অধ্যায় ১০ঃ আর্থিক বিবরণী

SSC / হিসাববিজ্ঞান

অধ্যায় ১০ঃ আর্থিক বিবরণী

আর্থিক বিবরণীর ধারনাঃ

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা জানার জন্য অন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুযায়ী পঁচ প্রকারের আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয়। ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নের অন্যতম ভিত্তি আর্থিক বিবরণী। আন্তজার্তিক হিসাব নাম -০১ (IAS-01) অনুযায়ী ৫ প্রকারের আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয়ঃ

১. বিশদ আয় বিবরনী (Statement of Comprehensive Income)
২. মালিকানাস্বত্ব বিবরণী (Statement of Changes in Equity)
৩. আর্থিক অবস্থার বিবরনী (Statement of Financial Position)
৪. নগদ প্রবাহ বিবরনী (Statement of Cash Flows)
৫. আর্থিক অবস্থায় বিবরনীতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় নোট ও গুরুত্বপূর্ন হিসাবের কি নীতিমালা। (Notes, Compromising a summary of significant accounting policies and other explanatory information)

৯ম-১০ম শ্রেনীতে পর্যায়ে প্রথম তিনটি ধাপের ধারনা ও প্রস্তুত প্রনালী বর্ণনা করা হলোঃ

  • বিশদ আয় বিবরণীঃ বিশদ আয় বিবরণীতে মুনাফা জাতীয় আয় ও ব্যয় লিপিবদ্ধ করা হয়। হিসাবকাল ধারনা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট হিসাব কালের শেষে বিশদ আয় বিবরণীর আর্থিক ফলাফল জানা যায়।
পরিচালন আয়অপরিচালন আয়বিক্রীত পণ্যের ব্যয়পরিচালন ব্যয়অপরিচালন ব্যয়
 পণ্য বিক্রয়
সেবা আয়
 ব্যাংক আমানতের সুদ
প্রাপ্ত লভ্যাংশ
ভাড়া আয়
কমিশন আয়/ প্রাপ্ত কমিশন
স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়জনিত মুনাফা
প্রাপ্ত বাট্টা
বিনিয়োগের সুদ
 প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য
পণ্য ক্রয়
ক্রয় পরিবহন
আমদানি শুঙ্ক
জাহাজ ভাড়া
ডক চার্জ
 বেতন ভাতা
ভ্রমণ ও যাতায়াত খরচ
প্রশিক্ষণ ভাতা
ছাপা ও মনিহারি
ডাক ও তার খরচ
বিদ্যুৎ গ্যাস, পানি/ উপযোগ খরচ
অফিস ও গোডাউন ভাড়া
ইজারা ভাড়া
ব্যাংক চার্জ
বিপণন ও বিজ্ঞাপন খরচ
প্যাকিং খরচ
বিক্রয় পরিবহন
দালানকোঠার অবচয়
অফিস সরঞ্জামের অবচয়
বিক্রয় কমিশন
বিমা খরচ
আইন খরচ
বাট্টা খরচ/প্রদত্ত বাট্টা
সুনামের অবলোপন
পেটেন্টের অবলোপন
কুঋণ খরচ
আপ্যায়ন
ঋণের সুদ
ব্যাংক জমাতিরিক্তের সুদ
স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি
ঋণপত্রের সুদ
দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি/বিবিধ ক্ষতি

বিশদ আয় বিবরণীর নমুনা ছক (সেবা প্রদানকারী ব্যবসায়)
প্রতিষ্ঠানের নাম…………………
বিশদ আয় বিবরণী
………….. সালের …………… তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য

বিবরণটাকাটাকাটাকা
    আয় সমূহ : সেবা আয়
যোগ : প্রাপ্য সেবা আয়  
       সুদ আয়
ডিভিডেন্ড আয়/লভ্যাংশ প্রাপ্তি

মোট আয়

বাদ : ব্যয়সমূহ : অফিস ভাড়া
যোগ : বকেয়া
বেতন ও সম্মানী
বিদ্যুৎ ও টেলিফোন বিল
বিমা খরচ
যাতায়াত খরচ
আইন খরচ
ছাপা ও মনিহারি

নিট মুনাফা
   

বিশদ আয় বিবরণীর নমুনা ছক ( ক্রয়-বিক্রয়কারী ব্যবসায়)
প্রতিষ্ঠানের নাম…………………
বিশদ আয় বিবরণী
………….. সালের …………… তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য

বিবরণটাকাটাকাটাকা
বিক্রয়
যোগ: অলিখিত বিক্রয়
বাদ : বিক্রয় ফেরত
বাদ : বিক্রয় বাট্টা
বাদ: মুনাফাবিহীন বিক্রয়

নিট বিক্রয়
বাদ : বিক্রীত পণ্যের ব্যয়:
প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য
ক্রয়
যোগ: অলিখিত ক্রয়
বাদ : ক্রয় ফেরত
বাদ: ক্রয় বাট্টা
বাদ: মুনাফাবিহীন বিক্রয়

নিট ক্রয়

আন্তঃ পরিবহন
আমদানি শুষ্ক
বাদ: সমাপনী মজুদ পণ্য

মোট মুনাফা

বাদ : পরিচালন ব্যয়
বিক্রয় পরিবহন
বেতন
(+) বকেয়া
অফিসের ভাড়া
বিদ্যুৎ খরচ
অফিস খরচ
বাট্টা প্রদান
স্থায়ী সম্পদের মেরামত
ডাক ও তাঁর
বিজ্ঞাপন
মনিহারি
প্যাকিং খরচ
ভ্রমন খরচ
বিমা খরচ
স্থায়ী সম্পদের অবচয়
ইজারা সম্পদের অবলোপন
সুনামের অবলোপন
কমিশন প্রদান
ব্যাংক চার্জ
অনাদায়ি পাওনা/কুঋণ
যোগ: নতুন অনাদায়ি পাওনা/কুঋণ সঞ্চিতি
বাদ: পুরাতন অনাদায়ি পাওনা/কুঋণ সঞ্চিতি

পরিচালন মুনাফা

যোগ: অপরিচালন আয় :
স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় হতে মুনাফা
বিনিয়োগের সুদ
প্রাপ্ত বাট্টা
প্রদত্ত ঋণের সুদ
ব্যাংক জমার সুদ
প্রাপ্ত কমিশন
বাড়িভাড়া আয়
প্রাপ্ত লভ্যাংশ

বাদ : অপরিচালন ব্যয় :
স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি
ঋণপত্রের সুদ
ঋণ বা ব্যাংক ঋণের সুদ
ব্যাংক জমাতিরিক্তের সুদ
চুরি বা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি

নিট মুনাফা
   
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীঃ ব্যবসায়ের সকল সম্পদ, দায় ও মূলধন নিয়ে আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুত করা হয়। চলমান প্রতিষ্ঠান ধারনা অনুযায়ী একটি নিদিষ্ট তারিখে আর্থিক অবস্থার জন্য আর্থিক অবস্থার বিবরনী প্রস্তুুত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের নাম ……………
আর্থিক অবস্থার বিবরণী
…………… সালের ……………….. তারিখের

বিবরণ টাকা টাকা টাকা
চলতি সম্পদ:
নগদ ও ব্যাংক জমা
দেনাদার
বাদ: নতুন অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি
প্রাপ্য বিল
অব্যবহৃত মনিহারি
প্রাপ্য আয়
অগ্রিম প্রদত্ত খরচ
সমাপনী মজুদ পণ্য
মোট চলতি সম্পদ
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ:
(%)বিনিয়োগ
স্থায়ী সম্পদ :
সুনাম
বাদ অবলোপন
আসবাবপত্র
বাদ: পুঞ্জিভূত অবচয়
অফিস সরঞ্জাম
বাদ :পুঞ্জিভূত অবচয়
যন্ত্রপাতি
বাদ: পুঞ্জিভূত অবচয়
ভূমিও দালান
বাদ: পুঞ্জিভূত অবচয়
মোট স্থায়ী সম্পদ
অলীক সম্পদ/অসমন্বিত ব্যয়:
প্রাথমিক খরচ
বিলম্বিত বিজ্ঞাপন

মোট সম্পদ
চলতি দায়:
পাওনাদার/ব্যবসায়িক ঋণ
প্রদেয় বিল
বকেয়া খরচ
অগ্রিম আয়/ অনুপার্জিত আয়
ব্যাংক জমাতিরিক্ত
মোট চলতি দায়
দীর্ঘমেয়াদী দায়:
ব্যাংক ঋণ/ বন্ধকী ঋণ
ঋণপত্র/ডিবেঞ্চার
মালিকানা স্বত্ত্ব ও দায়সমূহ :
মূলধন (সমাপনী উদ্বৃত্ত)
মোট দায়
মালিকানা স্বত্ত্ব ও মোট দায়
                                                                             
  • মালিকানাস্বত্ব বিবরণীঃ হিসাবকাল কাল ধারনা অনুযায়ী মালিকানাস্বত্ব বিবরনী প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের নাম ………………
মালিকানা স্বত্ব বিবরণী
………… সালের …………….. তারিখের সমাপ্ত বছরের

বিবরণটাকাটাকা
মূলধন (প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত)
যোগ: অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ
(+) নিট মুনাফা / (-) নিট ক্ষতি
বিয়োগ : উত্তোলন
আয়কর
যোগ : সাধারণ সঞ্চিতি
মালিকানা স্বত্ব (সমাপনী উদ্বৃত্ত)
  

হিসাব বিজ্ঞানের নীতিমালাঃ

১.ব্যবসায়ের সত্তা নীতিঃ ব্যবসায়ের সত্তা নীতির নির্দেশনা হলোঃ ব্যবসায় এবং মালিক সম্পূর্ন আলাদা।

.চলমান প্রতিষ্ঠান ধারনাঃ এ ধারনার নির্দেশনা হলোঃ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার প্রকৃতি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকাল ধরে থাকবে এমন অনুমান করে হিসাব নিকাশ করতে হবে।

৩.হিসাব কাল ধারনাঃ এ ধারনার নির্দেশনা হলোঃ একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের চলমান জীবনকে কতগুলো কৃত্রিমকে ভাগ করে নিতে হবে।

৪.বকেয়া ধারনাঃ যে হিসাব কালে লেনদেন সংঘটিত হয়েছে তা ঐ হিসাব কালেই লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৫.রক্ষনশীলতার নীতিঃবিকল্প পদ্ধতির মধ্যে ঐ পদ্ধতির অবলম্বন করতে হবে যে, পদ্ধিত সম্পত্তি ও মুনাফা বেশি দেখানো থেকে বিরত রাখে।

উদাহরণের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমম্বয় নিচে দেখানো হলোঃ

১. সমাপনী মজুদ পণ্যের ক্রয়মূল্য ৪০,০০০ টাকা ও বাজার মূল্য ৪৫,০০০ টাকা।

  • বিক্রিত পণ্যের ব্যয় থেকে ৪০,০০০ টকা বাদ দিয়ে দেখাতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি সম্পত্তি হিসাবে ৪০,০০০ টাকা দেখাতে হবে।

*ক্রয়মূল্য ও বাজার মূল্যের মধ্যে যেটি কম সেটি নিতে হবে।

২. রেওয়ামিল আসবাবপত্র ৫০,০০০ টাকা। সমম্বয় : আসবাবপত্রের উপর ১০% হারে অবচয় ধার্য কর।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে আসবাবপত্রের অবচয় হিসাবে ৫,০০০ টাকা দেখাতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে স্থায়ী সম্পত্তি হিসাবে আসবাবপত্র হতে ৫,০০০ টাকা বিয়োগ করতে হবে।

গণনাঃ আসবাবপত্রের অবচয়ঃ ৫০০০০ * ১০%= ৫০০০

৩. পণ্য বিক্রয় ২,০০০ টাকা এখনও হিসাবভুক্ত হয় নি।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে বিক্রয়ের সাথে ২,০০০ টাকা যোগ করতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরনীতে চলতি সম্পত্তি হিসাবে বিবিধ দেনাদারের সাথে ২,০০০ টাকা যোগ করতে হবে।

৪. পণ্য ক্রয় ৪,০০০ টাকা হিসাবভুক্ত হয় নি।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে ক্রয়ের সাথে ৪,০০০ টাকা যোগ করে দেখাতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি দায় হিসাবে বিবিধ পাওনাদারের সাথে ৪,০০০ টাকা যোগ করতে হবে।

৫. মুনাফাবিহীন পণ্য বিক্রয় ৩০০০ টাকা।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে বিক্রয় থেকে ৩০০০ টাকা বাদ দিতে হবে।
  • বিশদ আয় বিবরণীতে ক্রয় থেকে ৩০০০ টাকা বাদ দিতে হবে।

৬. অব্যবহৃত মনিহারি ৫০০ টাকা।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে মনিহারি থেকে ৫০০ টাকা বাদ দিতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি সম্পত্তি হিসাবে অব্যবহৃত মনিহারি হিসাবে ৫০০ টাকা দেখাতে হবে।

৭. খরচের বকেয়া ২,০০০ টাকা। যেমন: পরিবহন, মজুরি, বেতন, ভাড়া ইত্যাদি।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট খরচের সাথে ২,০০০ টাকা যোগ করতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি দায় হিসাবে সংশ্লিষ্ট বকেয়া খরচ ২,০০০ টাকা দেখাতে হবে।

৮ . রেওয়ামিল : ভাড়া ( ১০ মাস) ২৫০০০ টাকা। কিন্তু হিসাবকাল এক বছরের।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে ভাড়ার সাথে ৫,০০০ টাকা যোগ করতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি দায় বকেয়া ভাড়া হিসাব ৫,০০০ টাকা দেখাতে হবে।

গণনাঃ বকেয়া ভাড়াঃ (২৫০০০/১০) *২=৫০০০ টাকা

৯ . রেওয়ামিলে : ভাড়া (তিন চতুর্থাংশ) ১২,০০০ টাকা। হিসাবকাল ১২ মাসের।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে ভাড়ার সাথে ৪,০০০ টাকা যোগ করতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে চলতি দায় বকেয়া ভাড়া হিসাবে ৪,০০০ টাকা দেখাতে হবে।

গণনাঃ বকেয়া ভাড়াঃ (১২০০০/০৩) *২=৪০০০ টাকা

১০. রেওয়ামিলে ইজারা সম্পত্তি (১০ বছর) ৫০,০০০ টাকা।

  • বিশদ আয় বিবরণীতে ইজারা সম্পত্তির অবলোপন হিসাবে ৫,০০০ টাকা দেখাতে হবে।
  • আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে স্থায়ী সম্পত্তি হিসাবে ইজারা সম্পত্তি হতে ৫,০০০ টাকা বাদ দিতে হবে।

গণনাঃ ইজারা সম্পত্তির অবলোপনঃ (৫০০০০/১০)=৪০০০ টাকা

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party