অধ্যায় ১০ঃ একতরফা দাখিলা পদ্ধতি

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ১০ঃ একতরফা দাখিলা পদ্ধতি

একতরফা দাখিলা পদ্ধতি:

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুসরণ না করে অসম্পূর্ণ পদ্ধতিতে হিসাব নিকাশ করা হলে তাকে একতরফা দাখিলা পদ্ধতি বলে।

এই পদ্ধতিতে ব্যক্তিবাচক হিসাব (দেনাদার/পাওনাদার) এবং নগদান হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু অন্য কোনো সম্পত্তির হিসাব এবং নামিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না।

মূলধন তহবিল বিবরণী:

একতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করার জন্য প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূলধন তুলনা করা হয়। তাই মূলধন তহবিল নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

*এক্ষেত্রে সম্পত্তি ও দায়ের পার্থক্য বের করে আমরা মূলধন তহবিল নির্ণয় করি।

প্রারম্ভিক মূলধন = প্রারম্ভিক সম্পত্তি – প্রারম্ভিক দায়।

সমাপনী মূলধন = সমাপনী সম্পত্তি – সমাপনী দায়।

তবে প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূলধন নির্ণয় ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে।

*চলতি সম্পদ ও চলতি দায় এর প্রারম্ভিক ও সমাপনী যে মূল্য দেয়া থাকলে তা সরাসরি মূলধন নির্ণয় বিবরণীতে আসবে।

*যদি কোন স্থায়ী সম্পদ বা দীর্ঘমেয়াদি দায় এর শুধু প্রারম্ভিক জের দেওয়া থাকে এবং সম্পত্তি বিক্রয় বা দায় পরিশোধের কোন তথ্য দেওয়া না থাকে, তাহলে প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল নির্ণয় এর পাশাপাশি সমাপনী মূলধন তহবিল নির্ণয়েও ঐ সম্পদ/দায় আসবে।

*চলতি সম্পদ ও চলতি দায় প্রারম্ভিক বা সমাপনী যেকোনো একটি মূল্য দেওয়া থাকলে সেটি মূলধন নির্ণয় বিবরণীতে দেখাতে হবে। যেমন; প্রাপ্য বিলের প্রারম্ভিক তারিখ দেওয়া আছে কিন্তু সমাপনী টাকার অংক দেওয়া নেই, এজন্য প্রারম্ভিক মূলধন তহবিলে দেখালেই হবে সমাপনী মূলধন তহবিলে দেখাতে হবে না।

*ব্যাংক জমা ডেবিট পাশে থাকলে সম্পদ, ক্রেডিট পাশে থাকলে দায়।

স্থায়ী সম্পদ ও স্থায়ী দায়:

১) সাধারনত স্থায়ী সম্পদ ও দায়ের প্রারম্ভিক ও সমাপনী উদ্বৃত্ত সমপরিমাণ দেওয়া থাকে। এক্ষেত্রে প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত দেখাতে হবে।

২) স্থায়ী সম্পত্তির প্রারম্ভিক মূল্য দেওয়া থাকলে কিন্তু সমাপনী মূল্য দেওয়া না থাকলে তখন প্রারম্ভিক মূল্যই সমাপনী মূল্য দেখাতে হবে। তবে প্রারম্ভিক মূল্য দেওয়া না থাকলে সমাপনী মূল্যকে কখনোই প্রারম্ভিক মূল্য দেখানো যাবে না।

৩) চলতি বছরে কোন সম্পদ ক্রয় করলে এবং সমাপনী মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার না থাকলে সেটা যোগ করা সমাপনী মূল্য দেখাতে হবে।

৪) বিপরীত ভাবে সম্পত্তি বিক্রয় করলে সমাপনী মূল্য থেকে বাদ দেওয়া যদি না থাকে তাহলে বাদ দিয়ে সমাপনী মূল্য দেখাতে হবে।

৫) সম্পত্তির অবচয় মূলধন তহবিল নির্ণয়ে সমাপনী মূল্য থেকে বাদ দিয়ে দেখানো যাবে না। অবচয় মূলত ক্ষতি হিসেবে লাভ-লোকসান বিবরণীতে দেখানো হবে।

লাভ-লোকসান বিবরণী:

একতরফা দাখিলা পদ্ধতির ক্ষেত্রে মূলত লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করার সূত্র হচ্ছে নিম্নরূপ:

লাভ/ক্ষতি:

সমাপনী মূলধন + উত্তোলন – প্রারম্ভিক মূলধন – অতিরিক্ত মূলধন।

লাভ-লোকসান বিবরণীতে আমরা দুটি পার্শ্বের মাধ্যমে নিট লাভ/ক্ষতি নির্ণয় করব-

ডান পাশে আমরা যোগ করব:

সমাপনী মূলধন, উত্তোলন ও আয়জাতীয় দফা।

বাম পাশে আমরা যোগ করব:

প্রারম্ভিক মূলধন, অতিরিক্ত মূলধন ও ব্যয়জাতীয় দফা।

*ফলাফল হিসেবে ডান পাশের যোগফল বড় আসলে নিট লাভ এবং বাম পাশের যোগফল বড় আসলে নিট ক্ষতি হবে।

বৈষয়িক বিবরণী:

বৈষয়িক বিবরণী অনেকটাই আর্থিক অবস্থার বিবরণী এর মতন। তবে এখানে সম্পদের পক্ষ এবং দায় ও মূলধন এর পক্ষ পাশাপাশি উপস্থাপন করতে হয়। ডানপাশে দেখানো হয় সম্পদসমূহ এবং বামপাশে দায় ও মূলধন।

*সম্পদের সাথে যেসব সমন্বয় করা হয়েছে সেগুলো এখানে যোগ বিয়োগ করে দেখাতে হবে। যেমন স্থায়ী সম্পদ থেকে অবচয় বিয়োগ, দেনাদার থেকে অলিখিত পাওনা, নতুন কুঋণ সঞ্চিতি বিয়োগ ইত্যাদি।

*লাভ-ক্ষতি বিবরণীতে যেসব সম্পদ ও দায় দেখানো হয়েছে বৈষয়িক বিবরণীতে দেখাতে হবে।

*প্রারম্ভিক মূলধন এর সাথে উত্তোলন, অতিরিক্ত মূলধন, মূলধনের সুদ, উত্তোলনের সুদ, লাভ-ক্ষতি সমন্বয় করে সমাপনী মূলধন নির্ণয় করতে হবে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party