অধ্যায় ১ঃ হিসাববিজ্ঞানের পরিচিতি

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (১ম পত্র)

অধ্যায় ১ঃ হিসাববিজ্ঞানের পরিচিতি

আজকে আমরা আলোচনা করব :

-হিসাব বিজ্ঞানের ধারণা

-লেনদেন

-হিসাব

-হিসাব সমীকরণ

হিসাববিজ্ঞান :

আর্থিক ঘটনাসমূহ শনাক্ত ও লিপিবদ্ধ করা এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিকট তথ্য সরবরাহ করার প্রক্রিয়াকে হিসাববিজ্ঞান বলে।

হিসাব বিজ্ঞান কে বলা হয়- ১) তথ্য ব্যবস্থা ২) ব্যবসায়ের ভাষা।

হিসাববিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য- সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিকট তথ্য সরবরাহ

মূল উপাদান বা ইনপুট- লেনদেন

মূল ভিত্তি- দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি

আউটপুট- আর্থিক বিবরণী ও প্রতিবেদন

প্রাথমিক উদ্দেশ্য- আর্থিক ঘটনা সমূহ চিহ্নিত করে সে গুলোকে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা

হিসাববিজ্ঞানের জনক: লুকা প্যাসিওলি(Luca Pacioli) পূর্ণ নাম- ফ্রা লুকা বারটোলোমিও ডি প্যাসিওলি (Fra Luca Bartolomeo de Pacioli)

হিসাববিজ্ঞানের প্রথম গ্রন্থ: সুম্মা ডি এরিথমেটিকা জিওমেট্রিয়া প্রপরশনিয়েট প্রপরশনালিটা(Summa de Arithmetica Geometria Proportioni et Proportionalite) ১৪৯৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ইটালি ও ভাষায় ইটালিতে প্রকাশ করেন। এই বইতে সর্বপ্রথম হিসাববিজ্ঞানের একমাত্র গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং হিসাব বিজ্ঞানের ভিত্তি- দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির কথা উল্লেখিত হয়।

হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারী: ব্যবসায়ের অবস্থান পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিন্নতার কারণে হিসাব তথ্যের ব্যবহারকারী দের দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

১) অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী

২) বাহ্যিক ব্যবহারকারী।

অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী :

  • সকল পরিচালক
  • সকল ব্যবস্থাপক
  • সকল কর্মকর্তা
  • সুপারভাইজার
  • কোষাধ্যক্ষ বা ট্রেজারার
  • প্রধান হিসাব রক্ষক
  • আন্তঃনিরীক্ষক
  • একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক

বাহ্যিক ব্যবহারকারী:

  • বর্তমান বিনিয়োগকারী,
  • কর্মচারীগণ
  • ব্যাংক
  • সরবরাহকারীগণ
  • দেনাদার
  • পাওনাদার
  • গ্রাহকগণ
  • নিরীক্ষণ কর্তৃপক্ষ
  • নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
  • প্রতিযোগীগণ

লেনদেন:

অর্থের আদান প্রদান বা অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায় এমন পণ্য বা সেবার আদান-প্রদানের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করলে উক্ত ঘটনাকে লেনদেন বলে। সহজ কথায়, আর্থিক মূল্যের পরিমাপযোগ্য ঘটনাকে লেনদেন বলে।

*সকল লেনদেন ঘটনা কিন্তু সকল ঘটনা লেনদেন নয়।

* বিক্রয় বৃদ্ধি, ম্যানেজারের মৃত্যু, হিসাবরক্ষক নিয়োগ এগুলো শুধু ঘটনা,লেনদেন নয়।

প্রতিটি লেনদেনের শর্ত:

১) আর্থিক মূল্যের পরিমাপযোগ্য

২) আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন

৩) কমপক্ষে দুটি পক্ষ জড়িত

ব্যবসায়িক লেনদেনের শ্রেণীবিভাগ:

প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের ভিত্তিতে-

১) বহি লেনদেন: শেয়ার ইস্যু, ধারে সেবা প্রদান, বেতন প্রদান, বিক্রয় ইত্যাদি

২) আন্ত লেনদেন: মনিহারি ব্যবহার, অবচয়, খুচরা তহবিলে প্রদান ইত্যাদি।

অর্থ আদান-প্রদানের ভিত্তিতে-

১) নগদ লেনদেন: সম্পদ ক্রয় বিক্রয়, প্রাপ্য সমুহ আদায়, প্রদেয় সমুহ পরিশোধ ইত্যাদি।

২) বাকিতে লেনদেন: ধারে সেবা প্রদান, কর্মচারীর মজুরি বকেয়া ইত্যাদি।

৩) অনগদ লেনদেন: কু-ঋণ সৃষ্টি, কু-ঋণ অবলোপন, প্রাপ্য/প্রদত্ত বাট্টা, অবচয়, অবলোপন ইত্যাদি।

দৃশ্যমানতার ভিত্তিতে-

১) দৃশ্যমান: পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সম্পদ ক্রয় বিক্রয়, যেকোনো নগদ আদান-প্রদান ইত্যাদি।

২) অদৃশ্যমান: অর্জিত সুনাম লিপিবদ্ধকরণ, অবচয়, অবলোপন, কুঋণ সঞ্চিতি সৃষ্টি ইত্যাদি।

হিসাব:

লেনদেনের সংক্ষিপ্ত শ্রেণীবদ্ধ বিবরণীকে হিসাব বলে। সাধারনত দুইটি ছক ব্যবহৃত হয়।

১) সাধারণ/ T ছক 

2) আধুনিক/ চলমান জের ছক।

*সাধারণ ছকের প্রধান অংশ তিনটি- ১) হিসাব শিরোনাম ২) ডেবিট ৩) ক্রেডিট।

আধুনিক পদ্ধতিতে হিসাবের শ্রেণীবিভাগ:

সম্পদ: প্রতিষ্ঠানের অধিকারভুক্ত বিষয়াবলী যা থেকে ভবিষ্যৎ সুবিধা পাওয়া যাবে তাকে সম্পদ বলে। যেমন; নগদ, আসবাবপত্র, দালানকোঠা ইত্যাদি।

দায়: প্রতিষ্ঠান সম্পত্তির উপর যেকোনো ধরনের পাওনাদারের দাবিকে দায় বলে। যেমন প্রদেয় হিসাব, ব্যাংক ঋণ, ব্যাংক জমাতিরিক্ত ইত্যাদি।

মালিকানা স্বত্ব: প্রতিষ্ঠান সম্পত্তির ওপর মালিকের দাবিকে মালিকানাসত্ত বলে।

রাজস্ব বা আয়: পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান অর্জিত হয় তাকে রাজস্ব বলে। যেমন বিক্রয়, সেবা আয়, কমিশন প্রাপ্তি ইত্যাদি।

খরচ বা ব্যয়: নির্দিষ্ট হিসাব কালে আয় অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত সেবা গ্রহণ কে খরচ/ব্যয় বলে। যেমন- ক্রয়, বেতন প্রদান, ঋণের সুদ ইত্যাদি।

হিসাব সমীকরণ:

ব্যবসায়ের তিনটি মৌলিক উপাদান হচ্ছে সম্পত্তি, দায়, মালিকানা স্বত্ব। এই তিনটি উপাদান এর সম্পর্ক নির্দেশ করে হিসাব সমীকরণ।

(সম্পত্তি=দায়+মালিকানা স্বত্ব)

(Asset=Liabilities+Owner’s Equity)

সম্প্রসারিত সমীকরণ: সম্পদ=দায়+(মালিকানা স্বত্ব-উত্তোলন+আয়-ব্যয়)

* সম্পত্তি ও দায়ের হ্রাস বৃদ্ধির কারণে সম্পত্তি বা দায় কলামে নিয়মানুযায়ী টাকার অংক বসাতে হবে।

*মালিকের বিনিয়োগ, আয় বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাসের কারণে মালিকানা স্বত্ব বৃদ্ধি পায়। *মালিকের উত্তোলন, আয় হ্রাস, ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পায়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party