অধ্যায়:৬,বাংলাদেশের অর্থনীতি।

JSC / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অধ্যায়:৬,বাংলাদেশের অর্থনীতি।

আলোচ্য বিষয়সমূহ:মোট দেশজ উৎপাদন, মোট জাতীয় উৎপাদন, মাথাপিছু আয়, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে বিভিন্ন খাতের অবদান, মানবসম্পদ ও মানব উন্নয়ন সূচক, রেমিট্যান্স।

যেকোনো দেশের কৃষি, শিল্প, সেবাসহ যাবতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আয় বৃদ্ধি করাঅধ্যায় :৬ষ্ঠ অধ্যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি । আয় বৃদ্ধির ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়ে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। কোনো দেশের অর্থনীতির অবস্থা জানতে হলে সে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ বা দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএনপি), ও জনগণের মাথা পিছু আয় সম্পর্কে জানা দরকার। এগুলো হলো অর্থনৈতিক মানদণ্ড বা সূচক। এই সূচক বা মানদণ্ড গুলোর সাহায্যে একটি দেশ কতটা উন্নত ও অনুন্নত তা বিচার করা হয়। এসব মানদন্ডের বিচারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে অনেক উন্নতি লাভ করেছে।

মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product :GDP):

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের অভ্যন্তরে বা ভৌগোলিক সীমানার ভিতরে বসাবাসকারী সকল দেশি বা বিদেশি নাগরিক কর্তৃক উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বলা হয়। জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বা সামর্থ বোঝার জন্য। জিডিপিতে দেশের সীমানার মধ্যে বসাবাসকারী দেশের সকল জনগণ ও বিদেশি ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে বিদেশে বসাবাসকারী দেশের কোনো নাগরিকের আয় জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। সহজভাবে বলতে গেলে শুধুমাত্র দেশের সীমানার মধ্যে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, দেশের সীমানার বাইরে কোনো উৎপাদিত দ্রব্য বা সেবার আর্থিক মূল্য জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

মোট জাতীয় উৎপাদন (Gross National Product:GNP):

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে একটি দেশের নাগরিক যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্যকে ঐ দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিএনপি বলে। জিএনপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য।দেশ এবং বিদেশে একটি দেশের নাগরিকের উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য জিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

মাথাপিছু আয় (Per Capita Income):

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়কে মাথাপিছু আয় বলা হয়৷ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত এবং অর্থনীতি তত সমৃদ্ধ।

উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য:

দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির কারনে আয় বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। আয় বৃদ্ধির কারণে জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়ে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার কারনে বেকারত্ব হ্রাস পায়। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বেকারত্ব হ্রাসের কারনে জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস পায় ৷ জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসের কারনে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর এই কারনগুলো হলো উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে বিভিন্ন খাতের অবদান:

অর্থনীতির খাত বলতে বোঝায় অর্থনীতির বিভিন্ন অংশ, বিভাগ বা শাখাকে। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের উৎস হিসেবে অনেক গুলো খাত রয়েছে। খাত গুলো হলো- কৃষি ও বনজ, মৎস্য, শিল্প, খনিজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সম্পদ, নির্মাণ শিল্প, পাইকারি ও বিপণন, হোটেল রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও যোগাযোগ, ব্যাংক বিমা, সামাজিক ব্যবসা বাণিজ্য, শুল্ক প্রভৃতি। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এককভাবে ধরলে বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদানই সর্বাধিক। তবে শিল্পের ভূমিকা ও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া সেবা খাতসমূহও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে।

মানব সম্পদ উন্নয়ন:

যারা শ্রম বা মেধা দিয়ে কাজ করে দেশের যে কোনো খাতে অবদান রাখে তাদেরকে মানব সম্পদ বলে। প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন বা মানব সম্পদে পরিনত করাই হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন। উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই একজন অদক্ষ মানুষকে মানব সম্পদে পরিণত করা যায়। তাই সকল মানুষ জ্ঞান লাভের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। জাতিকে যতবেশি শিক্ষিত করা যাবে সে জাতি তত বেশি উন্নত ও প্রতিভাবান হবে। যা একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়।

মানব উন্নয়ন সূচক:

কোনো দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান কেমন তা বোঝার জন্য কিছু সূচক প্রয়োজন যেগুলোকে মানব উন্নয়নের সূচক বলে। একটি দেশের জনগণের সাক্ষরতার হার, বেকারত্বের হার, গড় আয়ু, গড় সামাজিক অসমতা, প্রসবকালীন মৃত্যুর হার, দারিদ্র্যের হার, শিশুশ্রমের হার, দেশের জনগণের আয় ব্যয়ের হার প্রভৃতি সূচক ব্যবহার করে জানা যায় একটা দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান কেমন। মানব উন্নয়ন সূচকের মাধ্যমে একটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে জানা যায়।

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স:

বিদেশে কর্মরত দেশের নাগরিকরা দেশে অবস্থানরত তাদের পরিবার বা অন্যান্য কাজের জন্য যে অর্থ বিদেশ থেকে দেশে প্রেরণ করে তাকে রেমিট্যান্স বলে। বিদেশে বসাবাসকারী দেশের সকল নাগরিককে প্রবাসী বলা হয়। রেমিট্যান্স শুধু প্রবাসীদের পরিবারের জীবন মান বাড়াচ্ছে না। বরং অবদান রাখছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। রেমিট্যান্সের কারনে বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের জাতীয় আয়। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে একটি বড় অংশ আসছে রেমিট্যান্স থেকে। মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাতে বহু বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে।

জাকির হোসেন,
মার্কেটিং বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free 10 Days

Master Course Invest On Self Now

Subscribe & Get Your Bonus!
Your infomation will never be shared with any third party