অধ্যায় ১০ঃ নিয়ন্ত্রণ

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২য় পত্র)

অধ্যায় ১০ঃ নিয়ন্ত্রণ

গুরুত্বপূর্ণঃ নিয়ন্ত্রণের ধারণা,নিয়ন্ত্রণের বৈশিষ্ট্য,গুরুত্ব,নিয়ন্ত্রণের আদর্শ বা নীতিমালা,নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার পদক্ষেপ,গুরুত্বপূর্ণনিয়ন্ত্রণ কৌশলসমূহ,ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।


অধিক গুরুত্বপূর্ণঃ নিয়ন্ত্রণের ধারণা,নিয়ন্ত্রণের আদর্শ বা নীতিমালা,নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার পদক্ষেপ,গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কৌশলসমূহ,ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

নিয়ন্ত্রণ ধারণা

নিয়ন্ত্রণ হলো পূর্বনির্ধারিত আদর্শ মানের সাথে প্রকৃত কার্যফল তুলনা করে নির্ণীত বিচ্যুতি সংশোধনের কার্য ব্যবস্থা বিশেষ।
ব্যবস্থাপনার মৌলিক কার্যাবলির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বৈশিষ্ট্যঃ

১.সর্বশেষ ধাপ
২.ভিত্তি নির্ভরতা
৩.কালান্তিক কাজ
৪.অবিরাম প্রক্রিয়া
৫.ব্যাপ্তি
৬.ঊর্ধ্বতন সম্পাদিত কাজ
৭.পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি।

নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব

ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা অপরিসীম। সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক কার্যাবলি যথাযথভাবে সম্পাদন হবেনা। নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবস্থাপনা কার্য অর্থহীন ও বিশৃঙ্খল হতে বাধ্য।নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব নিচে দেয়া হলো-


১.শৃঙ্খলা বিধানঃ নিয়িন্ত্রণ কার্য প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভাগের মাঝে জবাবদিহিতার সৃষ্টি করে। এরূপ জবাবদিহির মানসিকতা কর্মীদের দায়িত্ববান করে। তাই যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


২.বিচ্যুতি নির্ণয়ে সহযোগিতাঃ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিচ্যুতি নির্ণয়।সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত মান ও অর্জিত ফলের মধ্যকার বিচ্যুতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ ও তার কারণ নির্ণয় করতে সাহায্য করে। এর ফলে সমাধানও সহজে হয়।


৩.পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নঃ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপের ফলে কর্মীদের মাঝে জবাবদিহির মানসিকতা সৃষ্টি হয় এবং স্বেচ্ছাপ্রবৃত্ত হয়ে কাজ করার মনোভাবেরও উন্নয়ন ঘটে। এছাড়া কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে বহাল থাকলে কর্মীরা কার্যক্ষেত্রে ফাঁকি দিতে পারে না।ফলে পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।


৪.পরবর্তী পরিকল্পনার মানোন্নয়নঃ নিয়ন্ত্রজ পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যেকোনো বিচ্যুতি হলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়। যা অনেকটা বাস্তব ভিত্তি লাভ করে।


৫.দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থাঃ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিচ্যুতি দেখা দিলে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় তা সহজে ধরা পড়ে।বিচ্যুতি নিরূপণ ও সমস্যার প্রকৃতি সম্পর্কে দ্রুত জানা সম্ভব হলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও দ্রুত গ্রহণ করা যায়। এছাড়া এর আলোকে পরিকল্পনাতেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বাস্তবায়ন উপযোগী করা যায়।

নিয়ন্ত্রণের আদর্শ বা নীতিমালা

আদর্শ বা নীতি বলতে কোনো কার্য সম্পাদনের যথাযথ পথ-নির্দেশনাকে বুঝায়।মান নির্ধারণ,প্রকৃত ফলাফল নিরূপণ, মানের সাথে ফলাফলের তুলনা, বিচ্যুতি ঘটে থাকলে তা নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এরূপ বিচ্যুতি যাতে না ঘটে এজন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এরূপ প্রক্রিয়ার অধীন।

পরিকল্পনার এ গুরুত্বপূর্ণ কার্যকে সঠিকভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রেও কতিপয় আদর্শ বা মূলনীতির অনুসরণ করা যেতে পারে।নিম্নে তা তুলে ধরা হলো-

১.উপযুক্ততার নীতিঃ এরূপ নীতি বলতে নিয়ন্ত্রণের যথাযথ পদ্ধতিকে যথাযথ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করাকে বুঝায়।যেক্ষেত্রে সংখ্যাত্মক মান নির্ধারণ এবং অর্জিত কার্যফলকে তার সাথে তুলনা করে বিচ্যুতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা সম্ভব সেখানে তাই করা উচিত। যেখানে বাজেট করা যায় না সেখানে বাজেটারি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। কর্মীদের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।তাই প্রতিষ্ঠানের যেই পর্যায়ে এবং যেই কাজে যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উপযুক্ত মনে হয় সেখানে তার প্রয়োগ করা আবশ্যক।

২.সরলতার নীতিঃ পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার বিষয়টি সহজেই অনুধাবনযোগ্য ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহজেই প্রয়োগযোগ্য হলে তাকে নিয়ন্ত্রণের সরলতার নীতি বলে। স্ব স্ব বিভাগ বা উপবিভাগের নির্বাহীগণ তার অব্যবহিত অধস্তনদের কার্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যদি এমন হয় যা বুঝ উঠতে স্বয়ং নির্বাহী অস্পষ্টতায় ভোগেন তবে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা যায় না। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জটিল হলে তা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়সাপেক্ষ হয়।ফলে তা কার্যকর ফল দিতে পারে না।

৩.দ্রুততার নীতিঃ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্রুত বিচ্যুতি নিরূপণযোগ্য এবং সংশোধনী ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য হলে ঐ নীতিকেই দ্রুততার নীতি বলে। পরিকল্পনা এমনভাবে নেয়া উচিত যাতে তাকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করা সম্ভব হয়।ফল্র একটা পর্যায় পর্যন্ত কাজ হওয়ার পরই তা মূল্যায়নপূর্বক বিচ্যুতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণসমেত পরবর্তী কাজ দ্রুততার সাথে পরই তা মূল্যায়নপূর্বক বিচ্যুতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণসমেত পরবর্তী কাজ দ্রুততার সাথে শুরু ও বাস্তবায়ন করা উচিত।

৪.নমনীয়তার নীতিঃ নমনীয়তা বলতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি বিধানের সামর্থ্যকে বুঝায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এমন উচিত যাতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তা তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হয়। বাজেটারি নিয়ন্ত্রণ কৌশল অনুসরণে যে বাজেট তৈরি করা হয়েছে তা সবসময়ই ঠিক থাকবে তাও প্রত্যাশিত নয়। তাই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অবশ্যই নমনীয়তার আদর্শ অনুসরণ করা আবশ্যক।

৫.ভবিষ্যৎ দর্শনের নীতিঃ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পিছনে কোনো একটা বিভাগের দায় নিরূপণই যথেষ্ট নয় উক্ত বিভাগ কেন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে,ভবিষ্যতে এরূপ অবস্থা যাতে কোথাও না ঘটে এজন্য ঊর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট নির্বাহীদের কি করা উচিত -নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় তারও দিক-নির্দেশনা থাকা আবশ্যক।ফলে তা পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে গণ্য হতে পারে।

৬.ব্যতিক্রমের নীতিঃ ব্যতিক্রমের নীতি বলতে কার্যক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে সেক্ষেত্রে বিশেষ কর্মব্যবস্থা গ্রহণ করাকে বুঝায়। যে সকল ক্ষেত্রে বিচ্যুতির ফলাফল সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বিচ্যুতির সৃষ্টি করে সেগুলোকে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

৭.মিতব্যয়িতার নীতিঃ এরূপ নীতি বলতে সর্বোচ্চ কম খরচ ও ব্যয়ে কার্যক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপকে বুঝায়।
অনেক সময় দেখা যায় মান নির্ধারণ,প্রকৃত কর্মফল মূল্যায়ন,বিচ্যুতি নিরূপণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় করা হয়।এরূপ ব্যয়ের ফলে নিয়ন্ত্রণ কাজে জটিলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিলম্বও ঘটে।তাই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সহজ ও স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ হওয়া আবশ্যক।

৮.দক্ষতার নীতিঃ দক্ষতা বলতে সঠিক সময়ে কম অর্থ ও শক্তি ব্যয়ে সঠিক কাজ করাকে বুঝায়।নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ত্বরিত বিচ্যুতি নিরূপণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যর্থ হলে পরবর্তী পরিকল্পনা সঠিকভাবে গ্রহণ করা যায় না।এছাড়া কোনো সমস্যার যথাযথ সমাধান না হলে তা নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে।তাই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপে দক্ষতার নীতি অনুসরণ করতে হয়।

নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার পদক্ষেপ

নিয়ন্ত্রণ হলো সম্পাদিত কার্যফল পরিমাপ,কার্যাকার্যের বিচ্যুতি নিরূপণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াম এরূপ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে এর কতকগুলো ধাপ বা পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়।

১.আদর্শ মান নির্ধারণঃ আদর্শ মান বলতে একটা কাজ কতটুকু গুণ,মান,পরিমাণ,ব্যয়,আয় বা সময়সাপেক্ষ হলে সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়েছে বলা হবে তা নির্ণয়কে বুঝায়। আদর্শ মান নির্ধারণ এক ধরনের পরিকল্পনা যা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।প্রতিবছর ১০% হারে উৎপাদন বাড়ছে তাই ১০% উৎপাদন বৃদ্ধির টার্গেট আদর্শ মান হতে পারে।

২. কার্যফল পরিমাপঃ কাজ প্রকৃতপক্ষে কতটা হয়েছে নির্দিষ্ট সময় শেষে তার পরিমাপকেই কার্যফল পরিমাপ বলে।কতটুকু কাজ প্রকৃতপক্ষে সম্পাদিত হয়েছে তা পরিমাপ করা বা প্রকৃত আয়-ব্যয় কী হয়েছে তা নিরূপণ করা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ। এরূপ পরিমাপের ক্ষেত্রে আদর্শ মানের সাথে সঙ্গতি রেখে সময় বিবেচনায় প্রকৃত কার্যফল কী হয়েছে তা নির্ধারণ করা হয়।এরূপ পরিমাপে যদি কোনো ভুল থাকে তবে তা প্রকৃত বিচ্যুতি প্রকাশ করে না।

৩.আদর্শ মানের সাথে সম্পাদিত কার্যফলের তুলনাঃ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পাদিত কার্য পরিমাপ করে তা আদর্শ মানের সাথে তুলনা করাই এ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

৪.বিচ্যুতির কারণ নির্ণয় ও মূল্যায়নঃ আদর্শ মানের সাথে তুলনা করার পর কার্যফল কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে উক্ত বিচ্যুতির কারণ নির্ণয় এবং উক্ত কারণের যথার্থতা মূল্যায়ন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ। এরূপ বিচ্যুতি যদি খুব উল্লেখযোগ্য বা ধর্তব্য মানের না হয় তবে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তবে এরূপ বিচ্যুতি বেশি হলে সেক্ষেত্রে এর কারণ যথাযথভাবে নির্ধারণ ও তা মূল্যায়ন করার প্রয়োজন পড়ে। এরূপ কারণ ইতোপূর্বেই উদঘাটনযোগ্য ও সংশোধনযোগ্য ছিল কি না তাও এ পর্যায়ে দেখতে হয়।কারণ একাধিক হলে মূখ্য কারণ কোনটি বা কারণের পরম্পরাও নিরূপণের প্রয়োজন পড়ে। কারণ কতটা সময়,অর্থ ও সামর্থ্য ব্যয় আবশ্যক তাও গুরুত্বের সাথে দেখতে হয়।

৫.সংশোধনমূলক ব্যবস্থাঃ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বলতে ভবিষ্যতে যাতে বিচ্যুতি না ঘটে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনক্ষম ব্যবস্থা কী হতে পারে তা নিরূপণ এবং পরবর্তী পরিকল্পনায় কিভাবে তা অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়ন করা হবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বুঝায়।

গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল

বিভিন্ন প্রকৃতির বিভিন্ন কাজ যথাযথাভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা আরোপের প্রয়োজন হয়।আধুনিককালে এরূপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সকল পদ্ধতি বা কৌশল ব্যবহৃত হতে দেখা যায়,তা নিরূপণ-

(ক)বাজেটীয়ি নিয়ন্ত্রণ কৌশল

১.বাজেটঃ পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশকে বাজেট বলে। নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বাজেট তৈরি এবং কার্যফল বাজেটের সাথে মিলয়ে বিচ্যুতি নির্ধারণপূর্বক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কৌশলই বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশল হিসেবে গণ্য। একটা প্রতিষ্ঠান তার বিক্রয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা বিগত বছরের শেষ কোয়ার্টার অপেক্ষা প্রতি কোয়ার্টারে যথাক্রমে ১০%, ১৫%,২০% ও ২৫% বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে।পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশ ঘটায় এটি বাজেট বলে বিবেচিত।

(খ)অবাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশল

১.সংখ্যাত্মক উপাত্ত বিশ্লেষণঃ যে পদ্ধতি অনুযায়ী কার্য ফলাফলের সংখ্যাত্মক উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিচ্যুতি নির্ধারিত ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাকে সংখ্যাত্মক উপাত্ত বিশ্লেষণ বলে। সাপ্তাহিক উৎপাদনের পরিমাণ বিশ্লেষণ এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির আওতাধীন।

২.বিশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণঃ ভিতরের বা বাইরের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা প্রতিষ্ঠানের কোনো বিষয়ে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের আলোকে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হলে তাকে বিশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ বলে।বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপের জন্য অনেক সময় জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে বিশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে।

৩.ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণঃ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃক অধস্তনদের কাজ,কাজের প্রতিবেদন বা হিসাবপত্রাদি দেখাকে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলে।প্রতিষ্ঠানের নিচের স্তরে নিয়োজিত নির্বাহীরা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের দ্বারা অধস্তনদের কাজের ত্রুটি নির্ধারণ, পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করেন।

৪.অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাঃ প্রতিষ্ঠানের হিসাব-পত্রাদি নিরীক্ষা, ত্রুটি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হলে তাকে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বলে।বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম দূরীকরণে এরূপ নিয়ন্ত্রণ কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

৫.ব্রেক-ইভেন বিন্দু বা সমচ্ছেদ বিন্দু বিশ্লেষণঃ যে বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় আয় ও মোট ব্যয় সমান হয় তাকে ব্রেক-ইভেন বিন্দু বা সমচ্ছেদ বিন্দু বলে।এই বিন্দুর ওপরে বিক্রয়ের পরিমাণ যত বাড়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণও ততই বৃদ্ধি পায়।প্রতিষ্ঠানে বিশেষত নতুন উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় ও মুনাফার সম্পর্ক নির্দেশ এবং এর মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণে এটি একটি অন্যতম নিয়ন্ত্রণ কৌশল বা পদ্ধতি।

৬.আর্থিক হিসাব বিবরণী বিশ্লেষণঃ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে প্রতিষ্ঠানের আয় বিবরণী,নগদ প্রবাহ বিবরণী ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়।এরূপ বিবরণীসমূহকেই আর্থিক হিসাব বিবরণী বলে।এরূপ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।এরূপ আর্থিক বিবরণীর ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ও বাইরের বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

৭.বিনিয়োগের ওপর প্রাপ্তি বিশ্লেষণঃ প্রতিষ্ঠানের আয় বিবরণী থেকে প্রাপ্ত মুনাফা কতটা যৌক্তিক বা প্রত্যাশিত হয়েছে বিনিয়োগের আলোকে তার বিশ্লেষণকেই বিনিয়োগের ওপর প্রাপ্তি বিশ্লেষণ বলে।এরূপ বিশ্লেষণের মধ্যে পড়ে-
ক.মুনাফা বিনিয়োগ অনুপাত;
খ.শেয়ার প্রতি মুনাফা প্রাপ্তি ইত্যাদি।

(গ) পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল

একই সাথে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আপনা-আপনি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রয়োগযোগ্য তাকে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল বলে। এরূপ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে সময়-ঘটনা নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ বলা হয়ে থাকে।

১.গ্যান্ট চার্টঃ এফ.ডব্লিউ.টেইলর-এর সহকর্মী ও অনুসারী এইচ.এল.গ্যান্ট এরূপ চার্ট বা নকশার উদ্ভাবক।তিনি সময় নিরীক্ষার আওতায় প্রতিটা কাজের জন্য কতটা সময়ের প্রয়োজন এবং তা কখন শুরু হয়ে কখন শেষ হবে তা রেখাচিত্রে উপস্থাপন করেন।এতে কোন কাজগুলো চলছে কোন কোন কাজ কখন শুরু হয়েছে ও কখন কোন কাজ শেষ হবে তা বোঝা যায়।এখন বাস্তবায়ন কার্যের শুরু ও শেষ সময় রেখাচিত্রে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের কালিতে উপস্থাপন করলে সহজেই ঊর্ধ্বতন প্রতিটা কাজ বাস্তবায়নের অবস্থা বুঝতে পারেন।

২.পার্টঃ যে পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের কোন কাজ কখন শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্টপূর্বক গুরুত্বপূর্ণ যে কাজগুলো বিরামহীনভাবে সম্পাদিত হবে তা মোটা রেখার দ্বাতা সংযুক্ত করে’সংকটময় পথ’নির্দেশপূর্বক ঐ কার্য সম্পাদনে অধিক সতর্কতা অবলম্বন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হয় তাকে পার্ট বলে।

Neshat Tasnim

Executive of SILSWA

Tourism and Hospitality Management

University of Dhaka

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party