অধ্যায় ১ঃ ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১ম পত্র)

অধ্যায় ১ঃ ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ ব্যবসায়ের ধারণা , ব্যবসায়ের প্রকৃতি , ব্যবসায়ের আওতা , শিল্প , বাণিজ্য , প্রত্যক্ষসেবা , ব্যবসায়ের গুরুত্ব , সামাজিক ব্যবসায় ।
জটিল বিষয়সমূহঃ
ব্যবসায়ের আওতা , শিল্প , বাণিজ্য

ব্যবসায়ের ধারণা

ইংরেজি (Business ) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো , যেকোনো কাজে ব্যস্ত থাকা ।
তবে ব্যবসায়ের মূল অর্থ হচ্ছে , মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বন্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ।অর্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজকেই ব্যবসায়ে বলা যাবে না , ঐ কাজকে অবশ্যই বৈধ ও মুনাফা অর্জনের উপায় হতে হবে ।ব্যবসায়কে সহয়তা করার জন্য শিল্প ও বাণিজ্য ওতোপ্রোতোভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।

ব্যবসায়ের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য

প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসায় একটি স্বতন্ত্র পেশা বা অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে পণ্য উৎপাদন ও বন্টনের সাথে সম্পৃক্ত । ব্যবসায়ের এমন কিছু স্বতন্ত্রধর্মী বৈশিষ্ট্য নিম্নে আলোচনা করা হলো –

১. মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যঃ ব্যবসায়ের প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য – এর গঠন ও পরিচালনার পেছনে ব্যবসায়ীর মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশা ।মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য কম দামে পণ্য ক্রয় করে , অধিক মূল্যে বিক্রয় করাই ব্যবসায় ।আয় থেকে খরচ বাদ দিলে অবশিষ্ট অংশকে মুনাফা বলে ।

২.ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাঃ ঝুঁকি হলো আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা এবং অনিশ্চয়তা হলো প্রত্যাশিত সবকিছু ঘটবে এমন না হওয়ার অবস্থা ।মুনাফাকে ঝুঁকি গ্রহণের পুরষ্কার বলা হয় কেননা মুনাফার উদ্দেশ্যেই ব্যবসায়ী ঝুঁকি গ্রহণ করে ।

৩.লেনদেনের পৌনঃপুনিকতাঃ বারে বারে কিনে ও বেচে করে মুনাফা অর্জনের প্রয়াস চালানোকে লেনদেনের পৌনঃপুনিকতা বলে ।ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বারেবারে কিনতে ও বিক্রি করতে হবে । বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোনো কিছু কিনে বিক্রি করাই ব্যবসায় বলে গণ্য ।

৪. আইনগত বৈধতাঃ ব্যবসায় হতে হলে আইনানুযায়ী তা বৈধ হওয়া আবশ্যক ।ব্যবসায়ের সকল বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকার পরেও যদি তা বৈধ না হয় , তবে সে কাজকে ব্যবসায় বলা যাবে না ।

৫. স্বাধীন পেশা বা বৃত্তিঃ স্বাধীন পেশা বলতে , মালিক অন্যের অধীনে না থেকে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে ।ব্যবসায় সর্বদাই স্বাধীন পেশা হিসেবে গণ্য । মালিক নিজের পছন্দসই ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনার সকল সুবিধা ভোগ করেন ।

৬.উপযোগ ও সম্পদ সৃষ্টিঃ উপযোগ বলতে কোনো কিছুর অভাব পূরণের ক্ষমতাকে বুঝায় , ব্যবসায় তার সকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নানান ধরণের উপযোগ সৃষ্টি করে মানুষের অভাব দূর করে । শিল্পের সাহায্যে নতুন নতুন সম্পদ ও অহরহ সৃষ্টি করা হচ্ছে ।

ব্যবসায়ের আওতা বা পরিধি

ব্যবসায়ের পরিধিকে যদি একটি সমীকরণের মাধ্যমে দেখা যায় তাহলে –

√ব্যবসায়=শিল্প+ বাণিজ্য +পণ্য বিনিময় সংক্রান্ত কার্যাবলী + অন্যান্য কাজের সমষ্টি
অর্থাৎ, ব্যবসায়ের সাথে শিল্প , বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয় সংশ্লিষ্ট রয়েছে ।

ব্যবসায়ঃ

১. শিল্প
২. বাণিজ্য
৩. প্রত্যক্ষসেবা।

শিল্প

প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করার কার্যপ্রচেষ্টাকে শিল্প বলে । শিল্প কর্মপ্রচেষ্টার যেসকল বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় তা নিম্নে –

১. উৎপাদনকারী শাখাঃ
শিল্পের প্রধান কাজ হলো ক্রেতা বা ভোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী উৎপাদন করা – এজন্যই শিল্পকে উৎপাদনকারী শাখা বলা হয় ।

২. রূপগত উপযোগ সৃষ্টিঃ বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে , তা চেরাই করে কোনো আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে ।কাঠের যেরূপ পরিবর্তন করা হলো এটাই হলো রূপগত উপযোগ যা শিল্পের মাধ্যমেই করা হয় ।

৩. কেন্দ্রীভূত কর্মঃ ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী শাখার কর্ম মূলত নির্দিষ্ট স্থানেই কেন্দ্রীভূত থাকে । একটি স্থান থেকে পণ্য উৎপাদিত হয়ে , বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশে -বিদেশে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছে ।

৪.অধিক পুঁজি ও ঝুঁকি সংশ্লিষ্টঃ কুটির শিল্প বাদ দিলে অন্য যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠাতেই অধিক মূলধনের প্রয়োজন পরে । পুঁজি বেশি হলে ঝুঁকি ও স্বাভাবিকভাবেই অধিক হয়ে পরে ।

৫. ফল লাভ বিলম্বঃ যেকোনো শিল্প গড়তে যথেষ্ট সময় ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় ।কাঁচামাল , মানুষ , স্থান , যন্ত্রপাতি ইত্যাদি যোগাড় করতে সময় লাগে । পণ্য উৎপাদন করে , তা বিক্রি করলেই যে লাভ হবে তেমন নয় -সময় প্রয়োজন ।যত বড় শিল্প তত বিলম্ব হবে , কিন্তু ফল বেশি ও দীর্ঘস্থায়ী থাকে ।

৬. অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রবেশ পথঃ যেকোনো দেশেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রবেশ পথ হলো শিল্প । শিল্পের প্রসার ঘটলে ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নতি ।

শিল্পের প্রকারভেদ

১. প্রাথমিক শিল্পঃ প্রকৃতি থেকে সম্পদ সংগ্রহের সকল প্রক্রিয়াই প্রাথমিক শিল্পের অন্তর্ভুক্ত ।নদী ও সাগর থেকে মুক্তা , ঝিনুক সংগ্রহ , হাঁস – মুড়গি পালন ইত্যাদি ।

◼কৃষি শিল্পঃ
কৃষি কাজের সাথে জড়িত শিল্পকে কৃষিশিল্প বলা হয় । ধান , পাট , গম ইত্যাদি চাষ করা , পুকুরে মাছ চাষ , মুরগির বাচ্চা কিনে পালন এ – শিল্পের অন্তর্ভুক্ত ।

◼প্রজনন শিল্পঃ
অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশ বিস্তার করণ প্রচেষ্টাকে প্রজনন শিল্প বলে ।
হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদিত হয় যার সবকিছুই পরবর্তী উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনপূরণে সাহায্য করে । এছাড়া , নার্সারি , পোলট্রি ফার্ম ইত্যাদি ও এ শিল্পের উদাহরণ ।

◼নিষ্কাশন শিল্পঃ
যে শিল্প প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ আহরণ বা সংগ্রহ করা হয় , তাকে নিষ্কাশন শিল্প বলে । যেমন – সমুদ্র থেকে মাছ ও জলজ সম্পদ সংগ্রহ , বন থেকে কাঠ সংগ্রহ ।

২.উৎপাদন বা প্রস্তুত শিল্পঃ শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল বা অর্ধপ্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াকে উৎপাদন বা প্রস্তুত শিল্প বলে ।খনি থেকে প্রাপ্ত লৌহ আকরিক ব্যবহার করে লৌহ ও ইস্পাত সামগ্রী উৎপাদন -এ শিল্পের কার্যাবলী ।

◼বিশ্লেষণ শিল্পঃ
একই পদার্থ হতে বিশ্লেষণ বা পৃথককরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী তৈরিকে বিশ্লেষণ শিল্প বলে ।
খনিজ কয়লা থেকে কোককয়লা , ন্যাপথলিন , আলকাতরা ইত্যাদি এ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত ।

◼যৌগিক শিল্পঃ
যে শিল্পে পৃথক পৃথক পদার্থের সংমিশ্রণ করে নতুন দ্রব্য তৈরি করা হয় তাকে যৌগিক শিল্প বলে । লৌহ আকরিক ,কয়লা ,চুনাপাথর ইত্যাদি মিশিয়ে ইস্পাত তৈরি ।

◼প্রক্রিয়াভিত্তিক শিল্পঃ
যে শিল্পে কাঁচামাল বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে পরিণত পণ্যে রূপান্তরিত হয় তাকে প্রক্রিয়াভিত্তিক শিল্প বলে । তুলা হতে বস্ত্র , আখ হতে চিনি ।

◼সংযোজন শিল্পঃ
অন্য শিল্পে উৎপাদিত উপকরণ বা অংশবিশেষকে একত্রিত করে নতুন সামগ্রী উৎপাদন শিল্পকে সংযোজন শিল্প বলে । বিমান , জাহাজ , রেলইঞ্জিন ইত্যাদি ।

৩. নির্মাণ শিল্পঃ যে শিল্প প্রচেষ্টায় রাস্তাঘাট , সেতু , বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণ করা হয় তাকে নির্মাণ শিল্প বলে ।
বাংলাদেশে পদ্মাসেতু , উড়াল সেতু নির্মাণ এ শিল্পের উদাহরণ ।

৪.সেবা পরিবেশক শিল্পঃ যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে সেবা পরিবেশক শিল্প বলে । গ্যাস , বিদুৎ সেবা সরবরাহ ইত্যাদি ।

বাণিজ্য

শিল্পোৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীদের নিকট প্রেরণের ক্ষেত্রে সম্পাদিত কার্যসমষ্টিকেই বাণিজ্য বলে । বাণিজ্য হলো ব্যবসায়ের বন্টনকারী শাখা ।

বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ-

১.বন্টনকারী শাখাঃ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্য বাণিজ্যের মাধ্যমেই চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট পৌঁছে , তাই একে বন্টনকারী শাখা বলা হয় ।

২.বিকেন্দ্রীভূত কাজঃ শিল্প থেকে পরবর্তী ব্যবহারকারী বা ভোগকারীদের নিকট পণ্য পৌঁছাতে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শহরের কেন্দ্র থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে ।এর মাধ্যমেই কাজ এক জায়গায় ক্রেন্দ্রীভূত হওয়া থেকে বিরত থাকে ।

৩. ব্যক্তিগত ও সহায়ক উপযোগ সৃষ্টিঃ বাণিজ্য মূলত ব্যক্তিগত বা স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করে । যার কারণে একাধিক বার ক্রয় – বিক্রয়ের প্রয়োজন পরে । এর সাথে বিভিন্ন সহায়ক- অর্থগত , ঝুঁকিগত , স্থানগত , কালগত ইত্যাদি উপযোগ সৃষ্টি আবশ্যক ।

৪. চলতি মূলধন আধিক্যঃ বাণিজ্যের প্রধান বিষয় হলো- ক্রয় – বিক্রয় ।এ কাজের জন্য অধিক চলতি মূলধনের প্রয়োজন পড়ে ।

৫. সহজে বিনিয়োগ স্থানান্তরের সুযোগঃ ‘দোকান বিক্রয় হবে’, ‘ ব্যবসায় পরিবর্তন হেতু মূল্য হ্রাস ‘ ইত্যাদি ঘোষণার মাধ্যমে প্রয়োজনে দ্রুতই বিনিয়োগ স্থানান্তর করা যায় ।

বাণিজ্যের আওতা বা পরিধি বিস্তৃত

১. ট্রেড বা পণ্য বিনিময়ঃ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য পণ্য – সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় কার্যকে পণ্য বিনিময় বলে ।

◼অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যঃ কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় কার্যসম্পাদিত হয় , তাই অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ।

লেনদেনের প্রকৃতি অনুযায়ী এরূপ বাণিজ্যকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায় –

▪পাইকারি ব্যবসায়ঃ উৎপাদনকারী বা আমদানিকারকের নিকট থেকে অধিক পরিমাণে পণ্যসামগ্রী একত্রে ক্রয় করে তা খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করাকে পাইকারি ব্যবসায় বলে ।এরূপ ব্যবসায়ীগণ ভোগ্য পণ্যের বেলায় উৎপাদনকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীর মধ্যে এবং শিল্প কাঁচামালের বেলায় উৎপাদনকারী ও শিল্প মালিকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ।

▪খুচরা ব্যবসায়ঃ যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পাইকার বা অন্য কোনো উৎস হতে পণ্য সংগ্রহ করে তা চূড়ান্ত ভোক্তার বা ব্যবহারকারীর নিকট বিক্রয় করে তাকে খুচরা ব্যবসায় বলে ।

◼বৈদেশিক বাণিজ্যঃ এক দেশের সাথে অন্য দেশের বা এক দেশের ব্যবসায়ীর সাথে অন্যদেশের ব্যবসায়ীর যে ক্রয় -বিক্রয় সম্পাদিত হয় তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে ।

▪আমদানিঃবিদেশথেকেপণ্যসামগ্রীক্রয়করেআনাকেআমদানিবলে।দেশেরঅভ্যন্তরেসকলপণ্যউৎপাদননাহলে,অন্যদেশথেকেএনেতারচাহিদামেটানোহয়।

▪রপ্তানিঃ বিদেশের নিকট বা বিদেশী কোনো ব্যবসায়ীর নিকট পণ্য বিক্রয় কার্যকে রপ্তানি বলে । মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পত্র (Letter of credit/LC) খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিল ।

▪পুনঃরপ্তানিঃ বিদেশ থেকে পণ্য সামগ্রী আমদানি করে পুনরায় অন্যদেশে রপ্তানি করা হলে তাকে পুনঃরপ্তানি বলে।

২.পণ্য বিনিময় সহায়ক কার্যাবলিঃ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় ।এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সম্পাদিত কার্যাবলিকে পণ্য বিনিময় সহায়ক কার্যাবলি বলে।

◼ব্যাংকঃবাণিজ্যের ক্ষেত্রে অর্থগত বাধা দূর করতে ব্যাংক সাহায্য করে ।

◼বিমাঃ ব্যবসায়ের সাথে ঝুঁকি ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত ।এই ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই বিমা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ।

◼পরিবহনঃ উৎপাদনকারী ও ভোগকারীর মধ্যে স্থানগত দূরত্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে । এই বাধা দূর করে চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট পণ্য পৌঁছাতে পরিবহন কাজ করে ।

◼গুদামজাতকরণঃ পণ্য সামগ্রী উৎপাদনের পরে চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত তা সংরক্ষণের প্রয়োজন পরে ।গুদামজাতকরণ এ বাধা দূর করে ।

◼বাজারজাতকরণ প্রসারঃ পণ্য উৎপাদন করে তা সম্পর্কে ভোক্তাদের জানাতে হবে , এজন্য বিভিন্ন বাজারজাতকরণ প্রসার কৌশলঃ বিজ্ঞাপন , প্রচার ,বিক্রয়প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে জ্ঞানগত বাধাদূর করা হয় ।

প্রত্যক্ষ সেবা

গ্রাহকদেরপ্রয়োজনপূরণে সমর্থ এমন কোনো কাজ ,সুবিধা বা তৃপ্তিকে প্রত্যক্ষসেবা বলে ।যেমনঃ
শিক্ষাসেবা, স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত সেবা এবং ভোক্তা সেবা ।

প্রত্যক্ষ সেবার বৈশিষ্ট্য

১.কাজ বা সুবিধা
২. অস্পর্শনীয় প্রকৃতি
৩. মালিকানা হস্তান্তরযোগ্য নয়
৪. মজুতযোগ্য নয়
৫. গ্রাহকের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠান

ব্যবসায়ের কার্যাবলি

ব্যবসায়ে উৎপাদন করলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না ,চূড়ান্ত ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে হয় পণ্য ।ব্যবসায়ের যেসকল কার্যাবলি লক্ষ্যণীয় তা হলো-

১. উৎপাদনঃ উৎপাদন ব্যবসায়ের প্রথম ও মৌল কাজ ।একজন ব্যবসায়ী বা শিল্প মালিক বিক্রয়ের জন্যই পণ্য বা সেবাসামগ্রী উৎপাদন করেন ।উৎপাদনের কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের যে যাত্রাশুরু হয় প্রকৃত ভোগকারীর নিকট তা পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত ব্যবসায়ের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখাকে তা সম্পৃক্ত করে ।শিল্প উৎপাদনের বাহন আর এটি রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে ।

২. ক্রয়-বিক্রয়ঃ নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তর করাই ক্রয় বিক্রয় নামে পরিচিত ।ব্যবসায়ে উৎপাদন করতে হলে যেমন পণ্য কিনতে হয় তেমনি উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রয় ও করতে হয় ।
এর মাধ্যমেই ব্যবসায়ের চাকা সচল থাকে ।

৩. অর্থসংস্থানঃ মূলধন ছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বুঝে কাম্য পরিমাণ মূলধন উপযুক্ত উৎস বা উৎসসমূহ থেকে সংগ্রহ ও কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াকে অর্থসংস্থান বলে ।

৪. ঝুঁকিগ্রহণঃ ঝুঁকি হলো আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা , মানুষের জীবন ও সম্পত্তিকে ঘিরে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান ।ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আগুনের ক্ষতি , জাহাজ ডুবিসহ নানান দুর্ঘটনা হওয়া স্বাভাবিক । এধরনের নানান ঝুঁকি মাথায় নিয়েই ব্যবসায়ীকে পথ চলতে হয় ।আর ব্যবসায়ের ঝুঁকিগত বাধা বিমার মাধ্যমেই দূর করা হয় ।

৫.পরিবহনঃ উৎপাদন স্থল থেকে ভোক্তার নিকট পণ্য প্রেরণের মাধ্যমে স্থানগত বাধাদূর করার উপায় হলো পরিবহন ।বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপে পাওয়া যাচ্ছে , কার্যকর পরিবহন ছাড়া এর কোনোটিই সম্ভব ছিলো না ।এই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে পরিবহন কার্য এর অবিচ্ছেদ্য অংশ ।

৬.গুদামজাতকরণঃউৎপাদন ও ভোগের মধ্যবর্তী সময়ে বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবসায়ীগণ পণ্য সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাকে গুদামজাতকরণ বলে ।এটি ব্যবসায়ের সময় বা কালগত বাধাদূর করে ।আলু উৎপাদনের পরপরেই রাখা হচ্ছে কোল্ডস্টোরেজে দীর্ঘসময় ব্যবহারের জন্য ।

৭.প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণঃ পণ্যের ওজন , আকার , রং , গুণাগুণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের সঠিক মানের সীমা নির্ধারণ করাকে প্রমিতকরণ বলে ।পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্যের বিভাজন করার কাজকে পর্যায়িতকরণ বলে।

৮. মোড়ককরণঃ মান সংরক্ষণ, ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা ও আকর্ষণীয় ভাবে পণ্যকে গ্রাহকদের নিকট উপস্থাপন করার জন্য মোড়ক দিয়ে ঢেকে দেয়াকে মোড়ককরণ বলে ।

৯.বাজারজাতকরণ প্রসারঃ পণ্য, সেবা বা ব্রান্ড সম্পর্কে সম্ভাব্য গ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে বিক্রয় বৃদ্ধির প্রয়াসকেই বাজারজাতকরণ প্রসার বলে ।

ব্যবসায়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

◼ অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ

১. সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার
২. মূলধন গঠন ও তার সদ্ব্যবহার
৩.ব্যক্তিগত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি
৪. উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার
৫. সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি
৬. জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি
৭. সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন

◼সামাজিক গুরুত্বঃ

১. পণ্য ও সেবার যোগান
২.বেকার সমস্যার সমাধান
৩.শিল্প কলা , শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ
৪.সম্পর্কের উন্নয়ন

সামাজিক ব্যবসায়

যে ব্যবসায় গড়তে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ মূলধন দেন কিন্তু তার পিছনে মুনাফা অর্জন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তির কোনো উদ্দেশ্য থাকে না বরং সমাজের কল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যই থাকে মুখ্য তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে ।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party