অধ্যায়:৭,বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা।

JSC / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অধ্যায়:৭,বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা।

আলোচ্য বিষয়সমূহ: রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের শ্রেণিবিভাগ, বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি, সংবিধান, বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও কাজ, স্থানীয় সরকার, স্থানীয় সরকার কাঠামো ও কার্যাবলী।

রাষ্ট্র:

রাষ্ট্র হলো বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন এক জনসমাজ, যারা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসাবাস করে, যা বহির্শক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত এবং যাদের একটি সুসংগঠিত সরকার আছে, যে সরকারের প্রতি ঐ জনসমাজ স্বভাবতই অনুগত। রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও ভূখন্ডভিত্তিক সমাজ বিশেষ,যার সংগঠিত সরকার ও জনসমষ্টি রয়েছে।

রাষ্ট্রের উপাদান:

প্রত্যেক রাষ্ট্রই চারটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। রাষ্ট্রের উপাদান চারটি হলো:

(১) জনসমষ্টি,

(২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,

(৩) সরকার,

(৪) সার্বভৌমত্ব

সরকার:

সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি উপাদান। সরকার হলো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ সরকারের মাধ্যমে সাধিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এই তিন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত। সরকার বলতে ব্যাপক অর্থে শাসকগোষ্ঠীর সকলকে বোঝায়, যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে৷ অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়৷ রাষ্ট্র যদি হয় জীবদেহ তবে সরকার হলো এর মস্তিষ্কস্বরূপ।

সরকারের শ্রেণিবিভাগ:

সরকারকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা হয়।যথা – গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র।

১.গনতন্ত্র:গনতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণ তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। গনতন্ত্রকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র।

নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র : যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন তাই হলো নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র কে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক।

প্রজাতন্ত্র : জনগণের ভোটে যে সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন তাই হলো প্রজতন্ত্র। প্রজাতন্ত্রকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – সংসদীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।

  • সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার:সংসদীয় সরকারে শাসন বিভাগ আইন বিভাগ বা সংসদের নিকট দায়ী ও নির্ভরশীল থাকে। সংসদীয় সরকারকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক।
  • রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী বা নির্ভরশীল থাকে না। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক।
  • যুক্তরাষ্ট্রীয়: যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় আলাদা আলাদা প্রদেশ বা রাজ্য থাকে। সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়।
  • এককেন্দ্রিক : এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় কেন্দ্রের হাতে সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।এই সরকার ব্যবস্থায় কোনো প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য থাকে না।

২. একনায়কতন্ত্র : একনায়কতন্ত্র হচ্ছে এক ব্যক্তি বা এক দলের শাসন। একনায়ক বা এক দলের ইচ্ছা- অনিচ্ছা দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। জনগণের অধিকার ও মতামতের কোনো স্বীকৃতি থাকে না।

বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি :

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম থেকেই ধারণা পাওয়া যায় বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে।

বাংলাদেশ একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশে প্রজাতান্ত্রিক ক্ষমতা বিদ্যামান। এখানে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিই রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভ করে। বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতি বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই মন্ত্রীপরিষদ রাষ্ট্রের যেকোনো নির্বাহী কার্য সম্পাদনের জন্য আইনবিভাগ অর্থাৎ সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। বাংলাদেশে কোনো প্রদেশ নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে শাসনকার্য পরিচালিত হয় এবং কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। তাই ক্ষমতা বণ্টনের দিক থেকে বাংলাদেশে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

সংবিধান:

সংবিধান বলতে বোঝায় কোন সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দেশের আইন- কানুন সমূহের সংকলন। নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক আদর্শ মেনে সাংবিধানিক নীতিসমূহ নির্ধারিত হয়। জনগণের নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য, রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতি, শাসন কাঠামো, বিচার ব্যবস্থা, আইনসভা, প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় সীমানা , স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় সংবিধানে। সংবিধান সম্পূর্ণ লিখিত হতে পারে, আবার সম্পূর্ণ অলিখিত হতে পারে, আবার উভয়ের মিশ্রিত হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংবিধানকে উপযোগী রাখতে সংবিধানকে প্রয়োজনমতো সংশোধন করা হয় রাষ্ট্রের আইনসভা কর্তৃক।

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ : বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকবে এবং জনগণের পছন্দের রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে।
  • সংসদীয় পদ্ধতির সরকার :বাংলাদেশে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা চালু থাকবে। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা থাকবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রীপরিষদ রাষ্ট্রের যেকোনো কার্য সম্পাদনের জন্য আইনবিভাগের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।
  • লিখিত সংবিধান : সংবিধান সম্পূর্ণ লিখিত হতে পারে, আবার সম্পূর্ণ অলিখিত হতে পারে, আবার লিখিত ও অলিখিত উভয়ের মিশ্রিত হতে ও পারে। বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত। বাংলাদেশ সংবিধানের লিখিত দলিলটি ১১ ভাগে বিভক্ত এবং এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ ও ১ টি প্রস্তাবনা আছে।
  • রাষ্ট্রীয় মূলনীতি : রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সংবিধানে ৪ টি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো :জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা।
  • রাষ্ট্রধর্ম : বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্য সকল ধর্ম ও ধর্মের অনুসারীদের সমান মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • জাতি ও জাতিয়তা : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাদে জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ ‘বাঙালি’ নামে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় হবে।
  • এককেন্দ্রিক সরকার : দেশে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ দেশের শাসনব্যবস্থা কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত থাকবে। দেশ পরিচালনা কেন্দ্রীয় ভাবে করা হবে।
  • এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা : বাংলাদেশে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা থাকবে। কিছু দেশে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের আইনসভা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। কিন্তু বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষ বিশিষ্ট। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত ৫০ জন মহিলা আসনের সদস্য নিয়ে এই আইনসভা গঠিত হয়। বাংলাদেশের আইনসভা হলো জাতীয় সংসদ।
  • মৌলিক অধিকার : নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও তা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান।
  • জনগণের সার্বভৌমত্ব : রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা জনগণের। জনগণের পক্ষে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ক্ষমতা পরিচালনা করবে।
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা : বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকবে। ক্ষমতাসীন দল বা ব্যক্তি বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ বা বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
  • সর্বজনীন ভোটাধিকার : ১৮ বছর বয়স থেকে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার থাকবে এবং তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে।
  • নির্বাচন অনুষ্ঠান : কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • সংবিধান সংশোধন : সময়ের সাথে সংবিধানকে উপযোগী রাখতে এবং সময়ের প্রয়োজনে সংবিধানকে সংসদ সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই- তৃতীয়াংশের ভোটে সংশোধন করা যাবে।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও কাজ:

রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি সরকার। রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজ সরকারের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়। সরকারের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের তিনটি বিভাগ বা অঙ্গ রয়েছে। এগুলো হলো:

(১) আইন বিভাগ,

(২) শাসন বা নির্বাহী বিভাগ,

(৩) বিচার বিভাগ ।

আইন বিভাগ : সরকারের তিনটি বিভাগের একটি হলো আইন বিভাগ। আইন বিভাগ আইন প্রনয়ণ এবং প্রয়োজনবোধে প্রচলিত আইনের সংশোধন বা রদবদল করে থাকে। আইন বিভাগের একটি অংশ হলো আইনসভা। নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনীত সদস্যদের নিয়ে আইনসভা গঠিত হয়। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট। মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত। জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর।

আইন বিভাগের কাজ :

  • দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করা এবং আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করা ।
  • দেশের জনমতকে প্রকাশ করা।
  • সরকারের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা।
  • সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন করা।
  • রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচার বিবেচনা করা।
  • জাতীয় তহবিলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
  • জাতীয় বাজেট অনুমোদন ও কর ধার্য করা।

শাসন বিভাগ : রাষ্ট্রের শাসনকার্য তথা নিত্যদিনকার প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাষ্ট্রের সার্বিক সিদ্ধান্ত এবং সুবিধাসমূহ বাস্তবায়ন যে বিভাগ করে থাকে তাকে শাসন বিভাগ বলে। শাসন বিভাগ আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করে এবং সে অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে। সচিবালয় থেকে শাসন কাজ পরিচালিত হয়।

শাসন বিভাগের কাজ:

  • আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করা।
  • আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
  • দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
  • দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
  • বিদেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। দেশে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজ করা।

বিচার বিভাগ : যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকে তাকে বিচার বিভাগ বলে। বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত বা বিচারালয়ের বিচারকদের নিয়ে বাংলাদেশ বিচার বিভাগ গঠিত। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তর সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট এর প্রধান বিচারক কে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।

বিচার বিভাগের কাজ:

  • দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করা।
  • দেশের ক্ষতিসাধনকারী দুষ্ট ব্যক্তিকে দমন করা।
  • অপরাধীর শাস্তি বিধান করা। দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
  • দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা মোকদ্দমার মীমাংস করা।
  • রাষ্ট্রের সংবিধানের ধারা ও আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া।
  • দেশের সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করা বিভিন্ন ধরনের তদন্তমূলক কাজ করা।

স্থানীয় সরকার:

রাষ্ট্রের আয়তন বড় ও জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় কেন্দ্রে বসে সরকারের পক্ষে দেশের সকল অঞ্চলের সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব বা কর আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।

স্থানীয় সরকার কাঠামো ও কার্যাবলী:

বাংলাদেশে গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

গ্রামাঞ্চল:বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো চালু আছে।

(১) ইউনিয়ন পরিষদ (২) উপজেলা পরিষদ (৩) জেলা পরিষদ

ইউনিয়ন পরিষদ:স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক ও সর্বনিম্ন স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিচালনা পরিষদকে ইউনিয়ন পরিষদ বলা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪,৫৫৪ ইউনিয়ন পরিষদ আছে। নির্বাচিত ১ জন চেয়ারম্যান, ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে ৩ জন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ১৩ জন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের কাজ:

  • উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও উন্নয়নমূলক কাজ করা।
  • এলাকার বিচার কাজ করা।
  • সচেতনতামূলক ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য এলাকার জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রচার করা।
  • এলাকার খাজনা ও কর আদায় করা।
  • এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। এলাকায় শিক্ষাদান ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের ব্যবস্থা করা।
  • পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি সফল করার ব্যবস্থা করা।
  • জনস্বাস্থ্য রক্ষার কাজ করা। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করা।

উপজেলা পরিষদ:কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে একটি উপজেলা গঠিত হয়। উপজেলা পরিচালনা পরিষদকে উপজেলা পরিষদ বলে। ১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ১ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত সব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সকল মহিলা সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৪৯২ টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের কাজ অনেকাংশে ইউনিয়ন পরিষদের মত।

উপজেলা পরিষদের কাজ:উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও উন্নয়নমূলক কাজ করা। এলাকার বিচার কাজ করা। ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষণ করা। এলাকার খাজনা ও কর আদায় করা। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। এলাকায় শিক্ষাদান ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের ব্যবস্থা করা। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কর্মসূচিসমূহের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন করা জনস্বাস্থ্য রক্ষার কাজ করা। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করা। বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।

জেলা পরিষদ : কয়েকটি উপজেলা নিয়ে একটি জেলা গঠিত হয়। জেলা পরিচালনা পরিষদকে জেলা পরিষদ বলা হয়। ১ জন চেয়ারম্যান ও ২০ জন সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত। ২০ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন হবেন মহিলা। চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। জেলার অন্তর্গত সব মেয়র ও কমিশনার, সব উপজেলার চেয়ারম্যান, সব পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ তাদের নির্বাচিত করে।

জেলা পরিষদের কাজ:

  • রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ করা।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা।
  • আবাসিক হোস্টেল তৈরি করা।
  • লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার তৈরি করা।
  • অনাথ আশ্রম নির্মাণ করা।
  • কৃষি খামার স্থাপন করা।
  • বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং পানি সেচের ব্যবস্থা করা।
  • জেলার যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।

শহরাঞ্চল: বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে দুই ধরনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। (১) পৌরসভা (২) সিটি কর্পোরেশন

পৌরসভা:ছোট নগর বা শহরাঞ্চলকে পৌর এলাকা বলে। আর পৌর এলাকার পরিচালনা পরিষদকে পৌরসভা বলে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩২৭ টি পৌরসভা আছে। ১ জন মেয়র, প্রতি ওয়ার্ড থেকে ১ জন করে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর নিয়ে একটা পৌরসভা গঠিত হয়।

পৌরসভার কাজ:

  • বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
  • স্বাস্থ্যকর ও ভেজালমুক্ত খাদ্য বিক্রি নিশ্চিত করা।
  • শহরের পরিবেশ রক্ষার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
  • বিধি মোতাবেক ঘরবাড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা।
  • সড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
  • রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানো, পার্ক ও উদ্যান প্রতিষ্ঠা ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ সংরক্ষণ করা।
  • দুর্যোগের সময় ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা।
  • এতিমখানা পরিচালনা করা।
  • লাইব্রেরি ও ক্লাব গঠন করা।
  • ভিক্ষাবৃত্তি নিরোধ করা।
  • খেলাধুলার ব্যবস্থা করা।
  • মিলনায়তন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
  • জন্ম-মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন করা।
  • মহামারী ও সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা।
  • বিশিষ্ট অতিথিদের অভ্যর্থনা প্রদানের ব্যবস্থা করা।

সিটি কর্পোরেশন : মহানগর বা বড় শহরকে সিটি বলে। আর সিটি পরিচালনা পরিষদকে সিটি কর্পোরেশন বলে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ টি সিটি কর্পোরেশন আছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধানকে বলা হয় মেয়র। সিটি কর্পোরেশনের কাজ অনেকটা পৌরসভার মত। পার্থক্য শুধু পৌরসভা কাজ করে ছোট শহরের জন্য আর সিটি কর্পোরেশন কাজ করে বড় শহরের জন্য।

সিটি কর্পোরেশনের কাজ:
  • বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্যকর ও ভেজালমুক্ত খাদ্য বিক্রি নিশ্চিত করা।
  • শহরের পরিবেশ রক্ষার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
  • বিধি মোতাবেক ঘরবাড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা।
  • সড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
  • রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানো, পার্ক ও উদ্যান প্রতিষ্ঠা ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ সংরক্ষণ করা।
  • দুর্যোগের সময় ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা।
  • এতিমখানা পরিচালনা করা।
  • লাইব্রেরি ও ক্লাব গঠন করা।
  • ভিক্ষাবৃত্তি নিরোধ করা।
  • খেলাধুলার ব্যবস্থা করা।
  • মিলনায়তন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
  • জন্ম-মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন করা।
  • মহামারী ও সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা।
  • বিশিষ্ট অতিথিদের অভ্যর্থনা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
জাকির হোসেন,
মার্কেটিং বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party