অধ্যায় ০২ঃ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

JSC / তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

অধ্যায় ০২ঃ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক


নেটওয়ার্কের ধারণা


দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে যোগাযোগের কোন মাধ্যম দিয়ে একসাথে জুড়ে দিলে যদি তারা নিজেদের ভেতর তথ্য
কিংবা উপাত্ত আদান-প্রাদান করতে পারে তাহলে আমরা সেটাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলতে পারি।
নেটওয়ার্কের পুরোপুরি ধারনা পেতে হলে নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্ক আছে এমন যন্ত্রপাতির কথা জেনে নেওয়া সার্ভার Serve করে অর্থাৎ সেবা দেয়।সাার্ভার হচ্ছে শক্তিশালী কম্পিউটার যেটি নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটারকে নানা রকম সেবা দেয়।একটি নেটওয়ার্কে অনেকগুলো সার্ভার থাকে।
ক্লায়েন্টঃ যে সব কম্পিউটার সার্ভার থেকে কোন ধরনের তথ্য নেয় তাকে ক্লায়েন্ট বলে।যেমন মনে করো, তুমি
তোমার কম্পিউটার থেকে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠাতে চাও।তাহলে তোমার কম্পিউটার হবে ক্লায়েন্ট।
মিডিয়াঃ যে বস্তু ব্যবহার করে কম্পিউটারগুলো জুড়ে দেওয়া হয় সেটা হচ্ছে মিডিয়া।যেমন-বৈদ্যুতিক তার,কো-
এক্সিয়াল তার ও অপটিক্যাল ফাইবার ইত্যাদি।কোন মিডিয়া ব্যবহার না করেও তার বিহীন পদ্ধতিতে কম্পিউটারকে
নেটওয়ার্ক জুড়ে দেয়া যায়।যেমন- MB,Wi-Fi.
নেটওয়ার্ক এডাপ্টারঃ একটি কম্পিউটারকে সোজাসুজি নেটওয়ার্কের সাথে জুড়ে দেয়া যায়না।সেটি করার জন্য
কম্পিউটারের সাথে একটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) লাগাতে হয়।
রিসোর্সঃ ক্লায়েন্টের কাছে ব্যবহারের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়,তার সবই হচ্ছে রিসোর্স।যেমন
কম্পিউটারের সাথে যদি একটি প্রিন্টার কিংবা একটি ফ্যাক্স মেশিন লাগানো হয় তাহলে সেটি হচ্ছে রিসোর্স।
ইউজারঃ “User” মানে ব্যবহারকারী।অর্থাৎ সার্ভার থেকে যে ক্লায়েন্ট রিসোর্স ব্যবহার করে তাকে ইউজার বলা
হয়।
প্রোটোকলঃ ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটার একসাথে যুক্ত করতে হলে এক কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের যোগাযোগ করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয় তাকে প্রটোকল বলা হয়।যেমন- ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য প্রোটোকল হলো HTTP.
টপোলজি কম্পিউটারুলোর অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়।
যথাঃ
১।PAN(Personal Area Network):ব্যক্তিগত পযার্য়ে যে নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় তা হলো PAN।যেমন- ব্লু-
টুথ।
২।LAN(Local Area Network):স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেসকল নেটওয়ার্ক ব্যবহার
করতে দেখা যায় এগুলোকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN বলে।
৩।MAN(Metropolitan Area Network):সচরাচর একটি শহরের মধ্যে যে নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় তা হলো MAN।
৪।WAN(Wide Area Network):দেশ জুড়ে বা পৃথিবী জুড়ে যে নেটওয়ার্ক তৈটী জরা হয় তা হলো WAN।
নেটওয়ার্কের অন্তর্গত কম্পিউটারগুলোকে জুড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।এই ভিন্ন ভিন্ন
পদ্ধতিকে বলা হয় নেটওয়ার্ক টপোলজি।টপোলজি সাধারণত ৫প্রকার হয়ে থাকে।
বাস টপোলজিঃ এই টপোলজিতে একটি মূল লাইনের সাথে সবগুলো কম্পিউটারকে জুড়ে দেওয়া হয়।বাস টপোলজিতে কোন
একটি কম্পিউটার যদি অন্য কোন কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তাহলে সব কম্পিউটারের কাছেই সেই

তথ্য পৌছে যায়।যার প্রয়োজন সে-ই কেবল গ্রহন করে।মূল বাস বা ব্যাকবোন নষ্ট হয়ে গেলে সম্পুর্ন নেটওয়ার্ক
অকেজো হয়ে যায়।
রিং টপোলজিঃ রিং টপোলজি হবে গোলাকার বৃত্তের মতো।এই টপোলজিতে প্রত্যেকটি কম্পিউটার অন্য দুটো
কম্পিউটারের সাথে যুক্ত।এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য যায় একটি নির্দিষ্ট দিকে।একটি
কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে সম্পুর্ন নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে যায়।
স্টার টপোলজিঃ কোন নেটওয়ার্কের সবগুলো কম্পিউটার যদি একটি কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচ এর সাথে যুক্ত থাকে
তাহলে সেটিকে স্টার টপোলজি বলে।খুব তাড়াতাড়ি সহজে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরী করার ক্ষেত্রে স্টার টপোলজি
ব্যবহার করা হয়।এই টপোলজিতে কোন একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকি কম্পিউটারগুলো সচল থাকে।কিন্তু
কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্কই অচল হয়ে পড়ে।
ট্রি টপোলজিঃ ট্রি মানে গাছ।কাজেই এই টপোলজিটাকে গাছের মতোই মনে হয়।এখানে অনেকগুলো স্টার টপোলজিকে
একত্র করা হয়।
মেশ টপোলজিঃ এই টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত থাকে এবং একাধিক পথে যুক্ত হতে
পারে।এখানে কম্পিউটারগুলো শুধু যে অন্য কম্পিউটার থেকে তথ্য নেয় তা নয় বরং সেটি নেটওয়ার্কের অন্য
কম্পিউটারের মাঝে বিতরণ করতে পারে।
নেটওয়ার্কের ব্যবহার বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তিতে যে নেটওয়ার্কের জন্ম হয়েছে,সেটি আনাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।আমরা অতীতে যে কাজগুলো করতাম,আজকাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেই একই কাজ অন্যভাবে করতে শিখেছি।এখন একটি তথ্য শুধু যে পরিচিতদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি তা নয়,সেটি সারা দেশে,এমনকি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে
পারি।আগে যে তথ্যগুলো কাগজে সংরক্ষণ করা হতো,এখন সেটি ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা যায়।
নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সারা পৃথিবীতে সামাজিক নেটওর্য়াকের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের একধরনের
যোগাযোগ শুরু হয়েছে।সামাজিক নেটওয়ার্ক একে অন্যের সাথে ছবি,ভিডিও বা তথ্য বিনিময় করতে পারে,ইমেইল
পাঠাতে বা গ্রহন করতে,মেসেজ দেওয়া নেওয়া করতে পারে।
নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি
হাব(Hub):সাধারনত তারযুক্ত নেটওয়ার্কে থাকা অনেকগুলে আইসিটি যন্ত্র তথা কম্পিউটার,প্রিন্টার ইত্যাদিকে
একসাথে যুক্ত করতে হাব ব্যবহার করা হয়।হাব এক যন্ত্রকে অন্য যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ
দেয়।বর্তমানে কম গতি ও বেশি সুবিধা পাওয়া যায় না বলে হাবের ব্যবহার অনেক কমে গেছে।
সুইচ(Switch): নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বেশিরভাগ সময় সুইচ ব্যবহার করা হয়।সুইচ দিয়ে তৈরি নেটওয়ার্কের
যেকোনো আইসিটি যন্ত্র(Node)সরাসরি অন্য যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।সুইচের সাথে যন্ত্রগুলো শুধু
যাকে ডেটা বা উপাত্ত পাঠাতে চায় তাকেই উপাত্ত পাঠায়।সুইচ হাবের চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে।
রাউটার(Router): Router শব্দটি এসেছে Route শব্দ থেকে।রাউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র যা হার্ডওয়ার ও
সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে তৈরী।এটি নেটওয়ার্ক তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হয়।রাউটার এর প্রধান কাজ ডেটা বা
উপাত্ত কে পথনির্দেশনা দেওয়া।
মডেম(Modem): ইন্টারনেটের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো মডেম।Modulator এর Mo এবং Demodulator এর Dem এই অংশ দুটির সমন্বয়ে Modem শব্দটি তৈরি হয়েছে।ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা বা উপাত্ত পাঠানোর জন্য একধরনের সিগনাল দরকার হয়।মডেম এমন একটি
নেটওয়ার্ক যন্ত্র,যা কম্পিউটার হতে প্রাপ্ত ডিজিটাল সিগনালকে রুপান্তর করে নেটওয়ার্ককে প্রেরণ করে।আবার নেটওয়ার্ক হতে প্রাপ্ত সিগনালকে রুপান্তর করে কম্পিউটারে প্রেরণ করে।
ল্যান কার্ড(LAN Card): দুটো বা অধিক সংখ্যক কম্পিউটারকে একসাথে যুক্ত করতে যে যন্ত্রটি অবশ্যই প্রয়োজন তা হলো ল্যান কার্ড।অর্থাৎ আমরা যদি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই,তবে অবশ্যই ল্যান কার্ডের প্রয়োজন হবে।এক্ষেত্রে ল্যান কার্ডের ভূমিকা ইন্টারনেটের মতোই।

স্যাটেলাইট

স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরতে থাকে।পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ বলের কারনে এটি ঘুরে,তাই
এটিকে মহাকাশে রাখার জন্য কোন জ্বালানি বা শক্তি খরচ করতে হয় না।জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উপরে একটি নিদিষ্ট কক্ষ পথে রাখতে হয়।আকাশে একবার জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট বসানে হলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে সেখানে সিগনাল পাঠানো যায় এবং স্যাটেলাইট সেই সিগনালেটিকে নতুন করে পৃথিবীর
অন্য প্রান্তে পাঠিয়ে দিতে পারে।এই পদ্ধতিতে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে রেডিও,টেলিফোন,মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটে সিগনাল পাঠানে যায়।১৯৬৪ সালে প্রথমবার জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট স্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নামে একটি স্যাটেলাইট ২০১৮ সালের ১২ মে তারিখে মহাকাশে প্রেরণ করে।স্যাটেলাইট প্রেরণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭ তম।
স্যাটেলাইট দিয়ে যোগাযোগ করার দুটি সমস্যা আছে-
১।স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে অনেক উঁচুতে থাকে তাই সিগনাল পাঠানের জন্য অনেক বড় এন্টেনার দরকার হয়।
২।পৃথিবী থেকে যে সিগনাল পাঠানো হয় সেটি ওয়্যারলেস সিগনাল।ওয়্যারলেস সিগনাল দ্রুত বেগে গেলেও এই বিশাল
দুরত্ব অতিক্রম করতে একটু সময় নেয়।তাই টেলিফোনে কতা বললে অন্য পাশ থেকে কথাটি সাথে সাথে না শুনে একটু
পরে শোনা যায়।
অপটিক্যাল ফাইবার
অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু এক ধরনের প্লাস্টিক কাঁচের তন্তু।অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলোক সিগনাল
পাঠানো হয়।ঠিক যেমনি বৈদ্যুতিক তার দিয়ে বৈদ্যুতিক সিগনাল পাঠানো হয়।পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে
আলোক সিগনাল অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
বৈদ্যুতিক সিগনালকে প্রথমে আলোক সিগনালে পরিনত করা হয়।এর পর আলোক সিগনালকে অপটিক্যাল ফাইবার এর
মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।অপর প্রান্তে আলোক সিগনালকে বৈদ্যুতিক সিগনালে পরিনত করা হয়।এভাবেই অপটিক্যাল
ফাইবারের মধ্য দিয়ে সিগনাল পাঠানো সম্ভব হয়।
অপটিক্যাল ফাইবার পৃথিবীর এক মহাদেশ থেকে অন্যদেশে নেবার সময় সেটিকে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নেওয়া হয়।এ
ধরনের ফাইবারকে বলে সাবমেরিন ক্যাবল।

Written By:

নামঃ বনি ইয়ামিন
বিভাগঃ মানবিক
প্রতিষ্ঠানঃ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ,পিলখানা,ঢাকা

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party