অধ্যায় ১১ঃ ব্যবসায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ১১ঃ ব্যবসায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

গুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা,ব্যবসায় যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা, অনলাইন ব্যবসায়, ই-ব্যবসায়/ ই-বিজনেস, ই-কমার্স,ই-মার্কেটিং, ই-রিটেইলিং, ই-ব্যাংকিং,ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং।

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা, অনলাইন ব্যবসায়, ই-ব্যবসায়/ ই-বিজনেস, ই-কমার্স,ই-মার্কেটিং, ই-রিটেইলিং, ই-ব্যাংকিং,ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং।

ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা

উপাত্ত সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ইত্যাদির পাশাপাশি ইন্টারনেট প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান ও যোগাযোগ স্থাপনের প্রযুক্তিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে।

দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত, তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট আধুনিক কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থাকে তথ্য প্রযুক্তি বলে।

ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ও স্যাটেলাইটের সাহায্যে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদান ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রযুক্তিকেই যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে।

ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা

১.তথ্যের দ্রুত প্রেরণঃ যোগাযোগের উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে চোখের নিমেষে যে কোনো তথ্য যে কোনো দূরবর্তী গ্রাহকের নিকট পৌঁছানো সম্ভব।ফেসবুকে যেমনি যে কোনো তথ্য,সংবাদ বা ছবি দ্রুত দেশ-বিদেশের বন্ধুদের কাছে পাঠানো যায়।

২.দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবস্থাপকগণ দ্রুত যে কোনো ব্যবসায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়ে থাকে। কম্পিউটারের বাটনে চাপ দিয়ে তার মাধ্যমে তারা পৃথিবীর যে কোনো স্থানের যে কোনো উৎস থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।ফলে দ্রুত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব।

৩.যোগাযোগ ব্যয় হ্রাসঃ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি শুধুমাত্র যোগাযোগের সময়ই সাশ্রয় করে না যোগাযোগ ব্যয় কমাতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ই-মেইলের মাধ্যমে সাধারণ ডাকে পত্র প্রেরণের খরচ অপেক্ষা অনেক কম খরচে তথ্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রেরণ করা যায়।এভাবে আরো বিভিন্ন উপায় রয়েছে।

৪.কাজের গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে দ্রুত তথ্য পাওয়ায় যেমনি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় তেমনি এতে কাজের গতিও অনেক বৃদ্ধি পায়। অনেকের সাথে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। একজন তথ্য জ্ঞানসমৃদ্ধ মানুষ স্বভাবতই সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে পারায় তার কর্মদক্ষতা অনেক বাড়ে।

৫.প্রতিযোগিতার সামর্থ্য বৃদ্ধিঃ এরূপ প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার সামর্থ্যও বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করতে পারার কারণে এগিয়ে।

অনলাইন ব্যবসায়

নেটওয়ার্কের আওতায় কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত ও কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত চলমান ব্যবস্থার অধীন ব্যবসায়কেই অনলাইন ব্যবসায় বলে।

অনলাইন ব্যবসায়ের কিছু ধরণ দেখানো হলো-

অনলাইন মার্কেটিংঃ অনলাইনে পণ্য,সেবা ও তথ্য বিক্রয় কার্যকে অনলাইন মার্কেটিং বলে।এক্ষেত্রে উৎপাদক সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করলে তাকে সরাসরি মার্কেটিং বলা হয়।

অনলাইন নিলামঃ যে সকল প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে পণ্য একত্রে কেনে তারা তাদের ওয়েব পেজে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তথ্য পরিবেশন করে। সরবরাহকারীরা উক্ত ওয়েব থেকে তাদের মূল্য ও শর্ত জানিয়ে নিলাম ডাক-এ অংশ নেয়। তারপরে তাদের মধ্য থেকে উত্তম ডাককারীকে আবেদন গ্রহণ করে পণ্য ক্রয় করা হয়।

অনলাইন ক্রেতা গোষ্ঠীঃ বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ বৃহৎ পরিমাণ বিক্রয়ে লোভনীয় ছাড় বা বাট্টা দেয়। এরূপ বাট্টা প্রাপ্তির জন্য একই ধরনের পণ্যের বিক্রেতারা একত্রে পণ্য ক্রয় করতে পারে।এদেরকে অনলাইন ক্রেতা গোষ্ঠী বলে।

অনলাইন শপিংঃ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে পণ্য ক্রয়কে অনলাইন শপিং বলে। এরূপ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ক্যাটালগ দেয়া থাকে।ক্রেতা পছন্দমতো পণ্য ও পরিমাণ অনলাইনে বিক্রেতাকে জানায়।

অনলাইন আসন সংরক্ষণঃ হোটেলে,বিমানে,ট্রেনেসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সীট বা রুম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এখন গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ই-টিকেটিং এ ধরনের অনলাইন ব্যবসায়।

অনলাইন অর্থায়নঃ বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ওয়েব সাইটে নতুন প্রজেক্ট বর্ণনাপূর্বক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থায়নের জন্য প্রস্তাব তুলে ধরে। এছাড়াও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ অর্থায়ন করে থাকে।

ই-ব্যবসায়/ই-বিজনেস

উৎপাদন ও বন্টন সংক্রান্ত ব্যবসায়িক সকল কার্যক্রমের সহায়তায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগকেই ই-বিজনেস বলে।
প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ধারণাকে পণ্য বা সেবায় পরিণতকরণ, পণ্য ও সেবা উৎপাদন, বিপণন এবং বিক্রয় পরবর্তী সেবা বা সাপোর্ট প্রদান কাজকে ফলপ্রদ করতে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ প্রযুক্তিগত সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য ই-বিজনেসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হলো-

১.ইলেকট্রনিক ক্রয় ও বিক্রয়
২.ইলেকট্রনিক পদ্ধিতিতে ফরমায়েশ প্রদান
৩.গ্রাহক সেবা সুবিধা পরিচালনা
৪.সহযোগী ব্যবসায় অংশীদারদের সহযোগিতা প্রদান

ই-কমার্স

ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য,সেবা ও তথ্য বন্টন তথা ক্রয় বিক্রয়,হস্তান্তর বা বিনিময় কার্যকেই ই-কমার্স বলে।

এটি মূলত পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত।এছাড়াও এর অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো –

১.ইন্টারনেট মার্কেটিং।
২.মোবাইল বাণিজ্য
৩.ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার
৪.সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট
৫.অনলাইন লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ
৬. ইলেকট্রনিক তথ্য বিনিময়
৭. মজুদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

ই-মার্কেটিং

ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষতার সাথে মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনাকে ই-মার্কেটিং বলে। ই-মার্কেট ই-বিজনেস এর একটি শাখা। গ্রাহকদের চাহিদা শনাক্তকরণ, এজন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ, গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ, কৌশল নির্ধারণ, বিভিন্ন ধরনের বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা ইত্যাদি ই-মার্কেটিং এর কাজ।

ই-রিটেইলিং

কোনোরূপ মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ব্যতিরেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহকদের নিকট পণ্য ও সেবা বিক্রয়ের ব্যবস্থাকে ই-রিটেইলিং বলে।
ক্রেতা ইন্টারনেটে দোকানের ওয়েব সাইটে যেয়ে পণ্য ও মূল্য তালিকা সার্চ করেন। পণ্য পছন্দ করে অর্ডার দেয়া হয়, অর্থ পরিশোধের জন্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সরাসরি গ্রাহকদের নিকট পণ্য পৌঁছে দেয়।

ই-ব্যাংকিং

আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি দ্রুত, নির্ভুল ও বিস্তৃত কার্য পরিচালনায় সক্ষম ব্যাংক ব্যবস্থাকেই ই-ব্যাংকিং বলে।
ইলেকট্রনিক ব্যাংকের সেবা সুবিধাসমূহ হলো-

১.স্বয়ংক্রিয় গণনা যন্ত্র
২. ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড
৩.অন-লাইন ব্যাংকিং
৪. হোম ব্যাংকিং
৫.মোবাইল ব্যাংকিং
৬.বিক্রয় বিন্দু সেবা
৭. স্বয়ংক্রিয় নিকাশঘর ইত্যাদি।

ডেবিট কার্ড

তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন ও ফান্ড ট্রন্সফারের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থানির্ভর ডেবিট কার্ড অন্যতম পদ্ধতি। এটি চুম্বকীয় শক্তিসম্পন্ন সাংকেতিক নম্বরযুক্ত এবং গ্রাহকদের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত এক ধরনের প্লাস্টিক কার্ড।এক্ষেত্রে সবার আলাদা PIN থাকে। সাধারণত ২৪ ঘন্টায় দুবার এরূপ কার্ড ব্যবহার করা যায়।

ক্রেডিট কার্ড

ঋণ সুবিধা সম্বলিত চুম্বকীয় শক্তিসম্পন্ন যে প্লাস্টিক কার্ড ব্যাংক তার গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন ও ফান্ড স্থানান্তরের জন্য সরবরাহ করে তাকে ক্রেডিট কার্ড বলে।
একজন গ্রাহকের কতটাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। এই ক্রেডিট সীমা ডেবিট ব্যালেন্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠান থেকে পন্য বা সেবা ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ বাবদ তা বারবার ব্যবহার করতে পারে।

মোবাইল ব্যাংকিং

তারবিহিন টেলিকম্যুনিকেশন ব্যবস্থায় মোবাইল হান্ডসেট ব্যবহার করে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য প্রদান ও লেনদেন করাকে মোবাইল ব্যাংকিং বলে।
ব্যাংকের আর্থিক ও হিসাব সংক্রান্ত ডাটাবেজ ঢুকে দ্রুততার সাথে নিজের তথ্য বের করে আনার ও লেনদেন করার চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করেছে মোবাইল ব্যাংকিং। বাংলাদেশে ব্রাক ব্যাংক বিকাশ নামে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে।



Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party