অধ্যায় ১ঃ ব্যবস্থাপনার ধারনা

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা / ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২য় পত্র)

অধ্যায় ১ঃ ব্যবস্থাপনার ধারনা

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ ব্যবস্থাপনার ধারণা , ব্যস্থাপনার বৈশিষ্ট্য , ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব , ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উপকরণ , ব্যস্থাপনার কার্যাবলি , ব্যবস্থাপনার আওতা , ব্যস্থাপনা চক্র ,ব্যস্থাপনার বিভিন্ন স্তর ,ব্যবস্থাপনা কি পেশা , ব্যস্থাপনার সর্বজনীনতা ।

অধিক গুরুত্বপূর্ণঃব্যবস্থাপনার ধারণা , ব্যস্থাপনার বৈশিষ্ট্য , ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উপকরণ , ব্যস্থাপনার কার্যাবলি , ব্যবস্থাপনার আওতা , ব্যস্থাপনা চক্র , ব্যস্থাপনার বিভিন্ন স্তর , ব্যবস্থাপনা কি পেশা ।

ব্যবস্থাপনার ধারণা

উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য পরিকল্পনা , সংগঠন , কর্মীসংস্থান , নির্দেশন , প্রেষণা , সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকে ব্যবস্থাপনা বলে ।

ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি কাজ ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং একটি কাজ অন্যকে প্রভাবিত করে । সকল কাজের যথার্থতার ওপর এর লক্ষ্যার্জন নির্ভরশীল । এরূপ প্রায়স -প্রচেষ্টার সাথে সস্পৃক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ব্যবস্থাপক বলা হয় ।

ব্যস্থাপনার বৈশিষ্ট্য

কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা লাভ করতে হলে তার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা আবশ্যক । কারণ , প্রকৃতি হলো কোনো বিষয়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ।অন্যদিকে বৈশিষ্ট্য হলো বিশেষভাবে নজরে পড়ে স্বতন্ত্রধর্মী এমন কিছু ।তাই ব্যবস্থাপনাকে ও বুঝতে হলে এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা প্রয়োজন ।

নিম্নে এরূপ কতিপয় বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো –

১.প্রক্রিয়া বা কাজের সমাহারঃপরস্পর নির্ভরশীল ধারাবাহিক কাজের সমষ্টিক্র প্রক্রিয়া বলে । সেই বিচারে ব্যস্থাপনা ও একটি প্রক্রিয়া ।কারণ ব্যবস্থাপনাতে ও পরিকল্পনা থেকে নিয়ন্ত্রণ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে ।

২.সামাজিক প্রক্রিয়া বা কার্যক্রমঃ ব্যবস্থাপনা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া ।এরূপ প্রক্রিয়া বলতে ধারাবাহিক কার্য সমষ্টির সাথে সমাজের বা সমাজ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সম্পৃক্ততাকে বুঝায় । ব্যবস্থাপনা মানুষকে সংঘবদ্ধ করে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করে ।

৩.লক্ষ্য অর্জনের উপায়ঃ কোনো কাজের মূলে যে প্রত্যাশা থাকে তাকে লক্ষ্য বলে ।এ লক্ষ্য অর্জনের জন্যই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ।ব্যবসায়ের মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন করা তাই ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয় ।

৪.কাজ আদায়ের কৌশলঃ ব্যবস্থাপনা সবসময়ই প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত জনশক্তির থেকে যথাযথ কাজ আদায়ে সচেষ্ট থাকে । এ লক্ষ্যেই পরিকল্পনা , সংগঠন , কর্মীসংস্থান ইত্যাদি কাজ পরিচালিত হয় । অর্থাৎ অন্যদের থেকে কাজ করিয়ে নেয়া হয় ।

৫.অর্থনৈতিক সম্পদঃ উৎপাদনের কাজে লাগে এমন কিছুকেই সম্পদ বলে ।ব্যস্থাপনা একটি মূল্যবান সম্পদ । একই সুযোগ -সুবিধা সম্বলিত একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যর্জনে ভিন্নতা দেখা যায় মূলত ব্যবস্থাপনার মানগত পার্থক্যের কারণে ।

৬.জ্ঞানের পৃথক শাখাঃ জ্ঞানের পৃথক শাখা হিসেবে ব্যবস্থাপনা আজ সর্বত্রই স্বীকৃত ।বৃহদায়তন প্রাতিষ্ঠানিক জগতে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞান ছাড়া দক্ষতার সাথে ব্যবস্থাপনা কার্যপরিচালনা অসম্ভব ।

৭.সর্বজনীনতাঃ সর্বজনীনতা বলতে সর্বত্রই এর প্রয়োগ যোগ্যতাকে বোঝায় ।দলবদ্ধ যেকোনো প্রচেষ্টায় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য ।পরিবার থেকে রাষ্ট্র সব খানেই ব্যস্থাপনা বিদ্যমান ।

ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

◾উপকরণাদির সুষ্ঠু ব্যবহারঃ উপকরণ বলতে কার্য সম্পাদনের জন্য ব্যবহার্য বস্তুকে বোঝায় । ভূমি , শ্রম , মূলধন ইত্যাদি উপকরণ কোথা ও থাকাই উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট নয় , এগুলোর যথাযথ ব্যবহারের জন্য যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তাই ব্যবস্থাপনা ।সকল উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমেই কাম্য লক্ষ্যঅর্জন সম্ভব হবে ।

দক্ষতা বৃদ্ধিঃ দক্ষতা হলো কম খরচে বেশি কাজ লাভের সামর্থ্য ।ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ।একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একই সময়ে যে পরিমাণ উৎপাদন করে অন্য প্রতিষ্ঠানে তার চেয়ে কম উৎপাদন হয় ।এতে প্রথম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় ভালো করবে ।যেখানে অপচয় হ্রাস পাবে মুনাফা বৃদ্ধি পাবে ।

◾শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠঃ শৃঙ্খলা বলতে রীতি , নিয়ম , নীতি , সুব্যবস্থা ইত্যাদিকে বুঝায়।একটি প্রতিষ্ঠানে যদি এগুলো না থাকে তবে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই ভালো করতে পারে না ।একটা প্রতিষ্ঠানে এই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থাকে মূলত পরিচালক বা ব্যবস্থাপকগণের ওপর ।তারা যদি তাদের কাজের মধ্যে দিয়ে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন তবে ঐ প্রতিষ্ঠান ভালো চলতে পারে না ।

◾উত্তম সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাঃ একটি প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ব্যবস্থাপনাই শুধুমাত্র সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে । মালিক বাব্যস্থাপকদের মধ্যে যদি পারস্পরিক সম্পর্কের অভাব থাকে ,তবে নিচের স্তরের কর্মরত শ্রমিক – কর্মীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক , স্বচ্ছন্দ ও কর্মমুখী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

◾কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিঃ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি বলতে মানুষকে কাজে লাগানোর মতো নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টিকে বুঝায় ।উত্তম ব্যবস্থাপনা নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে ।

ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উপকরণ

ব্যবস্থাপনার কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনে লাগে এমন বস্তু বা সম্পদকেই ব্যস্থাপনার উপকরণ বলে । ব্যবস্থাপনা হলো উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর কৌশল বা প্রক্রিয়া । এরূপ উপকরণের মধ্যে মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণ অন্তর্ভুক্ত ।এগুলোকে একত্রে 6M বলা হয় ।
১.মানুষ
২.মালামাল
৩.যন্ত্রপাতি
৪.অর্থ
৫.বাজার
৬.পদ্ধতি

ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহারের প্রয়াস বা প্রক্রিয়াকেই ব্যবস্থাপনা বলে ।প্রক্রিয়া বলতে পরস্পর নির্ভরশীল ধারাবাহিক কাজের সমষ্টিকে বুঝায় ।
ব্যস্থাপনায় এমন কতকগুলো কাজ রয়েছে যা পরস্পর নির্ভরশীল ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সম্পন্ন হয়ে থাকে ।ব্যস্থাপনা বিশারদগণ ব্যবস্থাপনার একাজ বা কর্মপ্রক্রিয়াকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন , যেমন –

⚫হেনরিফেয়ল-
পূর্বানুমান ও পরিকল্পনা , সংগঠন , আদেশদান, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ।
⚫আইরিকওকুঞ্জ-
পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নেতৃত্বদান ও নিয়ন্ত্রণ
⚫এল.গুলিক-
পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা,সমন্বয়সাধন, রিপোর্টপ্রদান ও বাজেট প্রণয়ন।
সংক্ষেপে(POSDCORB – planning, organizing,staffing, directing, co-rdination, Reporting, budgeting)
⚫আরনেস্টডেল-
পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা,নিয়ন্ত্রণ,উদ্ভাবন ও উপস্থাপন।

১.পরিকল্পনাঃ ভবিষ্যতে কী করা হবে তা আগাম ঠিক করাকেই পরিকল্পনা বলে ।ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম কাজ হলো পরিকল্পনা ।পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ ধারাবাহিকতা মেনে সম্পন্ন হয় ।তাই পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যবস্থাপকগণকে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে ।

২.সংগঠনঃগৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উপকরণাদিকে সংগঠিত ও কাজে লাগানোর উপযোগী করাকেই সংগঠন বলে ।মানুষ,উপকরণ, মালামাল, অর্থ সকল কিছু থাকলে ও সব গুছিয়ে কাজ শুরু না করলে কোনো কিছুরই গুরুত্ব পাওয়া যাবেনা তাই , উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজকে বিভাজন , প্রতিটি কাজের জন্য দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্দিষ্টকরণ এবং সে অনুযায়ী উপায়-উপকরণকে সংহত করে তাদের মধ্যে সম্পর্ক নির্দিষ্ট করার কাজকে সংগঠন বলে ।

৩.কর্মীসংস্থানঃ প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপযুক্ত কর্মীসংগ্রহ ,নির্বাচন , নিয়োগ ও উন্নয়নের কাজকেই কর্মীসংস্থান বলে।জনবলের যোগ্যতা ,দক্ষতা ও আগ্রহের উপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে ।এক্ষেত্রে যদি দুর্বল ও রোগগ্রস্ত লোক নিয়োগ করা হয় , তাহলে তার নিকট থেকে উপযুক্ত সার্ভিস কখনোই পাওয়া যাবে না , তাই কর্মীসংস্থান করার ক্ষেত্রে ও যথেষ্ট সাবধান থাকতে হবে ।

৪.নেতৃত্ব /নেতৃত্বদানঃ কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে লক্ষ্য পানে এগিয়ে নেয়ার কৌশলকেই নেতৃত্ব বলে । প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য আদেশদান ,পরিচালনা করা ,প্রভাবিত করা , উৎসাহিত করা , স্বেচ্ছা প্রণোদিত করা ইত্যাদি বিষয় এর সাথে সম্পৃক্ত ।এসকল বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।

◾নির্দেশনঃ অধস্তন জনশক্তিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশদান ,তত্ত্বাবধান ,উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান এবং অনুসরণ কার্যকে নির্দেশন বলে ।কর্মীরা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা তত্বাবধানের প্রয়োজন পরে । মাঝে মাঝে তাদের অনুসরণ ও করতে হয়।

◾প্রেষণাঃঅধস্তন কর্মীদের কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত ও স্বেচ্ছা প্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে ।কর্মীদের কোনো কাজ দিলেই তারা আন্তরিকতার সাথে শেষ করবে এমন আশা করা যায় না ।তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে কাজ আদায় এবং প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখার কাজ বর্তমান কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

◾সমন্বয়সাধনঃবিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজকে একসূত্রে গ্রথিত ও সংযুক্ত করার কাজকে সমন্বয়সাধন বলে ।প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ব্যক্তি ও বিভাগ যদি নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করে , অন্যের সাথে নিজের কাজের সমন্বয় বা সংযুক্তির বিষয়টি না ভাবে তবে দেখা যাবে এক পর্যায়ে সামগ্রিক কাজে প্রচন্ড বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে ।তাই সকল উপকরণ বা সকল উপাদান একত্রে করে কাজ শুরু করতে হবে।

৫.নিয়ন্ত্রণঃপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদি সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা পরিমাপ , বিচ্যুতি ঘটলে তার কারণ নির্ণয় ও বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ বলে । পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ না হলে , কেন হয় নি , কি ঘাটতি ছিলো , কেন বিচ্যুতি হলো তার সমাধান বের করে , পুনরায় সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন করতে হয় ।

ব্যবস্থাপনার আওতা/পরিধি

ব্যবস্থাপনার কাজ হলো অন্যের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা ।বর্তমানে ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র শিল্প – কারখানা , ব্যবসা – বাণিজ্যেই কেন্দ্রীভূত নয় ; সরকারি – বেসরকারি , বাণিজ্যিক – অবাণিজ্যিক সকল প্রতিষ্ঠানেই এটি একটি প্রধান কার্য হিসেবেই বিবেচিত ।বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাপনার আওতা হলো –

১.প্রতিষ্ঠান ভেদে ব্যবস্থাপনার আওতাঃ

(ক) সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানঃ এর আওতাভুক্ত হলো পরিবার , সমাজ , স্কুল – কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয় , হাসপাতাল , ক্লাব , সামাজিক সংস্থা , ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান , এনজিও প্রতিষ্ঠান , হাট – বাজার ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা ।

(খ)রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানঃ এর অধীন হলো ইউনিয়ন পরিষদ , উপজেলা ও জেলা পরিষদ , সিটি কর্পোরেশন , পুলিশ প্রশাসন , ডাক , টেলিযোগাযোগ , সড়কযোগাযোগ , রেল , বিমান , বাংলাদেশ ব্যাংক ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা।

(গ) ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানঃ বিভিন্ন ধরনের বড় , মাঝারি , ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প , খুচরা , পাইকারি , আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান , ব্যাংক , বিমা , পরিবহন , গুদামজাতকরণ ইত্যাদি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ।

(ঘ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানঃজাতিসংঘ ও এর অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান , বিশ্বব্যাংক , আইএমএফ , বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা , আন্তর্জাতিক আদালত , শ্রম সংস্থা , এডিবি ,ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা এর মধ্যে পড়ে ।

২.কাজের দৃষ্টিকোণ হতে ব্যবস্থাপনার আওতাঃ

(ক)প্রতিষ্ঠান পরিচালনাঃ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বলতে একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপায় -উপাদানের সুষ্ঠু পরিচালনা বা নেতৃত্ব প্রদানকে বুঝায় ।তাই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যই ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত ।

(খ)ব্যবস্থাপকদের ব্যবস্থাপনাঃ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তর হতে একেবারে নিচের স্তরে নিয়োজিত ফোরম্যান বা সুপারভাইজার পর্যায়ের সব লোকেরই ব্যস্থাপনার আওতাধীন ।যাদের ব্যবস্থাপনা ও এর অধীনে গড়ে ।

(গ) শ্রমিক-কর্মী পরিচালনাঃ শ্রমিক-কর্মীদের নিকট হতে যথাযথ কাজ আদায়ের নিমিত্তে পরিকল্পনা গ্রহণ , সংগঠন , কর্মী , নিয়োগ , প্রশিক্ষণ , পদোন্নতি , কর্মীপরিচালনা , প্রেষণা কার্যাবলি গ্রহণ করতে হয় । এগুলো ব্যবস্থাপনা কার্যের অধীন ।

৩.কৌশল প্রয়োগের ভিত্তিতে আওতাঃ

প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে সফলতার সাথে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের রণকৌশল গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে । এরূপ কৌশল গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার আওতার মধ্যে পড়ে ।

৪.কার্যবিভাগের দৃষ্টিকোণ হতে ব্যবস্থাপনার আওতাঃ

কার্য বিভাগের দৃষ্টিকোণ হতে উৎপাদন ধর্মী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকে নানান ভাগে ভাগ করা হয়ঃ উৎপাদনব্যবস্থাপনা , ক্রয়ব্যবস্থাপনা , বিক্রয়ব্যবস্থাপনা , শ্রমিক -কর্মী ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ।

৫.স্তরভেদে ব্যবস্থাপনার আওতাঃ

একটা বড় উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার উপরি স্তরে থাকেন পরিচালকমন্ডলী চেয়ারম্যান , ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাধারণ ব্যবস্থাপক ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ ।মধ্য স্তরে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক , জেনারেল ব্যবস্থাপক , কারখানা ব্যবস্থাপক ইত্যাদি ।নিম্ন স্তরে সুপারভাইজার , মাঠ কর্মকর্তা , ফোরম্যান ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ সরাসরি কাজ তত্ত্বাবধান করেন ।

ব্যবস্থাপনা চক্র

ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার অধীন কার্যসমূহের চক্রাকারে আবর্তিত হওয়াকে বুঝায় ।ব্যবস্থাপনা হলো কতিপয় কার্যের সমষ্টি ।এরূপ কার্যাদি একটি ধারাবাহিক কর্মপ্রক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।
ব্যবস্থাপনা একটি প্রক্রিয়া । ফলে তা ধারাবাহিক ওপরস্পর নির্ভরশীল কতিপয় কাজের সমষ্টি । পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট সময়ের লক্ষ্যঅর্জনের জন্য নেয়া হয় ।এর আলোকে সংগঠন প্রতিষ্ঠা , কর্মীসংস্থান, নির্দেশ প্রদান, যোগাযোগ ও তত্ত্বাবধান, উৎসাহ প্রদান,বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন এবং কাজ বা সময় শেষে নিয়ন্ত্রণ বা সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হয় ।এভাবে প্রতিষ্ঠান যতদিন চলে ব্যবস্থাপন প্রক্রিয়া বা কার্যচক্র ও ততদিন স্বভাবিক নিয়মেই আবর্তিত হয়ে থাকে ,আর এটিই হলো ব্যবস্থাপনা চক্র ।

ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তর

ব্যবস্থাপনার কার্যসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তর হতে নিম্নস্তর পর্যন্ত সকল স্তরেই কম বেশি কাজ করা হয় । এই নিম্নে এসকল স্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো

১.উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনাঃ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ব্যস্থাপনাকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে । প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণই এদের মূখ্য কাজ ।কোনো কোম্পানির পরিচালক মন্ডলী , চেয়ারম্যান , ম্যানেজিং ডিরেক্টর , সচিব ও ক্ষেত্র বিশেষে জেনারেল ম্যানেজার – এই স্তরের ব্যবস্থাপক ।

২.মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনাঃ উচ্চপর্যায়ে গৃহীত লক্ষ্য ,পরিকল্পনা ও নীতি -নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিম্নপর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণকে কাজে লাগাতে ব্যবস্থাপনার যে স্তর কাজ করে তাকে মধ্যপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে । এরা উচ্চ ও নিম্নস্তরের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

৩.নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনাঃ মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনা , নীতি-কৌশল মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যবস্থাপনাকে নিম্নপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে।ফোরম্যান,সুপারভাইজার ইত্যাদি এ পর্যায়ে কর্মরত থাকে ।

ব্যবস্থাপনা কি পেশা ?

বিশেষায়িত জ্ঞান ও ডিগ্রি সম্বলিত ব্যক্তিবর্গ যারা রাষ্ট্র স্বীকৃত নিজস্ব সংঘ বা সমিতির সদস্য হয়ে নির্দিষ্ট আচরণবিধি ও নিয়ম -নীতির আওতায় কোনো কাজ বা বৃত্তিতে লিপ্ত থাকে তাদের এইকাজ বা বৃত্তিকে পেশা বলে ।
ব্যবস্থাপনাকে পেশা বলা যাবে যখন পেশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য , ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যাবে। কিন্তু দেখা যায় ,ব্যবস্থাপনার অনেক বৈশিষ্ট্যই পেশার সাথে অমিল ।তাই ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ পেশা বলা যাবে না ।
এক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় যে , নিম্নে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো –

১.সুসংবদ্ধ জ্ঞানের প্রসারঃ বর্তমানকালে বিশ্বজুড়েই ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রসার ব্যাপক বাড়ছে । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান BBA , MBA এই সকল কোর্সের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে ।তাই ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র হিসেবে সর্বত্রই প্রতিষ্টিত ।

২.ব্যবস্থাপকীয় পরামর্শক শ্রেণির আবির্ভাবঃ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ নির্বাহী পদে কর্মরত ছিলেন এমন অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ অনেকেই ব্যবস্থাপকীয় পরামর্শক হিসেবে কাজ করে ।এধরনের নিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞানের বিশেষত্ব বা মর্যাদাই তুলে ধরেছে ।

ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন

ব্যবস্থাপনা হলো মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষার্জনের প্রচেষ্টা।
ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা বলতে সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার আবশ্যকতা বা ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের প্রয়োগ যোগ্যতাকে বুঝানো হয়েছে ।
ছোট্ট পরিবার ও ব্যবসায় থেকে শুরু করে বৃহদায়তন বহুজাতিক কোম্পানি ও রাষ্ট্র -সবাই তার লক্ষ্যে পোঁছাতে সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের চেষ্টা চালায় ।এজন্য সর্বত্রই ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার কাজসমূহ আবশ্যক বিবেচিত হয় । তাই বলা হয় ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন ।


কুইজ

[tqb_quiz id=’5823′]

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party