অধ্যায় ০১ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

JSC / তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

অধ্যায় ০১ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিঃ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব (কর্মসংস্থানের সুযোগ,যোগাযোগ,ব্যবসা-বাণিজ্য,সরকারি কার্যক্রম,চিকিৎসা ক্ষেত্রে,গবেষণা ক্ষেত্রে)।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারঃ

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব-মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো না কোনো কাজে বা কোনো না কোনো ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করছি।যার ফলে যেকোনো প্রয়োজনীয় কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা যাচ্ছে।

চাকরির জন্য আবেদন থেকে শুরু করে নিয়োগ পেতেও বিভিন্ন কাজে এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

কর্মসৃজন ও কর্মপ্রাপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে । শুরুতে এই ব্যাপক বিকাশ দেখে নেতিবাচক আশংকা থাকলেও এখন সেই চিন্তাভাবনার পরিবর্তন হয়েছে,হচ্ছে।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে যা বাঙালি শিক্ষাবিদ ও বর্তমানে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) অধ্যাপক ড.ইকবাল কাদির এর মতে

“সংযুক্তিই উৎপাদনশীলতা (Connectivity is Productivity )”

এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে যেকোনো কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে । যেকোনো  বিপজ্জনক কাজগুলো মানুষের পরিবর্তে রোবট কিংবা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে।

ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে নগদ তোলা,গুদামে মাল সুসজ্জিতভাবে রাখা,কর্মস্থলে কর্মীদের সময় ও কাজ পর্যবেক্ষণ এসবই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা সম্ভব ।

এই আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক পরিবর্তনও এসেছে।যেমনঃ

১.ঘরে বসে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে,যেমন ফ্রি-ল্যান্সিং,ভিডিও এডিটিং,গ্রাফিকস ডিজাইন। , যার দরুণ অনেক প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানের রূপ নিচ্ছে।কয়েকটি জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক হলো (www.elance.com),(www.upwork.com)ইত্যাদি।

২.প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ায় প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

৩.মনিটরিং ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হওয়ায় কাজে মনোনিবেশ করার মনোভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারঃ

যোগাযোগ করার পদ্ধতিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়- একমুখী ও দ্বিমুখী।যখন একটি প্রতিষ্ঠান বা একজন ব্যক্তি অনেকের সাথে যোগাযোগ করেন তখন তাকে একমুখী বা “ব্রডকাস্ট” বলে।যেমনঃ রেডিও,টেলিভিশন,খবরের কাগজ বা ম্যাগাজিন।

এখন আসা যাক দ্বিমুখী যোগাযোগ নিয়ে।একমুখী যোগাযোগের সম্পূর্ণ সম্পূরক রূপ হলো দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা।যখন দুজন ব্যক্তি একইসাথে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে তখন সেই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা বলে।যেমনঃটেলিফোন।

এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক।ভার্চুয়াল জগতে সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে পরস্পরকে সাহায্য করতে পারছি।

ব্যবসায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারঃ

যেকেনো ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য থাকে কম সময়ে এবং কম খরচে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করা এবং দ্রুততম সময়ে তা ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া । এক্ষেত্রে আইসিটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

১.মজুদ নিয়ন্ত্রণ

২.উৎপাদন ব্যবস্থা

৩.উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা

৪.সঠিক হিসাব রাখা

৫.বিপনণ

৬.বিক্রয় ব্যবস্থাপনা ও হিসাব

৭.মূল্য সংগ্রহ

সরকারি কর্মকান্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগঃ

সরকার রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে,যেমন,আইন ও নীতি প্রণয়ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়,দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন ও সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজের দেশকে উপস্থাপন।এখানে কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছেঃ

১.সরকারি তথ্যাদি প্রকাশ

২. আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন

৩.বিশেষ বিশেষ দিবস বা ঘটনা সম্পর্কে প্রচার

৪.দোরগোড়ায় সরকারি সেবা

এসবক্ষেত্রে বিভিন্ন ওয়েবসাইটও রয়েছে , যেমনঃ www.bangladesh.gov.bd, www.ebook.gov.bd,  www.rock.gov.bd  ইত্যাদি।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ও গবেষণাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারঃ

চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আগে স্বল্প জ্ঞান থাকায় অনেক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হতে না।এখন তা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।রোগীর দেহ সূক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেই একজন ডাক্তার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।টেলিমেডিসিন সাহায্য,সিটিস্ক্যান,ইসিজি সবই এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ফল।

এই তথ্য প্রযুক্তি মানুষের কাজ করার আগ্রহ বাড়াচ্ছে।নতুন কিছু জানার জন্য,নানা রহস্য উন্মোচনের জন্য গবেষণা করা হচ্ছে আর তাতে এই প্রযুক্তির সুষ্ঠু প্রয়োগ করা হচ্ছে।তথ্য সংগ্রহ,প্রক্রিয়াকরণ,বিশ্লেষণ সব ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগ হচ্ছে।FPGA(Field Programmable Gate Array),PLA(Programmable Logic Array) ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে।Virtual Laboratory তৈরি হচ্ছে।

সর্বোপরি,আমাদের জীবনে তথ্য প্রযুক্তির কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে।

লিখেছেনঃ
নামঃ সোহানা ফেরদৌস
ডিপার্টমেন্টঃ ফার্মেসী
প্রতিষ্ঠানঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party