অধ্যায় ২: জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি

JSC / বিজ্ঞান

অধ্যায় ২: জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি

কোষ বিভাজনঃ
যে প্রক্রিয়ায় জীব দেহের বৃদ্ধি ঘটে অর্থাৎ এককোষী জীবের দেহে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং বহুকোষী জীবের দেহকোষ বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক বৃদ্ধি ঘটে তাকে কোষ বিভাজন বলে।

কোষ বিভাজনের প্রকারভেদঃ

কোষ বিভাজন তিন প্রকার। যথাঃ
অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস, মিয়োসিস।

অ্যামাইটোসিসঃ এককোষী জীবে যে কোষ বিভাজন দেখা যায় তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
এককোষী জীবগুলো হলো ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, অ্যামিবা ইত্যাদি।
এ কোষ বিভাজনে প্রথমে নিউক্লিয়াস ও পরে সাইটোপ্লাজম মাঝ বরাবর সংকুচিত হতে হতে ডাম্বেল আকার
ধারণ করে এবং একসময় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এজন্য একে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজনও বলা
হয়।

মাইটোসিসঃ যে প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির সমগুন সম্পন্ন ও
সমসংখ্যক ক্রোমোজম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
সাধারণত উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণিতে মাইটোসিস বিভাজন দেখা যায়।

মিয়োসিসঃ যে কোষ বিভাজন জনন কোষে সংঘটিত হয় এবং কোষ বিভাজনের সময় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজম একবার বিভাজিত হয় সে ধরণের বিভাজনকে মিয়োসিস বলে।
এখানে অপত্য কোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে একে হ্রাসমুলক বিভাজনও বলা হয়।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিঃ
মাইটোসিস কোষ বিভাজন মুলত দুই পর্যায়ে হয়। প্রথম পর্যায়ে ক্যারিওকাইনোসিস বা নিউক্লিয়াসের বিভাজন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোকাইনোসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয়।
এই পর্যায় শুরুর আগে প্রস্তুতিমূলক কাজ (পানি বিয়োজন)কে ইন্টারফেজ দশা বলে।

ক্যারিওকাইনোসিসঃ
এটি মুলত ৫ টি ধাপে সম্পন্ন হয়। যথাঃ
প্রোফেজঃ এ ধাপে কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয়। ক্রোমোজম গঠিত হয় যা সেন্ট্রোমিয়ার নামক বিন্দুতে
যুক্ত থাকে।
প্রো-মেটাফেজঃ নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লওলাস বিলুপ্ত হয়। স্পিন্ডল যন্ত্র গঠিত হয়।
**মেটাফেজঃ ক্রোমোজমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের মাঝামাঝি অর্থাৎ বিষুবীয় অঞ্চলে আসে এবং সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে আটকে থাকে। ক্রোমোজমগুলো এই ধাপে সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখায়।
অ্যানাফেজঃ সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড পরষ্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। V, L, J, I আকৃতির
অপত্য ক্রোমোজোম সৃষ্টি হয়।
টেলোফেজঃ ক্রোমোজমগুলো বিপরীত মেরুতে পৌঁছে পুনরায় নিউক্লিয়ার পর্দা, নিউক্লিওলাস, সেন্ট্রিওলের
আবির্ভাব ঘটিয়ে পুনরায় দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে।

সাইটোকাইনেসিসঃ সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনোসিস বলে। উদ্ভিদের কোষপ্লেট গঠনের মাধ্যমে
এবং প্রাণিকোষে ক্লিভেজ বা ফারোয়িং পদ্ধতিতে সাইটোকাইনেসিস ঘটে।

মিয়োসিস
মিয়োসিস কোষ বিভাজন ২ ধাপে ঘটে। প্রথম বিভাজনটি হ্রাসমুলক বিভাজন অর্থাৎ অপত্য কোষের ক্রোমোজম
সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। দ্বিতীয় ধাপে সমবিভাজন ঘটে অর্থাৎ অপত্য কোষ
পুনরায় বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।

বংশগতি নির্ধারণে ক্রোমোজম, DNA ও RNA এর ভূমিকাঃ

যে প্রক্রিয়ায় পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানসন্ততিতে সঞ্চারিত হয় তাকে বংশগতি বলে।
জিনতত্ত্বের জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বংশগতির ধারণা দেন।ক্রোমোজম জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। যথাঃ DNA এবং RNA.। ক্রোমোজমের প্রধান উপাদান DNA যা জীবের চারিত্রিক
বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং বাহক। DNA হলো জিনের রাসায়নিক রূপ।
তামাক গাছের মোজাইক ভাইরাস(TMV) তে RNA জিন হিসেবে কাজ করে।
ক্রোমোজমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়। এবং মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই বংশগতির এ ধারা
অব্যাহত থাকে।

Written by:

নাফিসা আনজুম মৌলি

ব্যাংকিং ও বীমা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party