মধ্যে তাকে চলার যথেষ্ট মানসিক ভারসাম্যপূর্ণ ও দৃঢ় হওয়ার প্রয়োজন পড়ে ।

৪.আন্তরিকতা ও সংকল্পবদ্ধতাঃকোনো কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কর্তব্য -কাজে একাগ্র ও মনযোগী হলে তাকে আন্তরিকতা বলে ।সকলের সাথে আন্তরিকতার সাথে যোগাযোগ না করলে সখ্যতা গড়ে ওঠে না ।অন্যদিকে সেই সাথে একজন ব্যবস্থাপক এ পেশায় ব্যক্তিক উন্নয়নের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ না হলে তার পক্ষে ভালো ব্যবস্থাপক হওয়া সম্ভব হয় না।

৫.যোগাযোগ দক্ষতাঃঅন্যের বা অন্যদের নিকট সঠিক উপায় বা পদ্ধতিতে নিজের বক্তব্য কার্যকরভাবে তুলে ধরে উদ্দেশ্য অর্জনের সামর্থকে যোগাযোগ দক্ষতা বলে ।যে ব্যবস্থাপক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথে যত বেশি যোগাযোগ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন কার্যক্ষেত্রে তার পক্ষেই ততবেশি কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়ে থাকে ।

৬.অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতাঃঅনুপ্রাণিত করা বলতে অন্যদেরকে উৎসাহিত শক্তি সঞ্চারিত ও কাজে উদ্দীপ্ত করাকে বুঝায় । ব্যবস্থাপনার কাজই হলো অন্যদের দ্বারা কাজ করিয়ে নেয়া , অর্থাৎ অন্যকে অনুপ্রাণিত করে কাজ আদায় করিয়ে নেয়া ।তাই প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে অনুপ্রাণিত ও প্ররোচিত করার ক্ষমতা ব্যবস্থাপকের একটি অন্যতম গুণ হিসেবে বিবেচিত ।

৭.প্রজ্ঞা বা দূরদর্শীঃজ্ঞান চক্ষু বা বিশেষ জ্ঞান দ্বারা ভবিষ্যৎকে উপলব্ধি বা বুঝতে পারার সামর্থ্যকেই প্রজ্ঞা বা দূরদর্শী বলে ।ব্যবস্থাপক যদি বর্তমান অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক অনুমান করতে ব্যর্থ হয় তবে তার পক্ষে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না ।একজন দূরদর্শী প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যোগ্য ও সফল ব্যবস্থাপক হিসেবে সহজেই প্রতিষ্ঠানের লাভ করতে পারে ।

৮.তীক্ষ্মবুদ্ধিমত্তাঃ বোধশক্তি , বিচারশক্তি , জ্ঞান ও মেধাশক্তির সম্মিলিত রূপকে বুদ্ধিমত্তা বলে ।সকল কাজে ও সকলের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যবস্থাপকের তীক্ষ্মবুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।তাই প্রয়োজনীয় বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হওয়া ব্যবস্থাপকের একটি অন্যতম গুণ ।

৯.সংযত ব্যক্তিত্বঃ চিন্তা , কাজ , কথা ও আচরণে কোনো ব্যক্তি ভদ্র , মার্জিত , বিনয়ী , দৃঢ় ও আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন হলে অন্যের নিকট ব্যক্তির যে আকর্ষণীয় রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তাকে ব্যক্তিত্ব বলে ।বিচিত্র মনের কর্মী ও বিচিত্র পরিবেশের মধ্যে ও সবদিক বজায় রেখে চলতে হলে ব্যবস্থাপককে অবশ্যই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে ।

আদর্শ ব্যবস্থাপকের ভূমিকা

◾আন্তঃব্যক্তিক ভূমিকাঃ অন্যের সাথে কথা বলা ও আলাপ -আলোচনা করার কাজকে একজন ব্যবস্থাপকের আন্তঃব্যক্তিক ভূমিকা বলে ।একজন ব্যবস্থাপককে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে কর্মী বা অন্যান্য ব্যক্তির সাথে কথা বা আলাপ -আলোচনা করতে হয় ।প্রতিষ্ঠানের বাহিরে ও বিভিন্ন পক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষার প্রয়োজন পড়ে , তাই ব্যবস্থাপক যদি এসকল ব্যক্তির সাথে কথা বলা ও আলাপ -আলোচনা করতে বিরক্ত হন তাহলে তার পক্ষে এ ভূমিকা পালন সম্ভব হয় না ।

◾তথ্য সংশ্লিষ্ট ভূমিকাঃ প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য প্রদান সংক্রান্ত ব্যবস্থাপকের কাজকেই তথ্য সংশ্লিষ্ট ভূমিকা বলে ।সাধারণ একজন ব্যবস্থাপকের কথাই যদি ধরা যায় তবে দেখা যায় তাকে সকালে প্রতিষ্ঠানে ঢুকেই সকল কর্মী প্রতিষ্ঠানে এসেছে কিনা সে বিষয়ে তথ্য নিতে হয় ।কাঁচামাল আসলো কিনা , উৎপাদন ঠিকমত হচ্ছে কিনা ,সমস্যা থাকলে সমস্যার কারণ কী ,মাল বিক্রয় হচ্ছে কিনা ,মজুত কী রয়েছে ইত্যাদি নানান তথ্য তার কাছে থাকতে হয় । এছাড়া ঊর্ধ্বতন বা মালিকদের বিভিন্ন তথ্য দিতে হয় । এভাবে তথ্য সংগ্রাহক , সংরক্ষণ ও প্রচারক হিসেবে একটা প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপকের প্রাত্যহিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ।

◾সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকাঃ প্রাত্যহিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণের কাজকেই সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা বলে ।একজন ব্যবস্থাপককে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় বা করণীয় নির্ধারণ করতে হয় , সিদ্ধান্ত দিতে হয় ,সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখতে হয় সবকিছুই ব্যবস্থাপকের প্রাত্যহিক সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকার মধ্যে পড়ে ।

সংগঠন, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপকরণাদি সংহত ও সমন্বিত করার কৌশলকে সংগঠন বলে।সংগঠনকে প্রতিষ্ঠান অর্থে ধরা হলে-এটি হলো কতিপয় ব্যক্তির সংঘবদ্ধ সম্পর্কের কাঠামো।তাই প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন কতিপয় ব্যক্তি লক্ষ্যার্জনের জন্য একত্রে কাজ করে।

উপকরণাদিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যার্জনের জন্য পরিকল্পনা , সংগঠন , কর্মীসংস্থান , নেতৃত্বদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকে ব্যবস্থাপনা বলে ।মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণ যতোই উন্নত হোক না কেন ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা না হলে তা কার্যক্ষেত্রে কোনোই ফল দিতে পারে না ।এরূপ উপকরণাদি কোথাও একত্রে থাকলেই তা সংগঠন হয় না তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগ সাজিয়ে তাদের প্রত্যেকের করণীয় নির্ধারণ করে দিতে হয় ।

◾প্রশাসনঃব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে প্রশাসক এবং তাদের কর্ম প্রয়াস বা প্রচেষ্টাকে প্রশাসন বলে । প্রশাসন হলো মানবদেহের মস্তিষ্ক স্বরূপ ।কারণ মস্তিষ্ক করণীয় নির্দেশ করে ; যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা বাস্তবায়িত হয়।প্রশাসন প্রতিষ্ঠানে নীতি ও উদ্দেশ্য ঠিক করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থাপনা ও সংগঠনের সহায়তা গ্রহণ করে ।

বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনার সমস্যা

১.প্রতিযোগী ব্যবসায়পরিবেশের অভাব
২. পেশা হিসেবে মর্যাদার অভাব
৩. সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অভাব
৪. দক্ষ ব্যবস্থাপকের অভাব
৫. আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব
৬. প্রশিক্ষণের অভাব
৭. শ্রমিক- ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের অভাব
৮. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা

Neshat Tasnim

Executive of SILSWA

Tourism and Hospitality Management

University of Dhaka

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party