অধ্যায় ৬: পরমাণুর গঠন

JSC / বিজ্ঞান

অধ্যায় ৬: পরমাণুর গঠন


আমরা যদি একটি পরমাণুর গঠনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই এর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস এবং এর চারপাশে অর্ধবৃত্তাকার কক্ষপথ পরস্পর নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে অবস্থান করছে। এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন এবং নিউট্রন নামে দুটি কণা রয়েছে যার মধ্যে প্রোটন ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট এবং নিউট্রন আধান নিরপেক্ষ। পরমাণুর আরেক ধরনের ঋনাত্মক আধান বিশিষ্ট কণা নিউক্লিয়াসের চারপাশের কক্ষপথে অবস্থান করে।

পারমাণবিক সংখ্যা,ভর সংখ্যা ও আইসোটোপ:

কোনো মৌলের একটি পরমাণুর প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। কোনো পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হয়। আর কোনো পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলে।
যেমন: অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮ মানে অক্সিজেনের একটি পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ৮। প্রোটন সংখ্যা ৮ মানে ইলেকট্রন সংখ্যাও ৮। আবার অক্সিজেনের ভর সংখ্যা ১৬ মানে অক্সিজেনের একটি পরমাণুর প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টি ১৬।
এখন,একটি মৌলের প্রতিটি পরমাণুতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা থাকলেও নিউট্রন সংখ্যার ভিন্নতা থাকতে পারে। আর এজন্যই একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভরসংখ্যা বিভিন্ন হয়। একারণে কোনো মৌলের এরকম ভিন্ন পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে ওই মৌলের আইসোটোপ বলা হয়।

পরমাণুতে ইলেকট্রনের বিন্যাস:


কোনো পরমাণুতে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে। এই ইলেকট্রনগুলোকক্ষপথে 2n^2(n=1,2,3,….কক্ষপথের ক্রমিক সংখ্যা) সূত্র অনুসারে বিন্যস্ত থাকে। যেমন কোনো পরমাণুর ৩য় কক্ষপথে(n=3) উপরোক্ত সূত্রানুসারে সর্বোচ্চ 18 টি ইলেকট্রন থাকতে পারবে।এই সূত্রানুসারে কোনো পরমাণুর ১ম কক্ষপথে সর্বোচ্চ 2 টি, ২য় কক্ষপথে সর্বোচ্চ 8 টি,৩য় কক্ষপথে সর্বোচ্চ 18 টি….এভাবে ইলেকট্রন গুলো বিন্যস্ত থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ক্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন সংখ্যা 17। তাহলে সূত্রানুসারে পরমানুটির ইলেকট্রন বিন্যাস হবে 2,8,7।

ইলেকট্রন বিন্যাস ও মৌলের ধর্ম:

পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথ যদি ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে তবে সে পরমাণু নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। আর সকল পরমাণুর প্রবণতাই হলো এরকম নিষ্ক্রিয় বা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকা। তাই যদি কোনো পরমাণুর শেষ কক্ষপথ পূর্ণ না থাকে তবে তারা অন্য পরমাণুকে ইলেকট্রন দান করে অথবা গ্রহণ করে অথবা অন্য পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে স্থিতিশীল অবস্থায় আসতে চায়। এই ক্ষেত্রে কোনো পরমাণু যদি ইলেকট্রন অন্যকে দিয়ে দেয় তবে পরমানুটি ধনাত্মক আধান বা ক্যাটায়ন এবং যদি ইলেকট্রন অন্যের থেকে
নেয় তবে ঋনাত্মক আধান বা অ্যানায়ন হয়ে যায়। দুইটি পরমাণু এভাবে ইলেকট্রন আদান – প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে পরষ্পরের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হয় যৌগ গঠন করতে পারে।

Written by:

নাফিসা আনজুম মৌলি

ব্যাংকিং ও বীমা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party