অধ্যায় ১ঃ অব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের হিসাব

হিসাববিজ্ঞান / হিসাববিজ্ঞান (২য় পত্র)

অধ্যায় ১ঃ অব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের হিসাব

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান মূল কাজ হচ্ছে পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা। কিন্তু যে ধরনের প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রয় মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে না তাদেরকে আমরা বলি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মূলত ২ প্রকার।

১) মুনাফাভোগী অব্যবসায় প্রতিষ্ঠান: যেমন: ডাক্তারের ক্লিনিক, আইনজীবীদের প্রতিষ্ঠান, নিরীক্ষা ফার্ম ইত্যাদি পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান।

২) অমুনাফাভোগী অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান: যেমন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ক্লাব, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষণে আমরা যে বিবরণী সমূহ ব্যবহার করি:

– প্রাপ্তি প্রদান হিসাব

– আয় ব্যয় হিসাব

– মূলধন তহবিল বিবরণী

– উদ্বৃত্তপত্র

প্রাপ্তি প্রদান হিসাব: অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নগদ প্রাপ্তি ও নগদ পরিশোধ সমূহ প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। নগদ প্রাপ্তি সমূহ থাকে ডেবিট পাশে এবং প্রদান সমূহ ক্রেডিট পাশে। এবং একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে নগদ এবং ব্যাংক জমার জের পাওয়া যায় ।

আয় ব্যয় হিসাব: অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল বা নিট মুনাফা বের করা হয় আয় ব্যয় হিসাবের মাধ্যমে। আয় ব্যয় হিসাবের ২ টি পক্ষ থাকে।

ডেবিট পক্ষে থাকে ব্যয়সমূহ। এবং ক্রেডিট পাশে থাকে আয়সমূহ। এই সকল আয়-ব্যয় আমরা পাই প্রাপ্তি প্রদান হিসাব ও সমন্বয় থেকে।

অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আয়ের মধ্যে থাকে:

  • চাঁদা,
  • অনুদান,
  • চারণ কর
  • স্থায়ী আমানতের সুদ,
  • টিকিট বিক্রয়,
  • চা চক্র হতে মুনাফা,
  • সম্পত্তি বিক্রয় জনিত মুনাফা,
  • লকার ভাড়া ইত্যাদি মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি।

অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের মধ্যে থাকে:

  • ভাড়া,
  • বেতন ও মজুরি,
  • মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ,
  • ডাক ও তার,
  • বিজ্ঞাপন খরচ,
  • আপ্যায়ন খরচ,
  • খাদ্যসামগ্রী ব্যয়,
  • বীমা সেলামি,
  • অফিস খরচ ইত্যাদি মুনাফাজাতীয় প্রদান।

চাঁদা সংক্রান্ত সমস্যা :

চাঁদা বাবদ নগদ প্রাপ্তি

যোগ: চলতি বছরের বকেয়া চাঁদা

বিয়োগ: চলতি বছরে প্রাপ্ত অগ্রিম চাঁদা

যোগ: বিগত বছরের প্রাপ্ত অগ্রিম চাঁদা

বিয়োগ: বিগত বছরের বকেয়া চাঁদা

ফলাফল= চাঁদা আয়

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফা:

* ভর্তি ফি, আজীবন সভ্যের চাঁদা, উইলকৃত সম্পত্তি এসব প্রাপ্তিকে মূলধন জাতীয় আয় মনে করা হয় তাই উদ্বৃত্তপত্রে দায় পাশে দেখানো হয়। কিন্তু যদি সমন্বয়ে কোনো অংশ মুনাফা জাতীয় আয় হিসেবে দেখাতে বলে, তাহলে আয়-ব্যয় বিবরণীতে আয় হিসেবে দেখানো হয়।

* অনুদান কে সাধারণত মুনাফা জাতীয় আয় মনে করা হয় তাই আয়-ব্যয় বিবরণীতে হিসেবে দেখানো হয়।

মূলধন তহবিল: কোন নির্দিষ্ট দিনে অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদ হতে মোট বহির্দায় বাদ দিলে মূলধন তহবিল পাওয়া যায়।

সহজে বললে,

প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল= (প্রারম্ভিক সম্পদ – প্রারম্ভিক দায়)

সমাপনী মূলধন তহবিল= (সমাপনী সম্পদ – সমাপনী দায়)

মূলধন তহবিল নির্ণয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:

* প্রারম্ভিক সম্পদ ও দায় যেগুলোর তথ্য সুস্পষ্টভাবে দেওয়া থাকবে, সেগুলো যথারীতি সম্পদ ও দায় পাশে আনতে হবে।যেমন;প্রারম্ভিকতারিখেআসবাবপত্রেরমূল্য দেওয়াআছে৫০০০০টাকা।তাহলেপ্রারম্ভিক মূলধন তহবিলেসম্পদপক্ষেআসবাবপত্রআসবে৫০,০০০টাকা।

* প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাবের প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত (নগদ ও ব্যাংক) প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল নির্ণয়ের সময় সম্পদ পাশে দেখাতে হবে।অর্থাৎশুরুতেনগদওব্যাংকতহবিলপ্রারম্ভিক মূলধন তহবিলএসম্পদপাশে বসে।

* এছাড়া প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাবে বিগত বছরের কোন দফা থাকলে (যেমন: বিগত বছরের অনাদায়ী আয় প্রাপ্তি, বিগত বছরের বকেয়া খরচ প্রদান ইত্যাদি) তা নিয়মানুযায়ী প্রারম্ভিক মূলধন তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

* সমাপনী মূলধন তহবিলে চলতি হিসাব বছরে ক্রয় কৃত বা সৃষ্ট সম্পত্তি বা দায়ের মূল্য যোগ হবে।

* প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল নির্ণয় সময় চলতি হিসাব বছরে ক্রয় কৃত বা সৃষ্ট সম্পত্তি বা দায়ের মূল্য যোগ হবে না।

বিশেষ তহবিল: অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিশেষ কোন খাতে অর্থ ব্যয় করতে বিশেষ তহবিল গঠন করে। যেমন; ত্রাণ তহবিল, বৃত্তি তহবিল, কল্যাণ তহবিল, সঞ্চিতি তহবিল ইত্যাদি। বিশেষ তহবিল উদ্বৃত্তপত্রে দায় অংশ দেখাতে হয়।

উদ্বৃত্ত পত্র: উদ্বৃত্তপত্রে অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায়, মালিকানা স্বত্বের চূড়ান্ত বিবরণী তৈরি করা হয়। উদ্বৃত্তপত্র এবং আর্থিক অবস্থার বিবরণী অনেকটাই একই রকম। পার্থক্য হচ্ছে আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে সম্পদ উপরে এবং দায় নিচে দেখাতে হয়। অন্যদিকে, উদ্বৃত্তপত্রে সম্পত্তি সমূহ ডানপাশে এবং দায়সমূহ বামপাশে দেখাতে হয়।

উদ্বৃত্তপত্র প্রস্তুত প্রণালী:

১) প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল উদ্বৃত্তপত্রের দায় পাশে দেখানো হয়। এর সাথে অনুদান, ভর্তি ফি, উইল কৃত সম্পত্তির মূলধনজাতীয় অংশ যোগ করতে হয়। তারপর আয় ব্যয় হিসাব এর ফলাফল সমন্বয় করে সমাপনী মূলধন তহবিল নির্ণয় করা হয়।

২) এরপরে দায় পাশে বিশেষ তহবিল, দীর্ঘমেয়াদি দায় এবং চলতি দায় যোগ করে মোট ফলাফল নির্ণয় করতে হবে।

৩)অন্যদিকে, সম্পত্তি পাশে প্রাপ্তি প্রদান হিসাব, সমন্বয় ও অন্যান্য তথ্য থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি সমূহ যোগ করে মোট ফলাফল নির্ণয় করতে হবে।

৪) প্রাপ্তি প্রদান হিসাব এর সমাপনী উদ্বৃত্ত (নগদ ও ব্যাংক) উদ্বৃত্তপত্রে সম্পদে দেখাতে হবে।অর্থাৎপ্রাপ্তিপ্রদান হিসাবেরশেষতারিখেরজেরবাব্যালেন্সসি/ডিউদ্বৃত্তপত্রেসম্পদে দেখাতে হবে।

৫) সমন্বয় অবচয় থাকলে উদ্বৃত্তপত্রের সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি হতে বাদ যাবে।

৬) সকল বকেয়া খরচ ও অগ্রিম প্রাপ্ত আয় উদ্বৃত্তপত্রের দায় পাশে দেখাতে হবে।

৭) সকল প্রাপ্ত আয় ও অগ্রিম প্রদত্ত ব্যয় উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তি পাশে দেখাতে হবে।

সকলকে আগামীদিনের শুভকামনা।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party