অধ্যায় ০৩ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার

JSC / তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

অধ্যায় ০৩ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার


নিরাপত্তা বিষয়ক ধারণা

জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রকে আরো সুন্দর,আরো সহজ এবং আরো দক্ষভাবে পরিচালনা করতে হলে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিতে হয়।একদিক দিয়ে এটি একটি অসাধারণ ব্যাপার,অন্যদিক দিয়ে এটি নতুন একধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।নেটওয়ার্ক দিয়ে যেহেতু সবাই সবার সাথে যুক্ত,তাই কিছু অসাধু মানুষ এই নেটওয়ার্কের ভেতর
দিয়ে যেখানে তার যাবার কথা নয় সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে।প্রত্যেকটি কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কেরই নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে,কেউ যেন নিরাপত্তার দেয়াল ভেঙে ঢুকতে না পারে তার চেষ্টা করা হয়।নিরাপত্তার এ অদৃশ্য দেয়ালকে ফায়ারওয়াল বলা হয়।অনেকে তথ্য দেখে,সরিয়ে নেয় কিংবা অনেক সময় নষ্ট করে দেয়।এ পদ্ধতিকে
বলে হ্যাকিং।যারা হ্যাকিং করে তাদের বলা হয় হ্যাকার।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে যাবার সময় পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়।কিন্তু পাসওয়ার্ড বের করে ফেলার জন্য বিশেষ কম্পিউটার বা রোবট তৈরি হয়েছে,এগুলো সারাক্ষণ সকল পাসওয়ার্ড দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে
যতক্ষন না সঠিক পাসওয়ার্ড বের হয়।এই সমস্যা ঠেকাতে Captcha নামের এক ধরনের পদ্ধতি রয়েছে।এই অক্ষর গুলো মানুষ বুঝলেও রোবট বুঝে না।
যতই দিন যাচ্ছে আমরা ততই তথ্যপ্রযুক্তি ও নেটওয়ার্কের উপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করছি।অনেকে অনিচ্ছাকৃত বা অনেকে ইচ্ছাকৃত ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।কাজেই ইন্টারনেট থেকে তথ্য নেওয়ার
বেলায় সবসময়ই নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি ব্যবহার করে যাচাই করে নিতে হয়।
ক্ষতিকারক সফটওয়্যার কম্পিউটারে কোন কাজ করতে হলে সেটি প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।কম্পিউটারে দুই ধরনের প্রোগ্রাম থাকে।এর একটি সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অপরটি হলো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।সিস্টেম সফটওয়্যার
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারসমূহকে যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিবেশ নিশ্চিত করে।অন্যদিকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কোন বিশেষ কাজ সম্পন্ন করে।
আবার এমন প্রোগ্রাম কোডিং লেখা সম্ভব,যা সকল সফটওয়্যারের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের সফটওয়্যার ইন্টারফেস বিনষ্ট করতে পারে,এমনকি সম্পুর্ন কম্পিউটারের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে ফেলতে পারে।।যেহেতু এ ধরনের প্রোগ্রামিং কোড বা প্রোগ্রামসমূহ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর তাই এ ধরনের সফটওয়্যারকে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা মেলিসিয়াস সফটওয়্যার বলা হয়।আর মেলিসিয়াস সফটওয়্যারকে
সংক্ষেপে ম্যালওয়্যার (Malware) বলা হয়।ম্যালওয়্যার একধরনের সফটওয়্যার,যা কিনা অন্য সফটওয়্যারকে কাঙ্ক্ষিত কর্মসম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে।
অন্যভাবে বলা যায়,কম্পিউটারে প্রবেশেকারী বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারের সাধারণ নামই হলো ম্যালওয়্যার।কম্পিউটার ভাইরাস,ওয়ার্ম,ট্রোজান হর্সেস,রুটকিটস,কিলগার,ডায়ালার,স্পাইওয়্যার,এডওয়্যার
প্রভৃতি ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত।
ম্যালওয়্যার যেভাবে করে কাজ করে
যেসকল কম্পিউটার সিস্টেমে সফটওয়্যার নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি থাকে,সেসব ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যার তৈরির
সুযোগ সৃষ্টি হয়।কেবল নিরাপত্তা ত্রুটি নয় ডিজাইনে গলদ কিংবা ভুল থাকলেও সফটওয়্যারটিকে অকার্যকর করার
জন্য ম্যালওয়্যার তৈরি করা সম্ভব।বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ম্যালওয়্যারের সংখ্যা তুলনায় বেশি।এর একটি কারন বিশ্বে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি।
সাধারণত ৩ ধরনের ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়-
১. কম্পিউটার ভাইরাসঃ

কম্পিউটার ভাইরাস হলো এমন এক ধরনের ম্যালওয়্যার,যা কোন কার্যকরী ফাইলের (Executable File) সঙ্গে
যুক্ত হয়।যখন ওই প্রোগ্রামটি চালানে হয়,তখন ভাইরাসটি অন্যান্য কার্যকরী ফাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমিত
হয়।
২. কম্পিউটার ওয়ার্মঃ
কম্পিউটার ওয়ার্ম সেই প্রোগ্রাম,যা কোন নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য কম্পিউটারকেও সংক্রমিত করে।
৩. ট্রোজান হর্সঃ
অনেক সফটওয়্যার ভলো সফটওয়্যারের ছদ্মবরণে নিজেকে আড়াল করে রাখে।ব্যবহারকারী সরল বিশ্বাসে সেটিকে
ব্যবহার করে।এটি হলো ট্রোজান হর্স।
কম্পিউটার ভাইরাস
কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম এবং এক
কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সংক্রমিত হতে পারে।কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটার সিস্টেমের নানা ধরনের
ক্ষতি করে থাকে।এর মধ্যে দৃশ্যমান ক্ষতি যেমন কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া,হ্যাং হয়ে যাওয়া,ঘন ঘন রিবুট
(Reboot) হওয়া ইত্যাদি।
কাজের ধরনের ভিত্তিতে ভাইরাসকে দুইভাগে ভাগ করা যায়-
১. অনিবাসী ভাইরাস(Non-Resident Virus)
-কোন কোন ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠার পর,অন্যান্য কোন কোন প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করা যায় সেটি খুজে বের
করে।তারপর সেগুলো সংক্রমণ করে এবং মূল প্রোগ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ দিয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়।এগুলোকে বলা
হয় অনিবাসী ভাইরাস।
২. নিবাসী ভাইরাস(Resident Virus)
-কোন কোন ভাইরাস সক্রিয় হওয়ার পর মেমোরিতে স্থায়ী হয়ে বসে থাকে।যখনই অন্য প্রোগ্রাম চালু হয়,তখনই
সেটি সেই প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করে।এ ধরনের ভাইরাসকে বলা হয় নিবাসী ভাইরাস।
ম্যালওয়্যার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায়
বিশেষ ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম ন্যবহর করে ভাইরাস,ওয়ার্ম কিংবা ট্রোজান হর্স ইত্যাদি থেকে নিষ্কৃতি
পাওয়া যায়।এগিলোকে বলা হয় এন্টি ভাইরাস বা এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার।বেশিরভাগ এন্টি ভাইরাস
সফটওয়্যার বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের বিরুদ্ধে কার্যকরী হলেও প্রথম থেকে এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার নামে
পরিচিত।বাজারে প্রচলিত প্রায় সকল এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ভাইরাস ভিন্ন অন্যান্য ম্যালওয়্যারের বিরুদ্ধে
কার্যকরী।এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যারের মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো-
নরটন,অ্যাভাস্ট,প্যান্ডা,কাসপারেস্কি,মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনসিয়াল ইত্যাদি।
অনলাইন পরিচয় ও তার নিরাপত্তা
যতই দিন যাচ্ছে মানুষ তত বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।ইন্টারনেটে শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হয় না।তবে
ইন্টারনেট বা অনলাইনে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী তার একটি স্বতন্ত্র সত্তা তুলে ধরেন।এটিকে তার অনলাইন
পরিচয় বলা যেতে পারে।
প্রত্যেক সাইটে ঢোকার ক্ষেত্রে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়,সেটির গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি।
পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য কয়েকটি কৌশলঃ
১।দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার কর।
২।বিভিন্ন বর্ন ব্যবহার করা।
৩।শব্দ,বাক্য,সংখ্যা ও প্রতিক সমন্বয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করা।
৪।পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা যাচাই করা।
৫।ব্যবহারের পর আসন ত্যাগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সাইট থেকে লগ আউট করা।
৬।নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলা।

কম্পিউটার হ্যাকিং
হ্যাকিং বলতে বোঝানো হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতে তার কম্পিউটার সিস্টেম বা
নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা।যারা এই কাজ করে থাকে তাদের বলা হয় কম্পিউটার হ্যাকার বা হ্যাকার।
হ্যাকার সম্প্রদায় নিজেদেরকে নানান দলে ভাগ করে থাকে।এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার,ব্লাক হ্যাট
হ্যাকার,গ্রে হ্যাট হ্যাকার ইত্যাদি।হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা কোন সিস্টেমের উন্নতির জন্য সেটি নিরাপত্তা
ছিদ্রসমূহ খুজে বের করা।এদের বলা হয় এথিক্যাল হ্যাকার।অন্যদিকে ব্লাক হ্যাট হ্যাকারগন অসৎ উদ্দেশ্যে
অনুপ্রবেশ করে।
সাইবার অপরাধ
তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের কারনে আমাদের জীবনে অসংখ্য নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে,ঠিক সেরকম
সাইবার অপরাধ নামে সম্পুর্ন নতুন একধরনের অপরাধের জন্ম হয়েছে।তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে
এই অপরাধগুলো করা হয় এবং অপরাধীরা সাইবার অপরাধ করার জন্য নিত্য নতুন পথ আবিষ্কার করে যাচ্ছে।
প্রচলিত কিছু সাইবার অপরাধ-
স্প্যাম-
স্প্যাপ হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা অপ্রয়োজনীয়,উদ্দেশ্যমূলোক কিংবা আপত্তিকর ইমেইল,যেগুলো প্রতি মুহূর্তে
তোমার কাছে পাঠানো হচ্ছে।
প্রতারণা-
ভুল পরিচয় এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নানাভাবে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদেরকে নানাভাবে
প্রতারিত করার চেষ্টা করা হয়।
আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ-
অনেক সময় ইন্টারনেটে কোন মানুষ সম্পর্কে ভুল কিংবা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হয়।সেটা
শত্রুতামূলোক হতে পারে,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হতে পারে কিংবা যেকোনো অসৎ উদ্দেশ্যে হতে পারে।
হুমকি প্রদর্শন-
ইন্টারনেট,ইমেইল বা কোন সামাজিক সাইট ব্যবহার করে কখনো কেউ কোন একজনকে নানাভাবে হয়রানি করতে
পারে,চাইলে খুব সহজেই আরেকজনকে হুমকি প্রদর্শন করতে পারে।
সাইবার যুদ্ধ- ব্যক্তিগত পর্যায়ে একজনের সাথে আরেকজনের সংঘাত অনেক সময় আরো বড় আকার নিতে পারে।একটি দল বা
গোষ্ঠী এমনকি একটি দেশ নানা কারনে সংঘবদ্ধ হয়ে অন্য একটি দল,গোষ্ঠী বা দেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের সাইবার
যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। দূর্নীতি নিরসন তথ্য প্রযুক্তি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে পরিচিত হয়েছে।দুর্নীতি করা হয় গোপনে।কারন
কেন সমাজই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্তি সহজতর হয়েছে।কোথাও কোন দুর্নীতি করা হলে সেটি সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে।দুনীতি করে আথিক লেনদেন করা হলে সেটি তথ্যভান্ডারে চলে আসছে এবং স্বচ্ছতার কারনে সেটি প্রকাশ পাচ্ছে। তথ্য অধিকার ও তথ্য অধিকার আইন
যখনই বিচ্ছিন্নভাবে প্রাপ্ত উপাত্ত সুসংগঠিত হয়,তখব সেটি তথ্য পরিনত হয়।ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান,সরকারি বা
বেসরকারি সংস্থা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য সৃষ্টি করে।রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জনগনের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার অধিকারই হলো তথ্য অধিকার।২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৯৩ টি দেশে এই জাতীয় তথ্য

জানাকে আইনি অধিকার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সাল থেকে বলবৎ রয়েছে।তথ্য
অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তিকে ব্যক্তির চিন্তা,বিবেক ও বাকস্বাধীনতার পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ আইনের আওতায় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যসমূহ প্রকাশ করতে বাধ্য থাকে।এই
আইনের বরখেলাপ হলে শাস্তি পেতে হয়।যেসকল দেশে এ আইন বলবৎ রয়েছে সেসব দেশে এ আইনের বাস্তবায়ন
তদারকি করার জন্য একটি তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
নামঃ বনি ইয়ামিন
বিভাগঃ মানবিক
প্রতিষ্ঠানঃ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ,পিলখানা,ঢাকা

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party