অধ্যায় প্রথমঃ বিপণন পরিচিতি

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন / উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (২য় পত্র)

অধ্যায় প্রথমঃ বিপণন পরিচিতি

 

বিপণন পরিচিতি এ অধ্যায় থেকে আমরা জানবো  বিপণন কি এবং বিপণনের ক্ষেত্রে, কি কি কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয় তা সম্পর্কে। 

 এই অধ্যায়গুলো এমনভাবে সম্পাদন করা হয়েছে যাতে করে তোমাদের বই পড়তে না হয় এইখান থেকেই পড়া হয়ে যায়। 

গুরুত্বপূর্ণ টপিক সমূহ 

1 বিপণন পরিচিতি 

 2 বিপণনের মৌলিক ধারণা সমূহ   (প্রয়োজন, অভাব, চাহিদা পণ্য, সেবা, অভিজ্ঞতা, ক্রেতা ভ্যালু, ক্রেতা সন্তুষ্টি, বাজার) 

3. বিপণনের ক্রমবিকাশ (বিক্রয় যুগ আধুনিক বিপণন যুগ বিনিময় যোগ উৎপাদক উৎপাদন যুগ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ) 

4 বিপণন এর বৈশিষ্ট্য। 

5.বিপণনের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা। 

6.বিপণন ব্যবস্থাপনার দর্শন বা মতবাদ।  


বিপণনের ধারণা :

বিপণন হল একটি সামাজিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া। উৎপাদনকারীর কাছ থেকে ভোক্তাদের নিকট পৌছানো পর্যন্ত সম্পাদিত ব্যবসায়ীক কার্যাবলী এবং বিক্রয় পরবর্তী কার্যাবলীর সমষ্টিকে বিপণন বা  বাজারজাতকরণ বলে। 

বিপণনের মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে পণ্য ক্রয় করার জন্য পণ্য সেবা ও ধারণা সৃষ্টি মূল্য নির্ধারণ কৌশল এবং বন্টনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়।


বিপণনের মৌলিক বিষয়সমূহ 

ভোক্তাদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন বিপণনকারী। বিপণনের মাধ্যমে ব্যক্তিবর্গ বা জনগোষ্ঠী অন্যদের সাথে পণ্যদ্রব্য ও ভ্যালু সৃষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় অভাব মিটিয়ে থাকে। 

প্রয়োজন :মানুষের প্রয়োজন হচ্ছে প্রধান মৌলিক ধারণা যার উপর ভিত্তি করেই বাজারজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কোন কিছুর প্রাপ্তি থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করার মানসিক স্তরকে প্রয়োজন বলে। 

অভাব :প্রয়োজন ব্যক্তির জ্ঞান সংস্কৃতি ও  নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্ব দাঁরা নির্দিষ্ট বস্তুগত ধারণায় রূপান্তরিত হয় তাকে অভাব বলে। যেমন: ক্ষুধা লাগলে বাংলাদেশের ভাতের এবং আমেরিকানরা ফাস্টফুডের অভাব বোধ করে। 

চাহিদাঃ ভোক্তার অভাব যখন ক্রয় ক্ষমতার শর্তপূরণ করে তখন তাকে চাহিদা বলে। আর চাহিদার জন্যই  অবশ্যই প্রয়োজনীয় অর্থ ও অর্থ ব্যয় ইচ্ছা থাকতে হবে। 

পণ্য: দৃশ্যমান অদৃশ্যমান বস্তু বা সেবা মানুষের প্রয়োজন বা অভাব পূরণের উপযোগী যা কিছু বাজারে পাওয়া যায় তাই পণ্য। যেমন ডাল, চাল, তেল, চিকিৎসাসেবা ইত্যাদি। 

সেবা :যেসব কার্যক্রম দেখা যায়না কিন্তু অভাব পূরণ করে বাজারে বিক্রি হয় তাকে সেবা বলে। যেমন :ব্যাংক-বীমা, পরিবহন ইত্যাদি। 

অভিজ্ঞতা: কোন বিষয় সম্পর্কে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে অভিজ্ঞতা বলে। 

ক্রেতা ভ্যালু :একটি পণ্য  ব্যবহার বা ভোগ করে ক্রেতারা যে সুবিধা পায় সেই প্রাপ্ত সুবিধা ও তার  জন্য ব্যয় কৃত অর্থের পার্থক্য হচ্ছে ক্রেতা ভ্যালু। 

ক্রেতা সন্তুষ্টি : কোন পণ্য কী পরিমাণ   ক্রেতাদের আশা পূরণ করে তার ওপর ক্রেতা সন্তুষ্টি নির্ভর করে। 

বিনিময়:  কোনো পণ্য প্রদানের মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পণ্য লাভ করার উপায় কে বিনিময় বলে।


বিপণনের ক্রমবিকাশ 

এই টপিক থেকে মূলত নৈবেত্তিক বেশি আসে। তাই আমি যেগুলো বলবো সেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখলেই চলবে

 1 আত্মনির্ভরশীল  যুগ

 2 বিনিময় যুগ  

3 উৎপাদন যুগ যুগ 

4 বিক্রয় যুগ যুগ 

5 আধুনিক বিপণন যুগ 

এইখান থেকে কোন যুগ কত সালে শুরু হয়েছে এবং সেই যুগের কি কি হয়েছিল সেই গুলো মনে রাখলেই হবে 


বিপণন এর বৈশিষ্ট্য :

বিপণন ধারণাটি    এখন বিশ্বজুড়ে অবাধ প্রসারিত। বিপণনের প্রায়োগিক দিকসমূহ বিশ্লেষণ করলে কতিপয় স্বাতন্ত্র্য ধর্মী বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। 

1 বিনিময় প্রক্রিয়া

 2 সামাজিক প্রক্রিয়া

 3 ব্যবস্থাপকীয় প্রক্রিয়া

 4 অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া 

5   ভোক্তামুখী  গতিশীল প্রক্রিয়া 

7  বাজারজাতকরণ প্রয়োগমুখী 


বিপণন ব্যবস্থাপনার দর্শন বা মতবাদ 

সুনির্দিষ্ট ক্রেতাদের সঙ্গে লাভজনক সম্পর্ক তৈরি করার মাধ্যমে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন এর যাবতীয় প্রচেষ্টাকেই বিপণন ব্যবস্থাপনা বলে। 

নিম্নে  বিপণন দর্শন বা মতবাদ গুলো আলোচনা করা হলো 

উৎপাদন যুগ 

১. শিল্প বিপ্লব হতে 1920 সাল  পর্যন্ত এই মতবাদ প্রচলিত ছিল।

 ২. বাজারজাতকরণের সবচেয়ে প্রাচীন মতবাদ। 

৩.   ভোক্তা সাধারণত  ঐই ধরনের পণ্যই বেশি পছন্দ করে যা সহজলভ্য এবং দামে সস্তা। 

৪. মতবাদ এর ক্ষেত্রে ইকোনমিক অফ স্কেল ধারণা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় 

৫. এই মতবাদকে ব্যাপক বিতরণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় ১৬০০ সাল থেকে ১৯২০  সাল পর্যন্ত সময়কালকে উৎপাদন যুগ বলা হয়। 

৭. এসময়ে পণ্য উৎপাদন তা সরবরাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়। 

পণ্য মতবাদ

 ১. ভোক্তা সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উন্নতমানের সামগ্রী অধিক পছন্দ করে।

 2. কোম্পানির পণ্যের মান উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দেয়।

 ৩. এই মতবাদের অধীনে কোম্পানির পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি পণ্যের ডিজাইন, প্যাকেজিং, রং, আকার, আকৃতি আকর্ষণীয় করতে চেষ্টা করে। 

৪. গুণগতমানসম্পন্ন পণ্যের দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। 

বিক্রয় মতবাদ 

১. ক্রেতারা তখনই বেশি বেশি পণ্য ক্রয় করে যখন কোম্পানি বেশি বেশি বিক্রয় প্রসার কার্যক্রম গ্রহণ করে বা বিজ্ঞাপন দেয়। 

২. এটা ক্রেতার সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক সৃষ্টির থেকে স্বল্পমেয়াদে অধিক পণ্য বিক্রয় প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

৩. 1930 থেকে 1950 সাল পর্যন্ত সময়কালকে বিক্রয় যুক বলে।

 ৪.ভোক্তাদের আকৃষ্ট করার জন্য বিক্রয় প্রসার এর বিভিন্ন কৌশল উন্নয়ন করতে হয়। এবং বিজ্ঞাপনের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। 

বাজারজাতকরণ মতবাদ 

১.  মতবাদ অনুসারে উৎপাদন করবে তার প্রয়োজন ও চাহিদা নিরূপণ করে এবং সে অনুসারে পণ্য তৈরি করে। 

2.  ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। 

৩. এই মতবাদ অনুসারে ভোক্তাই রাজা মনে করা হয়। 

৪. 1950 সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কালকে বিপনণ যুগ বলা হয়। 

সামাজিক বাজারজাতকরণ মতবাদ 

১.1970 সালের পর থেকে সামাজিক বিপণন যুগের সূচনা হয়। 

২.  ভোক্তার প্রয়োজন ও চাহিদা নিরূপণ করে সে অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভোক্তার সন্তুষ্টি ও প্রাতিষ্ঠানিক মুনাফা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক কল্যাণ সর্বাধিকরণ। 

৩.এ মতবাদ অনুসারে কোম্পানি সমূহ উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 ৪. সমাজের মানুষের জন্য হিতকর ও পরিবেশ বান্ধব পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করার সময়কালকে সামাজিক বিপণনযোগ্য বলে।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party